ইঞ্জিন বিকল হয়ে নদিয়ার স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়ল দূরপাল্লার এক্সপ্রেস ট্রেন! ভোগান্তিতে কয়েকশো যাত্রী। বিশেষত, এসি কামরার যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে। জল এবং বিদ্যুৎহীন কামরায় আটকে থেকে ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার দুপুরে নদিয়ার কৃষ্ণনগর স্টেশন থেকে বহরমপুর দিকে যাওয়ার পথে ধুবুলিয়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়ে কলকাতা সাইরাং এক্সপ্রেস। প্রায় ৪৫ মিনিট পেরিয়ে যাওয়ার পরেও ট্রেন ছাড়েনি। রেলের একটি সূত্রে খবর, ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে গোলমাল। ইতিমধ্যে রেলকর্মীরা চেষ্টা শুরু করেছেন। তবে দীর্ঘ ক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকায় বিরক্ত এবং চিন্তিত দূরপাল্লার ওই ট্রেনের যাত্রীরা। রেল সূত্রে খবর, রানাঘাট স্টেশন ছাড়ার পর থেকেই ট্রেনের ইঞ্জিনে কিছু সমস্যা হচ্ছিল। কৃষ্ণনগর স্টেশনের ঠিক আগে ট্রেনটি এক বার দাঁড় করানো হয়। মিনিট দশেক পর ট্রেনটি ধীরগতিতে কৃষ্ণনগর স্টেশনে পৌঁছোয়। সেখানে রেলের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্মীরা প্রাথমিক ভাবে পরীক্ষা করেন। সবুজ সঙ্কেত মেলার পর আবার ট্রেনটি রওনা দেয়। কিন্তু মিনিট পাঁচেক যেতে না যেতেই ধুবুলিয়ার কাছে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় ইঞ্জিন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোন রেলের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্মীরা। প্রাথমিক পরীক্ষার পর তাঁরা জানান, ইঞ্জিনে ‘পাওয়ার সাপ্লাই’ জনিত বড়সড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প ইঞ্জিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিকল ইঞ্জিনটিকে কৃষ্ণনগরে ফিরিয়ে এনে ধুবুলিয়া থেকে একটি বিকল্প ইঞ্জিন ট্রেনের সঙ্গে যুক্ত করে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা করানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এসি থ্রি টিয়ার কামরার যাত্রী প্রবীর আইচ পেশায় সেনাকর্মী। তিনি বলেন, ‘‘আগামিকাল (রবিবার) বিকেল সাড়ে ৫টায় আমাদের গুয়াহাটি পৌঁছোনোর কথা ছিল। সেখান থেকে নির্দিষ্ট গাড়ি করে আমাদের পাহাড়ের ইউনিটে যোগ দেওয়ার কথা। কিন্তু যে পরিস্থিতি, তাতে মধ্যরাতেও পৌঁছতে পারব কি না সন্দেহ!’’ হাওড়ার রামরাজাতলার বাসিন্দা মঞ্জুশ্রী কারক সপরিবার দার্জিলিং ভ্রমণে যাচ্ছিলেন। ক্ষুব্ধ ওই মহিলা বলেন, ‘‘হোটেল চেক-ইন থেকে গাড়ি— সবই বুক করা। এখন পুরো ‘প্ল্যান’ ওলটপালট হয়ে গেল। শৌচাগারে জল নেই, সাফাই হচ্ছে না। মাঝেমাঝে এসি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গরমে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। রেলের কেউ এসে আমাদের কিছুই জানাচ্ছেন না।’’
পূর্ব রেলের এই এক্সপ্রেস ট্রেনটি কলকাতা থেকে মিজ়োরামের আইজল জেলার শহরের মধ্যে চলাচল করে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করেন।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এই যান্ত্রিক বিভ্রাট অপ্রত্যাশিত। দ্রুত বিকল্প ইঞ্জিনের ব্যবস্থা করে ট্রেনটিকে গন্তব্যে পাঠানোর চেষ্টা চলছে।