E-Paper

হোটেলে রাতের আগুনে ফিরল মেছুয়ার আতঙ্ক

আগুন নেভানোর কাজ করতে গিয়ে মহম্মদ জালালউদ্দিন নামে এক দমকলকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০২৫ ০৮:৪৬
শরৎ বসু রোডের এই হোটেলেই লেগেছিল আগুন।

শরৎ বসু রোডের এই হোটেলেই লেগেছিল আগুন। নিজস্ব চিত্র

এক মাসের থেকে কিছু বেশি দিন সবে পেরিয়েছে। দক্ষিণ কলকাতার শরৎ বসু রোডের একটি হোটেলে রবিবার মধ্যরাতে আগুনের আতঙ্ক ফিরিয়ে আনল মেছুয়াপট্টির স্মৃতি। দাউদাউ করে হোটেলের সর্বোচ্চ তলা থেকে বেরোচ্ছে আগুন। হোটেলের সামনের রাস্তায় লোকজনের ভিড়। দমকলের ইঞ্জিনের ঘণ্টার শব্দ। হোটেল থেকে বেরিয়ে আসা অতিথিদের আতঙ্ক আর উদ্বেগ ভরা মুখের ছবি ফিরিয়ে আনল মেছুয়াপট্টিতে এপ্রিলের শেষের এক রাত। সেই রাতে ওই হোটেলে আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছিল ১৪ জনের। সবাই ছিলেন ভিন্ রাজ্যের বাসিন্দা। তবে রবিবার রাতের অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, শরৎ বসু রোডের ওই হোটেলে একটি গুজরাতি পরিবারের অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠান শেষের খানিক পরেই চারতলার একটি ঘরে আগুন লেগে যায়। দ্রুত সেই আগুন ছড়াতে থাকে। তবে হোটেলের অধিকাংশ লোকজনই সেই সময়ে জেগে থাকায় কেউ আটকে পড়ার আগেই সবাইকে নিরাপদে বাইরে বার করে আনা সম্ভব হয়। না হলে ঘটনা অন্য রকম হতে পারত বলে মনে করছে পুলিশ।

দমকলের চারটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন ঘণ্টায় আগুন আয়ত্তে আনে। আগুন নেভানোর কাজ করতে গিয়ে মহম্মদ জালালউদ্দিন নামে এক দমকলকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শর্ট সার্কিট থেকে এই অগ্নিকাণ্ড বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে দমকল।

লালবাজার সূত্রের খবর, হোটেলের সর্বোচ্চ তলায় ৪০৩ নম্বর ঘরে রাত ১টা নাগাদ আগুন লাগে। ভোর চারটের মধ্যে দমকল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তার আগে হোটেলের অতিথিদের বার করে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মেছুয়াপট্টির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট হোটেলটির বিরুদ্ধে একাধিক আইন ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছিল। তাই রবিবার রাতে শরৎ বসু রোডের ওই হোটেলটিতে সব কিছু পুর আইন মেনে চলছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে কলকাতা পুরসভা।

প্রত্যক্ষদর্শীরাই প্রথম দেখেন, হোটেলের উপরের তলা থেকে দাউদাউ করে আগুন বেরোচ্ছে। খবর পৌঁছতেই আতঙ্কে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দেন হোটেলের কর্মীএবং অতিথিরা। ওই ভাবে আগুন বেরোতে দেখে ভয় পেয়ে যান হোটেলের আশপাশের বাসিন্দারাও। শরৎ বসু রোডের উপরে রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পরে হোটেলটি বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ।

সোমবার ওই হোটেলের সামনে গিয়ে দেখা গেল, ভিতরে ঢোকার দরজার সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীদের দাবি, এই ঘটনায় হোটেলের অতিথিদের কোনও সমস্যায় পড়তে হয়নি। আশপাশে ঘুরে দেখা গেল, হোটেলের বাইরের একটি অংশে বিপজ্জনক ভাবে তারের জঙ্গল। অবশ্য তা নিয়ে কথা বলার জন্য হোটেলের কর্তৃপক্ষ স্থানীয় কেউ ছিলেন না।

হোটেলটির পাশেই রয়েছে একটি স্কুল। সেখানে ৪০০-৪৫০ পড়ুয়া লেখাপড়া করে। গরমের ছুটির পরে সোমবারই স্কুল খুলেছে। তাদের পাশেই এমন অগ্নিকাণ্ডের কথা শুনে উদ্বিগ্ন ওই স্কুলের কর্তৃপক্ষও। ঘটনাটি দিনের বেলায় ঘটলে আরও বেশি আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হত বলে অনুমান তাঁদের।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Sarat Bose Road Fire Accident

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy