Advertisement
E-Paper

অপহরণের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য

প্রকাশ্যে এক ছাত্রীর অপহরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল সল্টলেকে। ছাত্রীর অভিযোগ ছিল, শনিবার সল্টলেকের করুণাময়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকে দুই যুবক অপহরণ করে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানেই এক জন তার শ্লীলতাহানি করেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০১৬ ০০:৩৪

প্রকাশ্যে এক ছাত্রীর অপহরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল সল্টলেকে। ছাত্রীর অভিযোগ ছিল, শনিবার সল্টলেকের করুণাময়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকে দুই যুবক অপহরণ করে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানেই এক জন তার শ্লীলতাহানি করেন। অন্য দিকে যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই যুবক পুলিশের কাছে পাল্টা দাবি করেন, ওই ছাত্রী তাঁর পরিচিত। মেয়েটি নিজেই তাঁর বাড়িতে আসে। পুলিশ অবশ্য প্রাথমিক ভাবে রাজীব নয়ান নামে ওই যুবককে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে। তবে রাত পর্যন্ত অপহরণের অভিযোগের কোনও ভিত্তি পাওয়া যায়নি বলেই জানিয়েছেন বিধাননগরের পুলিশকর্তারা।

প্রকাশ্যে অপহরণের খবর পেয়ে বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ নড়েচড়ে বসে। বিধাননগরের এডিসিপি দেবাশিস ধর নিজে ঘটনার তদন্ত শুরু করেন। এ দিন বিকেলে দেবাশিসবাবু বলেন, ‘‘ওই ছাত্রীকে যেখান থেকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে দাবি, সেই জায়গাটি অত্যন্ত জনবহুল। সেখান থেকে কাউকে অপহরণ করা কার্যত অসম্ভব।’’

পুলিশ জানায়, ই এম বাইপাসের কাছে রুবি অঞ্চলে বাড়ি সদ্য আইসিএসই পাশ করা ওই ছাত্রীর। এ দিন ওই ছাত্রী ইই ব্লকে টিউশন পড়তে করুণাময়ীতে যায়। এ দিন সন্ধ্যায় বিধাননগর পুলিশের এক কর্তা জানান, ধৃত যুবকের সঙ্গে ওই ছাত্রীর শুক্রবারই বাসে আলাপ হয় বলে তদন্তে জানা গিয়েছে। পুলিশ জানায়, ওই যুবক পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। সল্টলেকের এএইচ ব্লকের একটি বাড়িতে তিনি পেয়িং গেস্ট থাকেন। এ দিন তাঁদের দেখা করার কথা ছিল। সেই মতো করুণাময়ী থেকে রিকশায় করে ছাত্রী ওই যুবকের সঙ্গে তাঁর বাড়িতে যায়।

ওই পুলিশকর্তার কথায়, ‘‘শ্লীলতাহানির অভিযোগ নিয়ে ওই যুবককে জেরার সময়ে তাঁর কথায় বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে। সম্পূর্ণ তথ্য বার করতে তাই ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছাত্রী অভিযোগ করেছিল, ওই যুবক তার শ্লীলতাহানি করে। তার পরে সে সেখান থেকে কোনও ভাবে পালিয়ে যায়।’’ তবে কেন ওই ছাত্রী অপহরণের অভিযোগ করল, তা জানতে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেই জানান ওই পুলিশকর্তা।

ছাত্রীর বয়ান নিয়ে প্রথম থেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিল বিধাননগরের পুলিশ। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকেও ওই ছাত্রী এক-এক রকম তথ্য দেয়। কাউকে সে বলে, আন্তর্জাতিক বাস স্ট্যান্ডের পিছনের রাস্তা দিয়ে করুণাময়ী বাস স্ট্যান্ডে যাচ্ছিল সে। তখন তাকে অপহরণ করা হয়। আবার কাউকে বলেছিল, করুণাময়ী মোড়ের কাছেই তাকে অপহরণ করা হয়। ওই ছাত্রী জানায়, স্কুলগাড়ির মতো একটি গাড়িতে চেপে দু’জন এসেছিলেন। সে রাস্তায় দাঁড়িয়েছিল। অপহরণকারীরা মুখে কাপড় বেঁধেছিল। আর তার মুখেও কাপড় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। যে বাড়িটিতে শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে, সেটি তার চেনা নয় বলেই পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করে ছাত্রী। যদিও ধৃত ওই যুবক থানায় আসার সময়ে সংবাদমাধ্যমকে জানায়, ওই ছাত্রী তাঁর পরিচিত। ছাত্রী তাঁকে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছে বলে দাবি যুবকের।

বিধাননগরের এডিসিপি দেবাশিস ধর জানান, দিন কয়েক আগে সল্টলেক থেকে ফেরার সময়ে একটি ছেলে বাসে উঠে ওই ছাত্রীকে উত্যক্ত করে। ছাত্রী ক্যারাটে জানে, ফলে উত্যক্তকারী ওই যুবককে সে নিজেই মারধর করে। তার পরে আনন্দপুর থানায় ধরিয়ে দেয় যুবককে। দেবাশিসবাবুর কথায়, ‘‘ছাত্রী কথায় অসঙ্গতি ছিল। তবে আমরা বাসের ঘটনাটিও উড়িয়ে দিচ্ছিলাম না। তাই খতিয়ে দেখা হচ্ছিল, ওই যুবকের সঙ্গে সল্টলেকের বাসিন্দা ওই ইঞ্জিনিয়ারের কোনও যোগাযোগ রয়েছে কিনা।’’

mollestation kidnapping abducted
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy