E-Paper

পুলিশি রিপোর্ট না দেখেই দত্তক! ক্ষুব্ধ হাই কোর্ট

এ দিন বিচারপতির নির্দেশ, ১৮ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে এবং সে দিনই শিশুটির বিষয়ে সম্পূর্ণ নথি ও তথ্য আদালতে পেশ করতে হবে সমিতিকে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ ০৭:৫২
কলকাতা হাই কোর্ট।

কলকাতা হাই কোর্ট। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সন্তানকে ফিরে পেতে আদালতে মামলা করেছেন বাবা-মা। সেই মামলা কার্যত উপেক্ষা করে কী ভাবে ওই দম্পতির সন্তানকে দত্তক দেওয়া হল, তা নিয়ে সোমবার শিশু কল্যাণ সমিতির সভাপতিকে রীতিমতো কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। সভাপতির উদ্দেশে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ‘‘কোর্টে মামলা বিচারাধীন। এ দিকে পুলিশি তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের বিবেচনা করলেন না! মা-বাবাকে নিজেদের বক্তব্য জানানোর সুযোগও দিলেন না। কী হিসেবে দত্তক দিলেন শিশুটিকে? জন্মদাতা মা-বাবা যে অযোগ্য, সেই অনুসন্ধান রিপোর্ট কোথায়? কী তথ্যের বিবেচনা করেছেন, দেখান কোর্টকে।’’

এ দিন বিচারপতির নির্দেশ, ১৮ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে এবং সে দিনই শিশুটির বিষয়ে সম্পূর্ণ নথি ও তথ্য আদালতে পেশ করতে হবে সমিতিকে।

২০২৪ সালে নর্দমা থেকে ওই সদ্যোজাতকে উদ্ধার করা হয়েছিল। হাসপাতাল ঘুরে তার ঠাঁই হয় শিশু কল্যাণ সমিতির হোমে। পরে শিশুটিকে দত্তক দেওয়ার ঘোষণা করে সমিতি। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সন্তানকে ফিরে পেতে হাই কোর্টে মামলা করেন মা-বাবা। বর্তমানে দু’বছর বয়সি শিশুটিকে এর আগে তার মা-বাবার কাছেই ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। তবে, পরবর্তী কালে জানা যায়, শিশুটিকে দত্তক দেওয়ার চুক্তি অনুযায়ী তাকে অন্য দম্পতির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাই আগের নির্দেশ স্থগিত করে বিস্তারিত শুনানির নির্দেশ দেয় কোর্ট।

এ দিন মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে শিশু কল্যাণ সমিতির ভূমিকায় উষ্মা প্রকাশ করে সমিতির সভাপতিকে দুপুর ২টোয় কোর্টে হাজিরার নির্দেশ দেন বিচারপতি রাও। সেই মতো নির্দিষ্ট সময়ে সভাপতি হাজির হন। সমিতির আইনজীবী জানান, শিশুটিকে দত্তক দেওয়া হয়ে গিয়েছে এবং সে দত্তক নেওয়া দম্পতির কাছে আছে। দত্তকের নির্দেশকে শিশুটির জন্মদাতা বাবা-মা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। তবে, তার জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে তাঁদের। আইনজীবী আরও জানান, ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় নর্দমা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল। এই গাফিলতির জন্য জন্মদাতা বাবা-মা ওই সন্তানকে লালনপালনের যোগ্য নন।

এর পরেই ক্ষুব্ধ বিচারপতি মন্তব্য করেন, ‘‘পুলিশ রিপোর্ট দিয়ে বলেছে, মায়ের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ মেলেনি। আপনারা বলছেন, তাঁরা অভিভাবকত্বের যোগ্য নন। একটি শিশুর ভবিষ্যৎ ছেলেখেলা নয়।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Calcutta High Court Child Adoption

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy