বেশি লাভের আশায় অনলাইনে বিনিয়োগ করতে গিয়ে ফের বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লেন এক প্রবীণ। প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে সল্টলেকের বাসিন্দা ওই ব্যক্তির ৫১ লক্ষেরও বেশি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সম্প্রতি তিনি বিধাননগর পুলিশের দ্বারস্থ হলে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, বিধাননগরের বাসিন্দা ওই প্রবীণ বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগে জানিয়েছেন, গত বছর অক্টোবরের শেষে অনলাইন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ হয় তাঁর। এর পরে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন নম্বর থেকে কয়েক জন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা নিজেদের বিনিয়োগকারী বলে পরিচয় দিয়েছিল।
প্রবীণ ওই ব্যক্তি প্রথমে কয়েক হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। ক্রমশ তাঁর বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়তে থাকে। তাঁর ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে কয়েক লক্ষ টাকার ভুয়োলাভ দেখানো হয় বলে পুলিশে অভিযোগ করেন তিনি। সেই লাভকে সত্যি ভেবে নিয়ে অভিযোগকারী বিনিয়োগের অঙ্ক কয়েক লক্ষ টাকা বাড়িয়ে দেন।
এর পরে কখনও কর, কখনও মূলধনী লাভ, কখনও বিমা বা সিকিয়োরিটি ট্যাক্স, কখনও স্ট্যাম্প ডিউটি ট্যাক্সের নামে তাঁর থেকে আরও টাকা চেয়ে চাপ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ৫১ লক্ষেরও বেশি টাকা তাঁকে বিনিয়োগ করতে হয়। কিন্তু টাকা ফেরত নিতে গেলেই সমস্যা হয়। বার বার ফেরত চেয়েও তা মেলেনি। তখনই অভিযোগকারী নিশ্চিত হন যে, তিনি প্রতারিত হয়েছেন। এর পরেই তিনি ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে এবং সম্প্রতি বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
নিউ টাউনের এক বাসিন্দাও সম্প্রতি অনলাইন প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছেন বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায়। তিনি অভিযোগে জানান, সমাজমাধ্যমে একটি বিজ্ঞাপন দেখে সেখানে দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক করেন তিনি। সেই মুহূর্তেই তাঁর মোবাইল হ্যাক হয়। এর পরে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে দেড় লক্ষ টাকারও বেশি উধাও হয়ে যায় বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রের খবর, দু’টি ঘটনারই তদন্ত শুরু হয়েছে। সাইবার প্রতারণার বিষয়ে সচেতন করতে লাগাতার প্রচার চলছে। সেই কাজে আরও জোর বাড়ানো হচ্ছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)