E-Paper

ভূগর্ভে সাফাইয়ে নেমে গ্যাসে মৃত্যু তরুণের, অসুস্থ বাবা ও কাকা

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত তরুণের দেহ ময়না তদন্তে পাঠিয়ে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ মে ২০২৫ ০৭:৪২
এই সুড়ঙ্গে কাজ করতে নেমেই মৃত্যু হয় রিয়াজউদ্দিন মোল্লার। বৃহস্পতিবার, হাওড়ার ফোরশোর রোডে।

এই সুড়ঙ্গে কাজ করতে নেমেই মৃত্যু হয় রিয়াজউদ্দিন মোল্লার। বৃহস্পতিবার, হাওড়ার ফোরশোর রোডে। ছবি: দীপঙ্কর মজুমদার।

সুরক্ষার কোনও রকম বন্দোবস্ত না-করেই কেএমডিএ-র গঙ্গা অ্যাকশন প্রকল্পের পাম্প হাউসে জল বেরোনোর নর্দমার জালি পরিষ্কার করতে ১৮ বছরের তরুণকে ভূগর্ভে নামিয়েছিলেন ঠিকাকর্মী বাবা ও কাকা। ১৫-২০ ফুট গভীর ওই সুড়ঙ্গে নামার পরেই সেখানে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই তরুণ। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর কোনও সাড়াশব্দ না-পেয়ে চিন্তায় পড়েন বাবা ও কাকা। ওই তরুণকে উদ্ধার করতে একে একে তাঁরাও নেমেছিলেন সেই সুড়ঙ্গে। সেখানে বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁরাও। শেষে পুলিশ ও দমকল এসে উদ্ধার করে তিন জনকেই। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় ওই তরুণের।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার ফোরশোর রোডে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত তরুণের নাম রিয়াজউদ্দিন মোল্লা (১৮)। একটি ঠিকাদার সংস্থার হয়ে ওই পাম্প হাউসে বাবা জাকির মোল্লা ও কাকা হাবিব মোল্লার সঙ্গে কাজ করছিলেন তিনি। পুলিশ জানায়, বাবার নির্দেশেই এ দিন মাটির নীচে থাকা একটি নর্দমার জালি পরিষ্কার করতে নেমেছিলেন রিয়াজউদ্দিন। কিন্তু অনেক ক্ষণ ধরে তাঁর কোনও সাড়াশব্দ না-পেয়ে ডাকাডাকি শুরু করেন জাকির ও হাবিব। শেষে একে একে তাঁরাও ওই গভীর সুড়ঙ্গে নামেন রিয়াজউদ্দিনকে উদ্ধার করতে। কিন্তু সেখানে নেমে তাঁরাও বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

তিন জনের কেউই উপরে উঠে আসছেন না দেখে প্লান্টের অন্য কর্মীরা ছুটে আসেন। রাজা চট্টোপাধ্যায় নামে ওই প্লান্টের এক নিরাপত্তারক্ষী বলেন, ‘‘আমরা ওই সুড়ঙ্গের সামনে যেতেই একটা গোঙানির শব্দ পাই। নীচে উঁকি মেরে দেখি, জলের মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছেন জাকির আর হাবিব। রিয়াজউদ্দিনকে প্রথমে দেখতে পাইনি। ওই দৃশ্য দেখে আমরা সঙ্গে সঙ্গে দমকল ও পুলিশে খবর দিই। দমকল এসে তিন জনকেই উদ্ধার করে।’’ পুলিশ জানায়, তিন জনকে অচৈতন্য অবস্থায় হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে রিয়াজউদ্দিনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। বাকিরা সেখানেই চিকিৎসাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত তরুণের দেহ ময়না তদন্তে পাঠিয়ে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

কেএমডিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, নর্দমার দূষিত জল ওই পাম্প হাউসে এনে পরিশোধন করে গঙ্গায় ফেলার কাজ হত। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে সেই কাজ বন্ধ রয়েছে। পরিশোধনের কাজ যেখানে হত, সেই নর্দমার জালিতে জমে থাকা ময়লাই এ দিন পরিষ্কার করতে সুড়ঙ্গে নামেন রিয়াজউদ্দিন।

কিন্তু কোনও সুরক্ষার ব্যবস্থা না করেই তাঁকে ওই সুড়ঙ্গে নামানো হল কেন? এই ঘটনার দায় অবশ্য নিতে রাজি নন কেএমডিএ-র ওই প্লান্টের চিফ ইঞ্জিনিয়ার প্রান্তিক রায়। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এই প্লান্ট দীর্ঘ দিন ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। একটি বেসরকারি সংস্থাকে পিপিপি মডেলে দায়িত্বে দেওয়া আছে। তাই কেএমডিএ-র এ ক্ষেত্রে কিছু করার নেই। সুরক্ষার ব্যবস্থা না নিয়ে কেন ওই তরুণকে নীচে নামানো হয়েছিল, তা ওই সংস্থার থেকে জানতে চাওয়া হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

KMDA

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy