Advertisement
E-Paper

মধ্যরাতে ঘর দিল না হোটেল, শহরে দুর্ভোগ বিদেশিনির

ব্যবসায়িক কাজে সোমবার গভীর রাতের উড়ানে অস্ট্রেলিয়া থেকে এ শহরে এসে পৌঁছন পেশায় ফ্যাশন ডিজাইনার ওই মহিলা।

সৌরভ দত্ত

শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০১৯ ০২:৩৪
শহরে পৌঁছে রাত দু’টো নাগাদ ভবানীপুরের এক হোটেলে যান বিদেশিনি। প্রতীকী ছবি।

শহরে পৌঁছে রাত দু’টো নাগাদ ভবানীপুরের এক হোটেলে যান বিদেশিনি। প্রতীকী ছবি।

একে ভিন্‌ দেশি, তার উপরে মহিলা। ফলে বুকিং থাকলেও হোটেলে থাকতে দেওয়া যাবে না। মধ্যরাতে শহর কলকাতায় নেমে এমনই ‘আতিথেয়তা’র অভিযোগ তুললেন এক অস্ট্রেলীয় নাগরিক!

ব্যবসায়িক কাজে সোমবার গভীর রাতের উড়ানে অস্ট্রেলিয়া থেকে এ শহরে এসে পৌঁছন পেশায় ফ্যাশন ডিজাইনার ওই মহিলা। আগেই একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে হোটেল বুক করেছিলেন তিনি। সেই মতো শহরে পৌঁছে রাত দু’টো নাগাদ ভবানীপুরের সেই হোটেলে যান তিনি। কিন্তু অভিযোগ, হোটেলে যেতেই জানানো হল ঘরের চাবি দেওয়া যাবে না তাঁকে। মহিলার অভিযোগ, হোটেলের এক কর্মী জানিয়ে দেন, তিনি একে ভিন্‌ দেশি, তার উপরে একা মহিলা, তাই তাঁকে ঘর দেওয়া সম্ভব নয়। তৎক্ষণাৎ তাঁকে হোটেল চত্বর খালি করার নিদানও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

সমস্যায় পড়ে কলকাতায় তাঁর একমাত্র পরিচিত ঢাকুরিয়ার বাসিন্দা সুপর্বা শীলকে ফোনে ঘটনাটি জানান ওই বিদেশিনি। রাত তখন তিনটে। সুপর্বার কথায়, ‘‘ফোনে ওই কর্মীকে প্রথমে নিরাপত্তার দিকটি বোঝানোর চেষ্টা করি। ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলেও লাভ হয়নি।’’ সুপর্বার দাবি, হোটেল কর্তৃপক্ষ ন্যূনতম সৌজন্যটুকুও দেখাননি। শেষে ওই মহিলাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন সুপর্বা। ওই বিদেশিনি বলেন, ‘‘অত রাতে কোথায় যাব? কোনও গাড়ি নেই, কাউকে দেখা যাচ্ছে না। ওই রাতটা কাছে দুঃস্বপ্নের মতো কেটেছে। কর্মসূত্রে অনেক শহরে ঘুরেছি। এ রকম কখনও হয়নি।’’

বস্তুত, এর আগে হায়দরাবাদে একই রকম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলেন নূপুর সারস্বত নামে এক প্রবাসী ভারতীয়। নূপুরের ক্ষেত্রেও একাকী মহিলার ‘তত্ত্ব’ আওড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। যে সংস্থার তালিকায় ভবানীপুরের হোটেলটির নাম ছিল, তার গেস্ট এক্সপেরিয়েন্স ম্যানেজার সাহিল চৌহান বলেন, ‘‘ভিন্‌ দেশের নাগরিকেরা কোন হোটেলে থাকতে পারবেন, তার একটি তালিকা আছে। উনি যে হোটেল বুক করেছিলেন, সেটি তালিকায় নেই। আমাদের হেল্পলাইনে ফোন করলে সাহায্য করতে পারতাম।’’ একা মহিলা হোটেলে থাকতে পারবেন না, এমন নিয়মও আছে কি? সাহিল বলেন, ‘‘এমন নিয়ম নেই। ওই হোটেলে বিদেশিনিকে ঘর দেওয়া সম্ভব না হলেও, অন্য কোথাও ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। কী ঘটেছে, তা দেখতে হবে।’’

কিন্তু ওই হোটেলে যে কোনও বিদেশের নাগরিক থাকতে পারবেন না, তা আগে জানানো হল না কেন? সাহিল বলেন, ‘‘যে ওয়েবসা ইটের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, বিষয়টি তাদের দেখার কথা।’’ ওই ওয়েবসাইটের যে নম্বর সাহিল দিয়েছেন, তাতে যোগাযোগ করা হলে দেখা যায়, ‘নট রিচেবল’। ভবানীপুরের হোটেলের ম্যানেজার সৌগত দাস বলেন, ‘‘বুকিং যে বাতিল হয়েছে, তা জানাতে দুপুরে ফোন করেছিলাম। মেসেজও দিয়েছি। অন্য হোটেলে ব্যবস্থা করতে চাইলেও ওই মহিলা ও তাঁর বান্ধবী কথা শুনতে চাননি।’’ ওই বিদেশিনি বলেন, ‘‘রাতটা কাটানোর জন্য কোনও একটা জায়গা চেয়েছিলাম, ওঁরা সাহায্য করেননি।’’

কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, সব হোটেল বিদেশি নাগরিকদের রাখতে পারে না। বিদেশিদের রাখার ক্ষেত্রে হোটেলের যে ভাগ আছে, এটা ঠিকই। তবে এ ক্ষেত্রে ঠিক কী ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে।

Hotel Room Bhowanipore
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy