অটোয় এলপিজি-র জোগান নিয়ে টানাপড়েন চলছেই। কলকাতার প্রায় সব পাম্পেই গ্যাস ভরতে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে অটো চালকদের। গ্যাসের চাহিদা সামাল দিতে কিছু পাম্প অটো পিছু ধার্য গ্যাসের পরিমাণ বেঁধে দেওয়ার পথে হাঁটছে।
প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের উপরে সাউথ সিটি মল লাগোয়া একটি পাম্পে অটো পিছু ১০ লিটার গ্যাস বেঁধে দেওয়া হয়েছে বলে জানাচ্ছেন অটোচালকদের একাংশ। শহরের অন্যান্য পাম্পে অবশ্য ওই ভাবে গ্যাসের পরিমাণ বেঁধে দেওয়া হয়নি। তবে, কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা পেট্রোল পাম্পগুলিতে অটোর এলপিজি-র চাহিদা গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় চার গুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন পাম্প মালিকদের একাংশ। গ্যাসের জোগানে ধারাবাহিকতার সমস্যায় বেশির ভাগ অটোচালক প্রায় ট্যাঙ্ক ভর্তি করে গ্যাস কিনছেন বলেও অভিযোগ। এর ফলে গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে।
পাশাপাশি রান্নার গ্যাস বা কাটা গ্যাস ব্যবহার করে যে সব অটো চলে, তারা প্রায় সবাই পাম্পে গ্যাস পেতে লাইন দিচ্ছে বলেও জানাচ্ছেন অটোচালক সংগঠনের নেতৃত্ব। তার ফলে গ্যাসের চাহিদা আরও বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন তাঁরা।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির আগে রান্নার গ্যাস নিয়ে এই বাড়াবাড়ি ছিল না। অটোচালকদের একটা বড় অংশ তাই এলপিজি, কাটাই গ্যাস হিসেবে আনন্দপুর, খেয়াদহ, বোড়াল-সহ নানা জায়গা থেকে কিনতেন বলে সূত্রের খবর। রান্নার গ্যাসে বিউটেনের মাত্রা অনেক বেশি থাকে। যেখানে পাম্পের এলপিজি প্রতি লিটার বা কেজিতে ব্যবহার করে একটি অটোরিকশা ১৬-১৭ কিলোমিটার পথ চলে, সেখানে রান্নার গ্যাস অবৈধ ভাবে কাটা গ্যাস হিসেবে ব্যবহার করে অটো ৩৫-৩৬ কিলোমিটার চলে।তবে রান্নার গ্যাস তুলনায় কম পরিশুদ্ধ। ওই গ্যাস দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের ক্ষতি হয়। ট্যাঙ্ক থেকে ইঞ্জিনে গ্যাস পৌঁছনোর পথে যে ভেপোরাইজার থাকে, তাতে প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকারক জিনিস জমে।
বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রান্নার গ্যাসেরও জোগানে টান পড়েছে। ফলে অটোয় ব্যবহৃত কাটা গ্যাসের দাম আগের ৭০ টাকা প্রতি কেজি থেকে বেড়ে এখন ১২০ থেকে ১২৫ টাকা ছুঁয়ে ফেলেছে বলে খবর। কিন্তু তার পরেও সিলিন্ডার না মেলায় ওই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ।
তেল এবং গ্যাস বিক্রয়কারী সংস্থাগুলি রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রির ক্ষেত্রে একাধিক কড়াকড়িচালু করায় ঘুর পথে ওই সব সিলিন্ডার কাটাই গ্যাস বিক্রেতাদের কাছে এখন সে ভাবে আর পৌঁছচ্ছে না বলেই খবর। তার ফলে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের বিভিন্ন পাম্প-স্টেশনে অটোর এলপিজি ভরার ক্ষেত্রে দীর্ঘ লাইন পড়ছে।
এই সব সমস্যার মধ্যেই আবার গ্যাসের আকালের অজুহাত দেখিয়ে অটোর বেশ কিছু রুটের ভাড়া ইতিমধ্যেই বেড়ে গিয়েছে।অন্য একাধিক রুটের অটোয় নির্দিষ্ট সংখ্যার থেকে বাড়তি এক জন যাত্রী তুলে নিয়ে চালকেরা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন বলে চালক সংগঠনসূত্রের খবর।
গ্যাসের জোগান নিয়ে এই টানাপড়েনের মধ্যে সকাল এবং সন্ধ্যায় ব্যস্ত সময়ে অটো পেতে গিয়ে নাকাল হচ্ছেন যাত্রীরাও।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)