Advertisement
E-Paper

হাওড়ায় শয্যা বাড়ছে সিসিইউয়ে, নজরে বাড়িতে থাকা আক্রান্তেরা

কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা বাদ দিলে রাজ্যের অন্যান্য জেলার তু‌লনায় হাওড়ায় দৈনিক গড় মৃত্যু কমছে না।

দেবাশিস দাশ

শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২১ ০৭:৩৩

ফাইল চিত্র।

করোনায় প্রতিদিন হাওড়ায় গড়ে মৃত্যু হচ্ছে ১০-১২ জনের। সংক্রমিতের সংখ্যা মাঝেমধ্যে কমলেও কমছে না মৃত্যুর হার। এই পরিস্থিতিতে এক পক্ষকালের মধ্যে হাওড়ার সরকারি হাসপাতালগুলিতে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) শয্যা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় এটাই একমাত্র উপায়।

সেই সঙ্গে নজ‍রদারি বাড়ানো হবে তাঁদের উপরেও, যাঁরা কোভিডের উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা না করে বাড়িতে থেকে নিজেরাই অক্সিজেন নিয়ে চিকিৎসা করাচ্ছেন। কারণ, ওই সমস্ত রোগীদের যখন শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়ছে তখন শেষ মুহূর্তে তাঁরা হাসপাতালে ভর্তি হতে আসছেন, ফলে বাঁচানো যাচ্ছে না।

কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা বাদ দিলে রাজ্যের অন্যান্য জেলার তু‌লনায় হাওড়ায় দৈনিক গড় মৃত্যু কমছে না। এ নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন জেলা স্বাস্থ্য দফতর। স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন থেকে পাওয়া তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, গত ২০ দিনে হাওড়ায় কোভিডে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৫০ জনের। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে গড়ে যেখানে ৭-৮ জনের রোজ মৃত্যু হচ্ছিল, এখন তা বেড়ে হয়েছে ১০-১২ জন।

জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘‘হাওড়ায় কোভিডে মৃত্যুহার কমানোর জন্য সরকারি হাসপাতালগুলিতে সিসিইউ শয্যা বাড়ানো হচ্ছে। মৃত্যু কমাতে এটাই একমাত্র উপায়।’’ তিনি জানান, এই মুহূর্তে বালিটিকুরি ইএসআই কোভিড হাসপাতালে মাত্র ৫০টি সিসিইউ শয্যা রয়েছে। এ ছাড়া জেলার কোনও সরকারি হাসপাতালে সিসিইউ শয্যা নেই। তাই সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে বালিটিকুরিতে আরও ২৫টি, হাওড়া জেলা হাসপাতালে ২০টি, উত্তর হাওড়ার টি এল জয়সওয়ালে ১৫টি এবং উলুবেড়িয়া সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ১০টি সিসিইউ শয্যা তৈরির কাজ শেষ করা হবে। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে এই ৬৫টি সিসিইউ শয্যা হয়ে গেলে সঙ্কটজনক করোনা আক্রান্তদের উপযুক্ত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যকর্তারা।

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, অক্সিজেনের অভাবে যাতে কোনও রোগীর মৃত্যু না হয়, সে জন্য হাওড়া জেলা হাসপাতাল এবং টিএল জয়সওয়াল হাসপাতালে অক্সিজেনের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের জন্য পাইপলাইন বসানো হচ্ছে। খুব শীঘ্রই সেই কাজ শেষ হয়ে যাবে।

পাশাপাশি করোনার উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও এক শ্রেণির মানুষের পরীক্ষা না করে বাড়িতে থাকার প্রবণতায় উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল। সেই জন্য আশাকর্মী এবং পুর স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতার প্রচার চালাচ্ছেন। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, করোনা পরীক্ষা না করিয়ে বাড়িতে থাকা সম্ভাব্য সংক্রমিতেরা যখন সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে যাচ্ছেন, তখন তাঁর পরীক্ষার রিপোর্ট না থাকায় চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময়ে এই দেরি, মৃত্যুর অবধারিত কারণ হয়ে উঠছে। করোনা পরীক্ষা এবং সঙ্কটজনক সংক্রমিতদের বিশেষ চিকিৎসা— এই দু’টি বাড়ানো গেলে করোনায় মৃত্যুর হার অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন জেলার স্বাস্থ্যকর্তারা।

coronavirus
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy