প্রায় ২০০ কোটি টাকার অনলাইন লটারি প্রতারণার মামলায় এ বার এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করলেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) গোয়েন্দারা। ধৃতের নাম অভিষেক বনসল। বুধবার তাকে নিউ টাউন থেকে ধরা হয়। বৃহস্পতিবার অভিষেককে বিচার ভবনের বিশেষ সিবিআই আদালতে পেশ করা হলে ১৪ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। এই মামলায় এর আগে গ্রেফতার করা হয়েছিল অন্যতম দুই অভিযুক্তবিশাল ভরদ্বাজ এবং সোনু ঠাকুরকে। তারা এখন জেল হেফাজতে রয়েছে। বিশাল ও সোনুকে জেরা করে অভিষেকের নাম জানতে পারেন গোয়েন্দারা।
এ দিন আদালতে ইডি-র আইনজীবী বলেন, ‘‘এই প্রতারণার মামলায় বিশালের অন্যতম ঘনিষ্ঠ অভিষেক। দুবাই, নেপাল-সহ একাধিক দেশে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণার কালো টাকা সাদা করত সে। মূলত উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে অফিস খুলে প্রতারণা-চক্র চালাত অভিষেক।’’ অভিযুক্তের আইনজীবী বলেন, ‘‘অভিষেক অসুস্থ। অন্য একটি প্রতারণার মামলায় এর আগে জেল হেফাজতে ছিল। তখন বেশির ভাগ সময়েই সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।’’ পুলিশি হেফাজতে যাতে অভিষেকের অসুস্থতার বিষয়টি নজরে রাখা হয়, সেই আর্জি জানান তার আইনজীবী।
ইডি সূত্রে দাবি, মূলত দুবাই থেকে এই প্রতারণার কারবার পরিচালনা করা হত। বিশালের এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় চক্রের মূল মাথা। সে বর্তমানে দুবাইয়ে রয়েছে বলেই অনুমান ইডি-র গোয়েন্দাদের। ইডি সূত্রের খবর, নামে এবং বেনামে কয়েকশো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে বিশালকে ভাড়া দিত অভিষেক। সেই সব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতারণার কালো টাকা সাদা করার পাশাপাশি বিদেশেও পাচার করা হত। অভিষেককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে সেই টাকার হদিস পাওয়ার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রাথমিক ভাবে এই প্রতারণার মামলায় একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৫০ কোটি টাকারও বেশি বেআইনি লেনদেনের হিসাব পাওয়া গিয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)