Advertisement
E-Paper

গাড়ির ছাদে উঠে প্রাণ বিপন্ন করে একাই আগুন নেবালেন ওসি! সাহসকে কুর্নিশ মমতারও, কী ঘটেছিল খিদিরপুরে

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি খিদিরপুরের একটি স্কুলের উল্টো দিকে বিদ্যুতের খুঁটিতে আচমকা আগুন লেগে যায়। প্রাণের তোয়াক্কা না-করে আগুন নেবাতে তৎপর হন ওসি। তাঁকে কুর্নিশ জানিয়েছেন মমতা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:২৩
কলকাতা পুলিশের ওসির প্রশংসা করে পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতা পুলিশের ওসির প্রশংসা করে পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

খিদিরপুরে রাস্তার ধারে বিদ্যুতের খুঁটির আগুন একাই নিবিয়ে দিলেন ওসি। দমকলের জন্য অপেক্ষা করেননি। নিজের প্রাণ বিপন্ন করে আগুন নেবাতে তৎপর হয়েছেন। তাঁর এই সাহসকে কুর্নিশ জানিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি খিদিরপুরের একটি স্কুলের উল্টো দিকে বিদ্যুতের খুঁটিতে আচমকা আগুন লেগে যায়। সেই সময় ঘটনাস্থলে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিলেন বিদ্যাসাগর সেতু ট্রাফিক গার্ডের ওসি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। আগুন দেখে কালক্ষেপ করেননি তিনি। দ্রুত নিজের গা়ড়ি ওই বিদ্যুতের খুঁটির সামনে নিয়ে যান। তার পর নিজেই উঠে পড়েন গাড়ির ছাদে। একটি অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের সাহায্যে আগুনে জল ছেটাতে থাকেন তিনি। কিছু ক্ষণের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তাঁর এই তৎপরতার কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়নি। যদি দমকলের আসার অপেক্ষা করা হত, তবে আগুন আরও ছড়িয়ে যেতে পারত। সে ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনাও বাড়ত। মনে করা হচ্ছে, প্রসেনজিতের তৎপরতায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছে।

যেখানে আগুন লেগেছিল, তার নীচেই ছিল একাধিক দোকান। বিদ্যুতের খুঁটি থেকে আগুনের ফুলকি ছিটকে সেখানে পড়ছিল। তাই সময় নষ্ট করতে চাননি প্রসেনজিৎ। এর আগেও শহরের একাধিক অগ্নিকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা প্রশংসা পেয়েছে। ২০২২ সালে এক বার শ্যামবাজারের একটি বাড়িতে আগুন লাগলে রান্নাঘরে আটকে পড়েছিলেন এক বৃদ্ধা। প্রসেনজিৎ নিজে সেই রান্নাঘরে ঢুকেছিলেন এবং কাঁধে করে নামিয়ে এনেছিলেন বৃদ্ধাকে। ২০০৭ সালে তারাতলার এলআইসি বিল্ডিংয়ের আগুন নেবানোর কাজেও প্রসেনজিতের অবদান ছিল। করোনা অতিমারির সময় মাঝেরহাট সেতুর নীচে কলকাতার ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগে বস্তির কিছু বাচ্চাকে পড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। জনা তিরিশেক শিশু নিয়মিত পড়ত সেই ক্লাসে। তখন প্রসেনজিৎ দক্ষিণ পশ্চিম ট্রাফিক গার্ডের ওসি ছিলেন।

খিদিরপুরে তাঁর তৎপরতাকে কুর্নিশ জানিয়ে বৃহস্পতিবার একটি পোস্ট করে কলকাতা পুলিশ। কী ভাবে প্রসেনজিৎ নিজের প্রাণের তোয়াক্কা না করে আগুন নেবাচ্ছেন, তার ভি়ডিয়ো প্রকাশ করা হয়। ওসি হিসাবে নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়ে তিনি এই কাজ করেছেন। পুলিশের সেই পোস্ট শেয়ার করে প্রসেনজিতের প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লেখেন, ‘আমাদের সাহসী ইনস্পেক্টর বিদ্যাসাগর সেতু ট্রাফিক গার্ডের ওসি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে শুভেচ্ছা জানাই। বড় দুর্ঘটনা এড়াতে তিনি অসাধারণ কাজ করেছেন। তাঁর মতো নায়ক প্রত্যেক সমাজে দরকার। এই অফিসারের সাহস এবং তৎপরতার বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। আমি গর্বের সঙ্গে তা শেয়ার করছি।’

বৃহস্পতিবার ডায়মন্ড হারবার রোডেও পুলিশের সাহায্য পেয়েছেন এক প্রসূতি। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে গাড়ি খারাপ হয়ে গিয়েছিল। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকেরা তাঁর সুরক্ষা নিশ্চিত করেছেন।

Kolkata Police Traffic Guard Mamata Banerjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy