কলকাতা শহরে রাতের নিরাপত্তায় জোর দিচ্ছে পুলিশ। চলছে নাকা তল্লাশি। সেই প্রক্রিয়া ঘুরে ঘুরে দেখছেন পুলিশ কমিশনার (সিপি) সুপ্রতিম সরকার নিজে। বৃহস্পতিবার রাতে ধর্মতলার মোড়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। জানিয়েছেন, মাঝেমধ্যেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে এই ধরনের ‘সারপ্রাইজ় ভিজিট’-এর পরিকল্পনা করা হয়েছে। একসঙ্গে অনেক পুলিশ রাস্তায় থাকছেন।
সুপ্রতিম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার শহরের ১০টি ডিভিশনের ১০৯টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার সংযোগস্থলে নাকা তল্লাশি চলছে। তবে এটা বিশেষ কোনও উদ্যোগ নয়। একে ‘রুটিন পুলিশিং’ বলে উল্লেখ করেছেন সিপি। এর পাশাপাশি চালু করা হয়েছে ‘অন রুট পুলিশিং’ বা ওআরপি। সুপ্রতিম জানান, শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওআরপি পুলিশের নতুন উদ্যোগ। এর মাধ্যমে সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে ওসি, ডিসি এবং এসি পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিকেরা একসঙ্গে নামছেন। রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি, পুলিশের কাজ খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। এ ছাড়া, সপ্তাহে এক বা দু’দিন ‘সারপ্রাইজ় ভিজ়িট’ হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার ধর্মতলা থেকে তল্লাশি প্রসঙ্গে সিপি বলেন, ‘‘রোজ যেমন হয়, তেমনই হচ্ছে। এটা রুটিন পুলিশিং। তবে নিয়মিত টহলদারির পাশাপাশি আমরা অন রুট পুলিশিং চালু করেছি। সেটা রুটিনের বাইরে। একসঙ্গে অনেক পুলিশ রাস্তায় থাকছে, যাতে মানুষ ভরসা পান। এটা চলবে।’’
সকালে কলকাতার পাসপোর্ট অফিসে হুমকি ইমেল থেকে বোমাতঙ্ক ছড়িয়েছিল। তার আগে মঙ্গলবার শহরের নগরদায়রা আদালতেও একই ঘটনা ঘটে। পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে সুপ্রতিম বলেন, ‘‘কোথাও হুমকি মেল এলে আমাদের কিছু নিয়ম মানতে হয়। এসওপি মেনে কাজ করতে হয়। সেই মতো বম্ব স্কোয়াড গিয়েছিল। কিন্তু কিছু পাওয়া যায়নি। সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা বস্তু কিছুই পাওয়া যায়নি। কে বা কারা এটা করেছে, সেটা দেখছি। এসটিএফ এই তদন্তের ভার নিয়েছে। ফলে বিস্তারিত বলতে পারছি না। তদন্ত চলছে।’’
সিপি চলে যাওয়ার পরেই ধর্মতলার মোড়ের কাছে একটি ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। একটি গাড়িতে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায় বাইক। সেই বাইকের চালককে উদ্ধার করে পুলিশ রাস্তার ধারে সরিয়ে আনে। তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।