E-Paper

বয়স কম বলেই সব দোষে ছাড় নয়: কোর্ট

কোর্টের খবর, শিক্ষামূলক ভ্রমণে গিয়ে স্কুলেরই নবম শ্রেণির এক ছাত্রকে হেনস্থার অভিযোগ ওঠে একাদশ শ্রেণির তিন ছাত্রের বিরুদ্ধে। তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় স্কুল। ছাত্রদের ওই আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে অভিভাবকদেরও কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:০০
কলকাতা হাই কোর্ট।

কলকাতা হাই কোর্ট। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

শহরের এক বেসরকারি স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রের আচরণে উদ্বেগ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালতে এসে বিচারপতির প্রশ্নের মুখেও পড়লেন তার বাবা-মা। নিচু ক্লাসের এক পড়ুয়াকে হেনস্থার জন্য ওই ছাত্রকে বহিষ্কার করেছে স্কুল। তার বিরুদ্ধে বাবা-মা মামলা করেছেন। শুক্রবার তার শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিংহের পর্যবেক্ষণ, ‘‘অহেতুক কেন ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করবে স্কুল? নিশ্চয়ই উপযুক্ত কারণ আছে। বয়স কম বলেই সব দোষের ছাড় দেওয়া যায় না। অনেক সময়ই শৃঙ্খলা ও আচরণ সংশোধনে পদক্ষেপ করা প্রয়োজন।’’ বিচারপতির মন্তব্য, ‘‘আমাদের সময়ে শিক্ষকেরা কড়া পদক্ষেপ করলেও অভিভাবকরা প্রশ্ন করতেন না। এখন স্কুল নিজস্ব নিয়ম ও আচরণ বিধি মেনে পদক্ষেপ করেছে। তারপরেও স্কুলকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে!’’

কোর্টের খবর, শিক্ষামূলক ভ্রমণে গিয়ে স্কুলেরই নবম শ্রেণির এক ছাত্রকে হেনস্থার অভিযোগ ওঠে একাদশ শ্রেণির তিন ছাত্রের বিরুদ্ধে। তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় স্কুল। ছাত্রদের ওই আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে অভিভাবকদেরও কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। বহিষ্কারের নির্দেশের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ চেয়ে এবং ছাত্রটিকে স্কুলে ক্লাস করার আর্জি জানিয়ে কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্ত এক ছাত্রের বাবা-মা।

স্কুলের আইনজীবীর দাবি, বেড়াতে গিয়ে যে হোটেলে ওই ছাত্রেরা ছিল তার সিসি ক্যামেরার ছবি, উপস্থিত অন্য ছাত্রদের বক্তব্য শুনে এবং স্কুলের আচরণ বিধি মেনেই তিন ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার মধ্যে দু’জনের অভিভাবকেরা সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। যদিও মামলাকারী অভি‌ভাবকদের আইনজীবীর অভিযোগ, অভিযুক্ত ছাত্রের বক্তব্য না শুনেই একপেশে সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কুল।

সব পক্ষের বক্তব্য শুনে এ দিন কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেননি বিচারপতি। তাঁর নির্দেশ, কারণ দর্শানোর নোটিস অনুযায়ী ওই ছাত্রের বাবা-মায়ের বক্তব্য শুনবে স্কুল। ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সিসি ক্যামেরা তথ্য এবং উপস্থিত ছাত্রদের বক্তব্যের বিস্তারিত তথ্য-ও আদালতে জমা দেবে স্কুল। পরবর্তী শুনানি ২৩ ফেব্রুয়ারি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Calcutta High Court child punishment

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy