এক বিজেপি নেতার বাড়ির গ্যারাজের একাংশ ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের স্থানীয় পুরপ্রতিনিধি ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে। বুধবার রাতে বড়তলা থানা এলাকার বিডন স্ট্রিটে এই ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। সুনীল সিংহ নামে ওই বিজেপি নেতার অভিযোগ, তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিতেই তাঁর গ্যারাজের একাংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বিজেপিতে থেকে কোনও নির্মাণকাজ করা যাবে না। সুনীল বলেন, ‘‘আমি স্থানীয় থানায় অভিযোগ করার পাশাপাশি বিষয়টি রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসকেও জানিয়েছি। তিনি ঘটনাটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।’’ যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল পুরপ্রতিনিধি তারক চট্টোপাধ্যায়।
উল্লেখ্য, গত মাসেও তারকের বিরুদ্ধে সুনীল অভিযোগ করেছিলেন যে, তাঁর দোকানের একাংশ ও গ্যারাজ বুলডোজ়ার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তখন পুরসভার তরফে জানানো হয়, যে অংশটি ভাঙা হয়েছে, সেটি পুরোপুরি বেআইনি ভাবে তৈরি করা হয়েছিল।
বুধবার রাতের ঘটনা প্রসঙ্গে সুনীল বলেন, ‘‘আমার বাড়ির গ্যারাজ থেকে গাড়ি বার করার যে ঢাল, বুধবার রাতে কাউন্সিলর ও তাঁর দলের লোকজন এসে সেটি ভেঙে দেন। সেই সঙ্গে হুমকি দিয়ে বলা হয়, আমি বিজেপিতে থাকলে কোনও নির্মাণকাজ করতে পারব না।’’ ওই বিজেপি নেতার অভিযোগ, যে ভাবে ঢালটি ভাঙা হয়েছে, তাতে তিনি গাড়ি বার করতে পারছেন না। এ দিকে, তাঁর বাড়িতে রয়েছেন অসুস্থ, বৃদ্ধ বাবা। তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে গাড়ি বার করার দরকার হচ্ছে। সুনীল জানান, পুরপ্রতিনিধির লোকজন এসে যে ভাবে হুমকি দিয়ে গিয়েছেন, তাতে তাঁর পরিবারের সদস্যেরা আতঙ্কে আছেন। তিনি বলেন, ‘‘অগস্ট মাসের ঘটনার পরে আমি মেয়রের সঙ্গে কথা বলে নির্মাণকাজ শুরু করি। যে অংশে গ্যারাজের ঢালটি করেছি, সেই জায়গাটি বেআইনি নয়।’’
যদিও স্থানীয় পুরপ্রতিনিধি তারক চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘সব অভিযোগ মিথ্যা। ওই বিজেপি নেতাকে হুমকি দেওয়া হয়নি। যে অংশটি ভাঙা হয়েছে, সেটি পুরোপুরি বেআইনি। আমিও পুরসভায় ৩৬ বছর চাকরি করেছি। পুর আইন সম্পর্কে আমার ধারণা আছে। একটা বেআইনি কাজকে আইনি হিসেবে দেখাতে ওই নেতা নাটক করছেন।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)