কলকাতা পুলিশের এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তি তাঁর পাঁচ বছরের মেয়েকে যৌন হেনস্থা করার অভিযোগ জানালেন। মেয়ের প্রাণনাশেরও আশঙ্কা করছেন তিনি। এ নিয়ে কলকাতার নগরপাল, দক্ষিণ-পশ্চিম ডিভিশনের উপ-নগরপালের দফতরে ইমেল করে অভিযোগ জানিয়েছেন দক্ষিণ শহরতলির বাসিন্দা ওই যুবক।
জানা গিয়েছে, স্ত্রীর সঙ্গে ওই যুবকের বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে। নাবালিকা মেয়ে সপ্তাহের কয়েক দিন তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে একটি ফ্ল্যাটে থাকে। বাকি দিনগুলি মেয়েটি থাকে তাঁর সঙ্গে, দক্ষিণ শহরতলিতে। যে সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে ওই যুবক অভিযোগ করেছেন, তিনি তাঁর স্ত্রীর পরিচিত। তাঁর মেয়ে ওই ব্যক্তিকে ‘পুলিশ-বন্ধু’ বলে ডাকে। ওই সিভিক ভলান্টিয়ার রিজেন্ট পার্ক ট্র্যাফিক গার্ডে কর্মরত।
লিখিত অভিযোগে যুবকটি জানিয়েছেন, গত ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি তাঁর মেয়েকে দক্ষিণ শহরতলির বাড়িতে নিয়ে আসেন। রাতে মেয়ের সঙ্গে গল্প করার সময়ে হঠাৎই যৌন হেনস্থার বিষয়টি বুঝতে পারেন। তিনি অভিযোগপত্রে লিখেছেন, ওই দিন তাঁর স্ত্রী এবং সিভিক ভলান্টিয়ারের সঙ্গে মেয়ে বাইরে বেরিয়েছিল। সঙ্গে ছিল সিভিক ভলান্টিয়ারের আট বছরের মেয়েও। সকলে একটি পার্কে বেড়াতে যান। পাঁচ বছরের ওই নাবালিকার দাবি, বেড়ানোর সময়েই ওই সিভিক ভলান্টিয়ার তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। মেয়েটি বাবাকে জানিয়েছে, তাকে জোরে চেপে ধরায় সে ‘ব্যথা লাগছে’ বলে বারণ করলেও শোনেননি ওই ব্যক্তি। ওই যুবকের আরও অভিযোগ, তাঁর মেয়ে জানিয়েছে, এর আগেও একাধিক বার এমন আচরণ তার সঙ্গে করেছেন ওই ব্যক্তি। নাবালিকার অভিযোগ, তাকে স্কুটারে বা বাইকে বসিয়ে খুব জোরে চালান ‘পুলিশ-বন্ধু’। সে ভয় পেলেও গতি কমানো হয় না।
শুক্রবার রাতেই ওই যুবক স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানাতে যান। তবে সেই থানার তরফে তাঁকে জানানো হয়, বিষয়টি নেতাজিনগর থানার আওতায় পড়ে। তাই সেখানেই তাঁকে সব জানাতে হবে। এ কথা কাগজে লিখিয়ে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানার তরফে স্ট্যাম্পও দিয়ে দেওয়া হয়। রবিবার গভীর রাতে নেতাজিনগর থানার পাশাপাশি লালবাজারের পুলিশকর্তাদেরও ইমেল পাঠান ওই যুবক।
সোমবার গভীর রাতে ওই যুবককে নেতাজিনগর থানায় ডেকে অভিযোগপত্র নেওয়া হয়। মঙ্গলবার থানা থেকে মহিলা পুলিশকর্মী ও চাইল্ড লাইনের প্রতিনিধি বাড়িতে গিয়ে তাঁর মেয়ের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশ সূত্রের খবর, তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এ দিন অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)