E-Paper

আদিগঙ্গা সংস্কারে এক দশকেও অধরা নাব্যতা, নকশা-জটে ৮১৭ কোটির কাজ

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, আদিগঙ্গার পুনরুজ্জীবনের জন্য প্রাথমিক ভাবে ৯৩৪.৭৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪৪
আদিগঙ্গার পুনরুজ্জীবন প্রকল্প।

আদিগঙ্গার পুনরুজ্জীবন প্রকল্প। ফাইল চিত্র।

আদিগঙ্গার পুনরুজ্জীবনে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা ও হাইড্রলিক ডিজাইনের কাজ বর্তমানে জোরকদমে শুরু হয়েছে। তার উপরে ভিত্তি করেই পরবর্তী পর্যায়ে নিকাশি নেটওয়ার্ক (সুয়ারেজ নেটওয়ার্ক) এবং পাম্পিং স্টেশন তৈরি করা হবে। নিকাশি নালা থেকে আসা জল সরাসরি গঙ্গায় না ফেলে তা নিকাশি পরিশোধন প্লান্টের (সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বা এসটিপি) মাধ্যমে পরিষ্কার করে তবেই নদীতে ছাড়া হবে। কলকাতা পুরসভা সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে।

পুরকর্তাদের একাংশের বক্তব্য, কেবল ভাসা ভাসা সংস্কার নয়, বরং বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে নদীর নাব্যতা ফেরাতে এবং জল শোধন করতে কয়েকশো কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে পুরসভা। তবে এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যয়বহুল অংশটি হল দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও জল শোধন।

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, আদিগঙ্গার পুনরুজ্জীবনের জন্য প্রাথমিক ভাবে ৯৩৪.৭৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী কালে সেই খরচ সংশোধিত হয়ে ৮১৭.৩০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ‘ন্যাশনাল মিশন ফর ক্লিন গঙ্গা’ বা এনএমসিজি এই বিপুল বাজেটে ইতিপূর্বেই সিলমোহর দিয়েছে। প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ রয়েছে।

​তবে প্রশাসনিক এই তৎপরতার খতিয়ান নিয়ে জনমানসে এবং পরিবেশ মহলে কিছু মৌলিক প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে। জাতীয় পরিবেশ আদালতের মূল মামলাটির দিকে তাকালে দেখা যায়, এটি ২০১৫ সালের। আজ প্রায় এক দশক অতিক্রান্ত হওয়ার পরে কলকাতা পুরসভা যখন জানাচ্ছে নিকাশি ব্যবস্থার নকশা তৈরির কাজ চলছে, তখন সেই দেরির দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আদালতের কড়া নির্দেশের পরে কেন প্রকল্পের মূল কাঠামো অর্থাৎ, সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট তৈরির কাজে হাত দিতে এত দীর্ঘ সময় লাগল, তার কোনও সদুত্তর মেলেনি। ৮১৭ কোটি টাকার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ যখন বর্তমানে শুধু মাটি পরীক্ষা ও নকশা তৈরির প্রাথমিক স্তরে দাঁড়িয়ে, তখন তিন বছরের সময়সীমা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়েও বিশেষজ্ঞ মহলে সংশয় রয়েছে।

​পুরসভার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতিপূর্বে তিনটি পর্যায়ে পলি তোলার কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু পরিবেশ আদালত পূর্ববর্তী একাধিক শুনানিতে পলি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নিকাশি নালাগুলি দিয়ে যে পলি ও আবর্জনা প্রতিনিয়ত নদীতে পড়ছে, তা বন্ধ করার জন্য কোনও আধুনিক পরিকাঠামো এখনও দৃশ্যমান নয়। ফলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে যে ড্রেজ়িং হয়েছে, তার সুফল দীর্ঘমেয়াদি হওয়া নিয়ে বিতর্ক রয়েই যায়। বিশেষ করে খিদিরপুর দইঘাট থেকে ঢালাই ব্রিজ পর্যন্ত যে তারের জালের বেড়া দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তার রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশাসনের নথিতে কোনও সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নেই। আরও একটি লক্ষণীয় বিষয় হল, প্রকল্পের বাজেটে কাটছাঁট। ৯৩৪ কোটি টাকার প্রকল্প কমিয়ে ৮১৭ কোটি টাকা করার ফলে কাজের কোনও গুণগত মান হ্রাস পেয়েছে কিনা, সেই অস্পষ্টতা প্রশাসনের তথ্যে থেকে গিয়েছে।

এনএমসিজি-র নির্দেশিকা অনুযায়ী, নদীর জলের দূষণ কমানোর যে মানদণ্ড রয়েছে, বর্তমানের এই ধীর গতির প্রকল্প সেই লক্ষ্যে কত দিনে পৌঁছবে, তা এখনও অনিশ্চিত। মামলার আবেদনকারী সুভাষ দত্ত বলছেন, ‘‘আদালতের চাপে কাজের নির্দেশ দেওয়া হলেও, প্রকৃত নির্মাণকাজ শুরু হতে দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিক পথ পেরোতে হবে। ফলে ১০ বছর আগের একটি মামলা আজও কেবল কারিগরি স্তরেই আটকে রয়েছে, যা নদী সংস্কারের সদিচ্ছাকেই কাঠগড়ায় তুলছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Adi Ganga

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy