অভিনেতা, পরিচালক বা প্রযোজক— সমাজমাধ্যমে তাঁদের হেনস্থার ঘটনা প্রতিনিয়ত শোনা যায়। একই অভিযোগে শুক্রবার কলকাতা পুলিশের অপরাধদমন শাখার দ্বারস্থ অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। ২০২৬-এর শুরুতেই সমাজমাধ্যমে শিল্পীদের হেনস্থা নিয়ে তৎকালীন নগরপালের কাছে গিয়েছিলেন স্ক্রিনিং কমিটির সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত, ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। এঁদের সঙ্গে ছিলেন শ্রীকান্ত মোহতা, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, আবীর চট্টোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়–সহ আরও অনেকে।
মাসখানেকের মধ্যেই টলিপাড়ার প্রথম সারির অভিনেত্রী সেই একই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন। এই পরিস্থিতিতে কী বক্তব্য ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ, ইম্পা সভাপতি পিয়া-সহ অন্যদের? শুধু শ্রাবন্তী নন, দফায় দফায় এই একই অভিযোগ করেছেন অনেকে। পরিচালক তথা প্রযোজক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ও একই কারণে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। অভিনেত্রী তথা বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও চেহারার গড়ন নিয়ে অনবরত নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে হয়।
শ্রাবন্তীর ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরে, স্বরূপ জানালেন তিনি নায়িকার সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে যোগাযোগ করবেন। তিনি বলেন, “শুধু নায়িকা বা নায়ক নন, পরিচালকদেরও এমন নেতিবাচক মন্তব্যের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরেই এমন অনেকে রয়েছেন, যাঁরা এ সবের নেপথ্যে। অবশ্যই কঠিন পদক্ষেপ করা দরকার। বছরের শুরুতে আমরা নগরপালের কাছে গিয়েছিলাম। তথ্যপ্রমাণ-সহ অভিযোগ জমা দিয়েছিলাম। এ বার এই বিষয় নিয়ে আরও ভাবা দরকার। ” এই পরিস্থিতিতে শ্রাবন্তীর কোনও প্রয়োজনে সাহায্য করতে প্রস্তুত ফেডারেশন, জানিয়েছেন স্বরূপ।
একই মত পিয়ারও। কঠোর পদক্ষেপ করার কথা জানিয়েছেন তিনি। ইম্পা সভাপতি পিয়া বলেন, “সমাজমাধ্যমে কী লেখা যাবে আর কী লেখা যাবে না, তার একটা বাছাই হওয়ার জায়গা থাকা উচিত। একই ঘটনা নিয়ে আমরা অভিযোগও জানিয়েছিলাম। আমাদের বলা হয়েছিল তদন্ত করা হবে। তার পরে আর এই বিষয়ে কথা হয়নি। কিন্তু আবার শ্রাবন্তীর এই ঘটনা শোনার পরে মনে হচ্ছে, সত্যিই কঠিন পদক্ষেপ করা দরকার। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে এই ঘটনা বাড়বে বই কমবে না।”
আরও পড়ুন:
সমাজমাধ্যমে সমালোচনা, কুমন্তব্য, হেনস্থার ঘটনা ঘটলে যেন অবশ্যই প্রশাসনকে জানানো হয়। যিনি সমস্যায় পড়ছেন, তাঁরা ব্যক্তিগত ভাবে অবশ্যই প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে পারেন— বছরের শুরুতে স্বরূপ, পিয়া, পরমব্রতদের এ কথাই জানানো হয়েছিল সেই বৈঠকে। পরমব্রত বললেন, “অভিযোগ জানিয়ে শ্রাবন্তী ঠিক করেছে। মানুষকে তো বুঝতে হবে। সমাজমাধ্যমে ভালর সঙ্গে খারাপ জিনিসও আছে। নেতিবাচকতাই বেশি দেখা যায়। অধিকাংশ সময়েই আমরা এড়িয়ে যাই। কিন্তু কোনও কিছু মাত্রাতিরিক্ত হয়ে গেলে, তখন তো অভিযোগ জানাতেই হবে। মানুষ কী বলবেন, সেটা তাঁদের ব্যাপার। গণতান্ত্রিক অধিকার তাঁরা প্রয়োগ করছেন সমাজমাধ্যমে। আবার কারও যদি মনে হয় সেই গণতান্ত্রিক অধিকারের ফলে কারও ক্ষতি হচ্ছে, তা হলে অবশ্যই আইনের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।”
একই মত প্রযোজক রানা সরকারেরও। তিনি জানিয়েছেন, হাতে মোবাইল ফোন আছে মানেই যা খুশি লিখে ফেলা যায়, এটা ঠিক নয়। অবশ্যই কঠিন পদক্ষেপ করা উচিত। তিনি বলেন, “শিল্পীদের আক্রমণ করা সহজ। সত্যিই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে মনে হয় আমার।” উল্লেখ্য, নির্দিষ্ট একটি চরিত্রের প্রস্তুতির জন্যই বেশ খানিকটা ওজন বাড়াতে হয়েছে শ্রাবন্তীকে। সম্প্রতি, নায়িকার একটি নাচের অনুষ্ঠানের ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পরে সমালোচনায় জর্জরিত নায়িকা। নেতিবাচক মন্তব্য সহ্য করতে না পেরে অভিযোগ জানাতে বাধ্য হয়েছেন তিনি, দাবি অভিনেত্রীর।