তারাতলা বিপর্যয়ের পর নিরাপত্তার স্বার্থে কলকাতা পুরসভা এলাকার সমস্ত ধরনের নির্মাণকাজ সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে গঠন করা হয়েছিল উচ্চস্তরের (হাই পাওয়ার) কমিটি। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ বার ধাপে ধাপে নির্মাণকাজ শুরু করার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা পুরসভা। শুক্রবার কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে এই সংক্রান্ত একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছেন।
সেই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, গত ২৪ জুন জারি হওয়া নির্দেশিকার আংশিক সংশোধন করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নগর উন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দফতরের প্রধান সচিবের বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে মুখ্যসচিবের আদেশে গঠিত উচ্চস্তরের কমিটির কাছ থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি)’ বা ‘গো অ্যাহেড সার্টিফিকেট’ প্রাপ্ত নির্মাণস্থলগুলি ফের কাজ শুরু করতে পারবে।
তবে এই অনুমতি আপাতত কলকাতা পুরসভার ১ থেকে ১৬ নম্বর বরোর আওতাধীন নির্মাণ প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। সংশ্লিষ্ট নির্মাণ প্রকল্পের আবেদনকারীকে কমিশনারের কার্যালয়ের মাধ্যমে ইমেল অথবা হাতে হাতে নোটিস দিয়ে এই অনুমতির বিষয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু হাই পাওয়ার কমিটির ছাড়পত্র পেলেই কাজ শুরু করা যাবে না। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট নির্মাণস্থল পুরসভার অডিট বিভাগের প্রতিনিধিরা পরিদর্শনের পর সব কিছু নিরাপদ এবং সন্তোষজনক বলে মনে হলে নির্মাণকারী সংস্থাকে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। সেই আবেদনপত্র গ্রহণের পরই নির্মাণকাজ ফের শুরু করার চূড়ান্ত অনুমতি দেওয়া হবে। অর্থাৎ, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখেই ধাপে ধাপে নির্মাণকাজ চালু করার পথে হাঁটছে পুরসভা।
নতুন নির্দেশিকায় আরও জানানো হয়েছে, নগর উন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দফতরের ২৬ জুন বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি নির্দিষ্ট ধরনের কার্যকলাপ ও নির্মাণকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট কিছু কাজের ক্ষেত্রে পূর্বের নিষেধাজ্ঞা আর প্রযোজ্য হবে না। কোন কোন কাজ এই ছাড়ের আওতায় থাকবে, তার বিস্তারিত পৃথক ভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানানো হবে।
তারাতলা বিপর্যয়ের পর শহরের নির্মাণ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার পরই রাজ্য সরকার ও কলকাতা পুরসভা যৌথ ভাবে নির্মাণস্থলগুলির নিরাপত্তা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেয় এবং উচ্চস্তরের কমিটি গঠন করা হয়। নতুন নির্দেশিকার মাধ্যমে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া কোনও নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে না। পুরসভার আশা, এই নতুন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেমন নির্মাণকাজ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে, তেমন ভবিষ্যতে নির্মাণ সংক্রান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।
তারাতলার ঘটনার পর বিধানসভায় নিজের বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “চার সপ্তাহ কলকাতা পুরসভা, রাজারহাট নিউটাউন, মহেশতলা, বজবজ, পূজালি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর গ্রামীণ এলাকা, সোনারপুর, বারুইপুর পুর এলাকায় সব নির্মীয়মাণ কাজ জরুরি পরিষেবা ছাড়া বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” কিন্তু এ বার শর্তসাপেক্ষে কলকাতা পুরসভার নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে ছাড়পত্র দেওয়া হল।