আবার পুলিশের জালে কলকাতার আনন্দপুর থানা এলাকার গুলশন কলোনির মহম্মদ ফিরোজ় খান ওরফে ‘মিনি ফিরোজ’। শুধু তিনি একা নন, তাঁর সঙ্গী মহম্মদ সাজিদকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের গুন্ডা দমন শাখা। ফিরোজ়ের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার সূত্র ধরেই এই গ্রেফতারি। তবে শুধু অস্ত্র আইন নয়, বিভিন্ন ধারায় আরও ৩৭টি মামলা রুজু হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২৩ জুন ফিরোজ় এবং সাজিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল তপসিয়া থানায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সেই সূত্র ধরে শনিবার ডানকুনির টোল প্লাজ়া থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। গাড়ি করে অন্যত্র যাওয়ার সময়ই ধরা হয় দুই অভিযুক্তকে।
গত বছর সেপ্টেম্বরে গুলশন কলোনিতে অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল। গত ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ওই এলাকায় বন্দুক নিয়ে তাণ্ডব চালায় কয়েক জন দুষ্কৃতী। সেই অশান্তির ঘটনায় নাম জড়ায় ফিরোজ়ের। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কয়েক জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলেও ফিরোজ়ের নাগাল পাচ্ছিল না পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়ালেও সমাজমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন ফিরোজ। মাঝেমধ্যে ভিডিয়ো আপলোডও করছিলেন। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে গোপন সূত্রে পুলিশ খবর পায়, ফিরোজ় এলাকা ছেড়ে দিল্লিতে পালিয়ে গিয়েছেন। সেই সূত্র ধরে কলকাতা পুলিশের একটি দল দিল্লিতে হানা দেয়। সেই সূত্র ধরে দিল্লি থেকে ফিরোজ়কে গ্রেফতার করা হয়। ওই সময় গ্রেফতার হয়েছিলেন সাজিদও।
বেশ কয়েক দিন হেফাজতে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান ফিরোজ় এবং সাজিদ। তবে আবার তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয় থানায়। সেই মামলায় গ্রেফতার আবার গ্রেফতার হলেন ফিরোজ়েরা।
আরও পড়ুন:
কলকাতায় একের পর এক অপরাধের ঘটনায় বার বার জড়িয়েছে গুলশন কলোনির নাম। ঘন জনবসতি এবং ঘিঞ্জি ওই এলাকায় দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য নিয়ে লালবাজারের উদ্বেগ বরাবর। কখনও ভরসন্ধ্যায় যুবককে রাস্তায় ফেলে কুপিয়ে খুন করা হচ্ছে, কখনও আবার দুই গোষ্ঠীর বিবাদে প্রকাশ্যেই বোমা-গুলির বৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই গুলশন কলোনির বাসিন্দা ফিরোজ়ের নাম বার বার কোনও না কোনও অশান্তির ঘটনায় জড়িয়েছে। এমনকি, ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের সঙ্গে তাঁর ‘অদৃশ্য’ বিবাদের অভিযোগও রয়েছে। নিজের বাড়ির সামনে সুশান্তকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছিল। যদিও গুলি লাগেনি ওই তৃণমূল নেতার গায়ে। সেই গুলিকাণ্ডেও ফিরোজ়ের নাম জড়িয়েছিল।