সোমবার ঘোষণা হল বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ রাজ্য বাজেট। কিন্তু তাঁদের প্রাপ্তির ঝুলি শূন্য। বাড়েনি বেতন। ফলে হতাশ কলকাতা পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা। অথচ পরিসংখ্যান বলছে, এঁরাই পুরসভার সিংহভাগ। অর্থাৎ, যাঁদের কাঁধে ভর দিয়ে সচল থাকে পুর পরিষেবা, বঞ্চিত তাঁরাই। কলকাতা পুরসভায় সব মিলিয়ে প্রায় ৩৮ হাজার কর্মী কাজ করেন। এঁদের মধ্যে ১৬ হাজার কর্মী স্থায়ী। অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা ২২ হাজার!
বাজেটে বেড়েছে রাজ্য পরিবহণ নিগমের চুক্তিভিত্তিক কন্ডাক্টর ও সংস্থা মারফত নিযুক্ত কন্ডাক্টরদের পারিশ্রমিক। কিন্তু অন্যান্য সরকারি সংস্থা-সহ কলকাতা পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের ক্ষেত্রে বাজেটে নেই কোনও দিশা। এমনটাই দাবি তাঁদের।
পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের কেউ কেউ সংস্থা মারফত, কেউ বা সরাসরি নিযুক্ত। তাঁদের মাসিক বেতন ৯০০০ থেকে ১৭০০০ টাকার মধ্যে। অস্থায়ী কর্মীদের কেউ কেউ গত এপ্রিল মাসের বেতন এখনও পাননি। পুরসভার শিক্ষা দফতরে কাজ করা একাধিক অস্থায়ী কর্মীও বেতন পাননি। ছ’মাস পর পর চাকরির পুনর্নবীকরণও আটকে আছে।
সংস্থা মনোনীত পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা জানাচ্ছেন, দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মী হিসাবে তাঁরা কাজ করেন। অর্থাৎ, পুরসভায় এলে তবেই তাঁরা বেতন পাবেন। বিভিন্ন সরকারি ছুটির দিন অফিস বন্ধ থাকলে তাঁরা সে দিনের বেতন পান না। দিনপিছু তিনশোর কিছু বেশি টাকা পান তাঁরা। তাঁদের দাবি সামান্য, সরকারি ছুটির দিনে বেতন পাওয়ার দাবি। কলকাতা পুর কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে মনোনীত সংস্থার কাছে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে দাবি করেও ফল মেলেনি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং থেকে পুরসভায় আসেন সংস্থা নিযুক্ত এক নিরাপত্তারক্ষী। তাঁর ক্ষোভ, ‘‘সরকার ক্ষমতায় এসে ‘সম কাজে সম বেতন’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যে অস্থায়ী কর্মীদের দিনপিছু বেতন এ রাজ্যের তুলনায় বেশি। ক্যানিং থেকে ট্রেনে শিয়ালদহে নেমে পুরসভায় হেঁটে আসি। কারণ, ওই টাকায় সংসার টেনে বাসে চড়া যায় না। আশা করেছিলাম, এ বার বেতন বাড়বে।’’
এ দিন কলকাতা পুরসভার বিভিন্ন দফতরে দেখা গেল দুই বিপরীত ছবি। মহার্ঘ ভাতা বাড়ায় স্থায়ী কর্মীদের মধ্যে খুশির আবহ। অন্য দিকে, বেতন একটুও না বাড়ায় অস্থায়ী কর্মীরা মনমরা। শিক্ষা বিভাগে ডেটা এন্ট্রির কাজ করেন, এমন এক মহিলার গলায় ঝরে পড়ে আক্ষেপ, ‘‘অনেক আশা করেছিলাম, বেতন বাড়বে। কিন্তু হল না।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)