৩২ ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও ধিকিধিকি আগুন জ্বলছে পূর্ব কলকাতার আনন্দপুরের জোড়া গুদামে। ইতিমধ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে আট। এখনও নিখোঁজ অনেকে। ঘটনার প্রায় দেড় দিন পর, মঙ্গলবার বেলায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। গিয়েছেন ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্ডা ও স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। বিজেপির বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে সুজিতকে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ দল। ছবি: সারমিন বেগম।
রবিবার রাত প্রায় ৩টে নাগাদ আনন্দপুরের নাজিরাবাদের একটি মোমো কোম্পানির গুদামে আগুন লেগে যায়। পাশাপাশি অবস্থিত দু’টি গুদামে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় দমকল। ১২টি ইঞ্জিন কাজে লাগিয়ে বহু চেষ্টার পরেও সোমবার রাত পর্যন্তও সেই আগুন নেবানো যায়নি। মঙ্গলবার বেলার দিকেও ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, এ দিকে-ও দিকে ধিকিধিকি আগুন জ্বলছে। কোথাও আবার ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে বেরোচ্ছে কালো ধোঁয়া। এখনও পর্যন্ত আট জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। দগ্ধ দেহাংশ দেখে তাঁদেরও শনাক্ত করার উপায় নেই। দেহাংশগুলি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্তত ১৪ জন নিখোঁজ। ভিতরে এখনও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। যে কারখানায় এই ঘটনা ঘটেছে, দোষী সাব্যস্ত হলে সেই কারখানার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র।
পুড়ে গিয়েছে বাইরে পার্ক করে রাখা বাইকও। ছবি: সারমিন বেগম।
ঘিরে ফেলা হয়েছে ঘটনাস্থল। ছবি: সারমিন বেগম।
মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান দমকল বিভাগের ডিজি রণবীর কুমার। তিনি জানিয়েছেন, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে দমকলের তরফে ওই গুদামের কোনও ছাড়পত্র ছিল না। এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিজি। অনুমোদন ছাড়াই কী ভাবে দিনের পর দিন ওই গুদাম চলছিল, সেই প্রশ্ন করলে ডিজি জানিয়েছেন, বিভাগের তরফে কোনও ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
ধ্বংসস্তূপ সরাতে ঘটনাস্থলে পুরসভার কর্মীরা। ছবি: সারমিন বেগম।
পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে খাবারের প্যাকেট, নরম পানীয়ের ক্যান। ছবি: সারমিন বেগম।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছোন দমকলমন্ত্রী সুজিত। ভস্মীভূত জোড়া গুদাম ঘুরে দেখেন তিনি। কথা বলেন দমকলের কর্মী ও আধিকারিকদের সঙ্গে। স্বজনহারাদের সঙ্গেও দেখা করেন তৃণমূল নেতা। সুজিত বলেন, ‘‘এই জায়গাটা একটা জতুগৃহের মতো। ৩৫ হাজার বর্গফুট জুড়ে বিস্তৃত এই এলাকায় পাশাপাশি একটি মোমো তৈরির কারখানা এবং একটি ডেকরেটার্সের গুদাম ছিল। ভিতরে প্রচুর দাহ্য পদার্থ ছিল। বহু ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। খবর পেয়ে দমকলের ১২টি ইঞ্জিন পাঠানো হয়। দমকলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরাও যান।’’ সুজিত জানিয়েছেন, গুদামে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। এ নিয়ে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুদামে আদৌ ফায়ার অডিট হয়েছিল কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন সুজিত।
এখনও ধোঁয়া বেরোচ্ছে পুড়ে যাওয়া গুদাম থেকে। ছবি: সারমিন বেগম।
পোড়া গুদামে এখনও রাখা সারি সারি মিষ্টির কৌটো। ছবি: সারমিন বেগম।
মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে যান বিজেপি বিধায়ক অশোকও। বিজেপি সমর্থকেরা সুজিতকে ঘিরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেন। পাল্টা জবাব দেন তৃণমূল সমর্থকেরাও। দু’পক্ষে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে অবশ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।