রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উত্তরবঙ্গ সফর ঘিরে কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যে যে ‘বিতর্ক’ শুরু হয়েছে তা অব্যাহত। এ বার রাষ্ট্রপতির প্রাতরাশের আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিল তৃণমূল। আগামী সোমবার সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে সকল রাজনৈতিক দলের সাংসদের জলখাবারের কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মুর্মু। কিন্তু শুক্রবার শাসকদলের রাজ্যসভার মুখ্য সচেতক নাদিমুল হক রাষ্ট্রপতি ভবনে জানান, সোমবার তৃণমূলের নিমন্ত্রিত সদস্যেরা সেখানে যোগদান করবেন না।
রাষ্ট্রপতি ভবন সূত্রে খবর, আগামী সোমবার রাষ্ট্রপতি ভবনে সব রাজনৈতিক দলের সাংসদকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে সব সাংসদের সঙ্গে প্রাতরাশ করবেন রাষ্ট্রপতি। তাঁদের সকালের খাবারের বন্দোবস্ত করা হবে রাষ্ট্রপতি ভবনেই। কিন্তু রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সকালের জলখাবারের আসরে অনুপস্থিত থাকবেন তৃণমূল। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, রমজান মাস উপলক্ষে দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা দিনভর উপবাস করেন। তাই এমন সময় সেই সব মানুষের ভাবাবেগের কথা মাথায় রেখে রাষ্ট্রপতির ডাকা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন না তাঁরা।
প্রসঙ্গত, একদিন আগেই আদিবাসী সমাজের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার কী কী কাজ করেছে, তার খতিয়ান দিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে তৃণমূল সাংসদের দেখা করার আবেদন নাকচ করে দেয় রাষ্ট্রপতি ভবন। এ বার রাষ্ট্রপতির প্রাতরাশ নিমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিল শাসকদল।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, গত শনিবার আন্তর্জাতিক আদিবাসী কনফারেন্সে যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন মুর্মু। শিলিগুড়ির বিধাননগরে যেখানে তাঁর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল, সেই স্থান পরিবর্তন করা হয়। নিরাপত্তার কারণে বাগডোগরার কাছে গোঁসাইপুরে রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানের বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। এই স্থান পরিবর্তন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি পরে বিধাননগরে পৌঁছে যান এবং সেখান থেকে রাজ্য প্রশাসন ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। কেন মুখ্যমন্ত্রী বা তাঁর মন্ত্রিসভার কোনও সদস্য বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে যাননি, সেই প্রশ্নও তোলেন। বিষয়টি নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ভাবে রাষ্ট্রপতির অপমানের অভিযোগ তোলে বিজেপি। সরব হন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ কেন্দ্রীয় নেতা-মন্ত্রীরা।
রাষ্ট্রপতি নিজে জনজাতি সমাজের প্রতিনিধি। পশ্চিমবঙ্গের জনজাতি কল্যাণ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলায় কলকাতার ধর্নামঞ্চ থেকেই গর্জে উঠেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির কথায় চলছেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর সফরে রাজ্য সরকারের তরফে কোনও প্রোটোকল ভাঙা হয়নি বলেও দাবি করেন মমতা। এর পরেই দলকে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। চিঠিতে তৃণমূল জানিয়েছে, রাজ্যে তফসিলি জাতি, জনজাতি, পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার যে ‘মাইলফলক পদক্ষেপ’গুলি করেছে, তা রাষ্ট্রপতিকে জানানো হবে। কিন্ত সেই আবেদন খারিজ করে দেয় রাইসিনা হিল। এ বার, রাষ্ট্রপতির নিমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিয়ে ফের বিতর্ক শুরু হল কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যে।