Advertisement
E-Paper

ঘুম ভাঙলেও উদ্যোগ ঢিলে সল্টলেকে

এ-ই ব্লকের এক পাশে গ্রিনভার্জে ফোয়ারায় জল জমে রয়েছে। রীতিমতো মশার আতুঁড়ঘর। জল যে বদলানো হয়নি, তা স্পষ্ট। অথচ গ্রিনভার্জে কার্ব চ্যানেল বরাবর ব্লিচিং ছড়ানো।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ অগস্ট ২০১৬ ০১:০২
সল্টলেকের ফাল্গুনী আবাসনে জমে আছে জল। (ডান দিকে) বিধাননগর উত্তর থানায় বাতিল গাড়ির স্তূপ। বুধবার।  ছবি: শৌভিক দে

সল্টলেকের ফাল্গুনী আবাসনে জমে আছে জল। (ডান দিকে) বিধাননগর উত্তর থানায় বাতিল গাড়ির স্তূপ। বুধবার। ছবি: শৌভিক দে

দৃশ্য ১) এ-ই ব্লকের এক পাশে গ্রিনভার্জে ফোয়ারায় জল জমে রয়েছে। রীতিমতো মশার আতুঁড়ঘর। জল যে বদলানো হয়নি, তা স্পষ্ট। অথচ গ্রিনভার্জে কার্ব চ্যানেল বরাবর ব্লিচিং ছড়ানো।

দৃশ্য ২) এ-ই ব্লকে বাড়ি ভেঙে বাড়ি তৈরি হবে। চার-পাঁচ কাঠা জমি জুড়ে রাবিশের স্তূপ। জল দাঁড়িয়েছে সেখানে।

দৃশ্য ৩) বিকাশ ভবনের সামনে মেট্রো প্রকল্পের কাজ চলছে। সিঁড়ির নীচে চৌবাচ্চা সমান জল। এবং অবশ্যই মশা।

দৃশ্য ৪) বিধাননগর উত্তর থানার পাশে বাজেয়াপ্ত করা গাড়ির স্তূপ। গাড়িগুলির কাচ ভাঙা। ফলে অনায়াসে ভিতরে ঢুকছে বৃষ্টির জল। বাড়ছে মশার বংশ।

দৃশ্য ৫) ফাল্গুনী আবাসনে বাড়ির ছাদ, কার্নিস-সহ একাধিক জায়গায় জমা জল।

দৃশ্য ৬) এইচ-বি, বি-কে সহ একাধিক ব্লকে ফাঁকা প্লট কার্যত আবর্জনার ভ্যাটের চেহারা নিয়েছে। এক দিকে ঝোপজঙ্গল, অন্য দিকে জল জমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।

দৃশ্য ৭) ভারতীয় বিদ্যাভবনের দুই পড়ুয়ার মৃত্যুতে শিক্ষা নিয়ে এ দিন অভিভাবকেরাই নামলেন সাফাই এবং ব্লিচিং ছড়ানোর কাজে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে বিধাননগর পুর-নিগমের নিস্ক্রিয়তা নিয়ে লাগাতার অভিযোগ উঠছিল। বকুনি জুটেছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও। চাপে পড়ে এখন পথে নেমেছেন পুরকর্মীরা। স্বাস্থ্য দফতরের কাছে প্রশিক্ষিত কর্মী চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এমনকী পরিস্থিতির মোকাবিলায় বিভিন্ন এজেন্সি থেকে অতিরিক্ত লোককে কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও করা হয়েছে। তবু তা যে প্রয়োজনের ধারেকাছে নেই, বুধবার সল্টলেক ঘুরে উঠে আসা এই খণ্ডচিত্রগুলিই তার প্রমাণ।

এ দিন পুর-কর্তৃপক্ষ অবশ্য কার্যত অভিযোগ স্বীকার করে জানিয়েছেন, দ্রুত অধিকাংশ ক্ষেত্রে পদক্ষেপ করা হবে। ইতিমধ্যে সল্টলেকে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি আবাসনগুলিতে কামান দাগা, ব্লিচিং ছড়ানোর কাজ করেছে পুরসভা। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য বলেই মত বাসিন্দাদের। প্রশ্ন উঠেছে, কেন আগে পুরসভার চৈতন্যোদয় হল না? কেনই বা আগে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ ঠেকাতে তৎপর হয়নি পুরসভা?

পুরকর্তারা যদিও সর্বতোভাবে অভিযোগ স্বীকার করেননি। তাঁদের দাবি, মশাবাহিত রোগের প্রকোপ ঠেকাতে তথ্যসংগ্রহ এবং সচেতনতা প্রচারের কাজ হয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেই সব কাজের গতিও ছিল মন্থর। তা অবশ্য কার্যত স্বীকার করে নিয়েছে পুরসভা। তবে এ ক্ষেত্রে শুধু পুরসভা নয়, মেট্রো কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি দফতরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছেন, দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।

যদিও পুর-প্রশাসনের একাংশের দাবি, আসল সমস্যা কর্মীর আকাল, বিশেষত প্রশিক্ষিত কর্মীর। কর্মী নিয়োগের জটিলতাও কাটেনি। ঘাটতি মেটাতে স্বাস্থ্য দফতরের কাছে প্রশিক্ষিত কর্মী এবং বিভিন্ন এজেন্সির লোকজনকে কাজে লাগানো হবে জানিয়েছে পুরসভা। বুধবার মেয়র সব্যসাচী দত্ত বলেন, ‘‘লোকসংখ্যা ও পরিকাঠামো বাড়ানো হবে। দ্রুত অধিকাংশ জায়গাতেই মশাবাহিত রোগের প্রকোপ ঠেকানোর কাজ করার চেষ্টা হচ্ছে।’’

বিধাননগরের মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) প্রণয় রায় জানান, এখনও পর্যন্ত ৪০ জন ডেঙ্গি রোগীর সন্ধান মিলেছে। তবে নতুন করে কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। পুরনিগমের তিনটি মাতৃসদনেই দ্রুত মশাবাহিত রোগের রক্তপরীক্ষার ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy