Advertisement
E-Paper

বাড়তি আসন চেয়ে রাতভর ধর্না প্রেসিডেন্সিতে

ভর্তির জট এ বার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এবং তা নিয়ে অবস্থান-আন্দোলনও! স্নাতকোত্তর স্তরে আসন বাড়ানোর দাবিতে প্রেসিডেন্সির ছাত্র সংসদের সদস্যেরা সোমবার রাতভর অবস্থান করেন। সোমবারেই প্রেসিডেন্সিতে স্নাতক স্তরের প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে। আর ওই দিন বিকেলেই শুরু হয়ে যায় ছাত্র সংসদের অবস্থান। মঙ্গলবার বিকেলে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনার পরে অবস্থান তুলে নেওয়া হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ জুলাই ২০১৪ ০৩:১১

ভর্তির জট এ বার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এবং তা নিয়ে অবস্থান-আন্দোলনও!

স্নাতকোত্তর স্তরে আসন বাড়ানোর দাবিতে প্রেসিডেন্সির ছাত্র সংসদের সদস্যেরা সোমবার রাতভর অবস্থান করেন। সোমবারেই প্রেসিডেন্সিতে স্নাতক স্তরের প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে। আর ওই দিন বিকেলেই শুরু হয়ে যায় ছাত্র সংসদের অবস্থান। মঙ্গলবার বিকেলে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনার পরে অবস্থান তুলে নেওয়া হয়। উপাচার্য অনুরাধা লোহিয়ার বক্তব্য, তিনি ছাত্রছাত্রীদের দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল। তবে আলোচনার মাধ্যমে তা মিটমাট করে নেওয়াই বাঞ্ছনীয়। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের এই পদ্ধতির বিরোধিতা করেছেন।

প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক স্তরে আসন ৫৬২টি। স্নাতকোত্তরে কিন্তু মাত্র ৪৭১টি আসন আছে। ছাত্রছাত্রীদের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাঁরা স্নাতক হয়ে বেরোচ্ছেন, তাঁদের অনেকের ইচ্ছে থাকলেও সেখানে স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ হচ্ছে না। ছাত্র সংসদের সভাপতি সুমাল্য মুখোপাধ্যায় বলেন, “প্রবেশিকা পরীক্ষা পাশ করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী স্নাতকে ন্যূনতম নম্বর পাওয়া সত্ত্বেও কয়েক জন পড়ুয়া স্নাতকোত্তরে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে না। এদের ভর্তির সুযোগ দিতে হবে।” ওই প্রার্থীরা ইতিহাস, বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতির পড়ুয়া বলে জানান সুমাল্য।

বিশ্ববিদ্যালয়-কর্তাদের একাংশের বক্তব্য, ন্যূনতম নম্বর পেলে বা প্রবেশিকা পরীক্ষায় সফল হলেই স্নাতকোত্তরে ভর্তির সুযোগ মিলবে, এমন কোনও কথা নেই। মেধা-তালিকায় যত প্রার্থীর নাম আছে, তার তুলনায় আসন-সংখ্যা কম হলে কিছু পড়ুয়া বাদ পড়বেন, এটাই নিয়ম।

কয়েক বছর ধরে সব বিশ্ববিদ্যালয়েই স্নাতকোত্তরে ৬০ শতাংশ আসনে সেখানকার এবং বাকি ৪০ শতাংশে অন্য প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ভর্তি করা হচ্ছে। সুমাল্য জানান, এটা মাথায় রেখেই দু’তিন বছর ধরে তাঁরা স্নাতকোত্তরে আসন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাতে কান দেননি। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকের প্রথম ব্যাচ বেরিয়েছে। তাই এ বার সঙ্কট দেখা দিয়েছে প্রকট ভাবে। সুমাল্য বলেন, “বাইরের ছাত্রছাত্রীদের সুযোগ না-কমিয়েও নিজের পড়ুয়াদের ভর্তির ব্যবস্থা করার জন্যই আসন বাড়ানোর দাবি জানানো হচ্ছে। তবে সেই দাবি আদায়ের জন্য বিক্ষোভ দেখানো, ঘেরাও করা, স্লোগান দেওয়া বা কোনও জঙ্গি পথ ধরা হয়নি।”

অনুরাধাদেবী জানান, সোমবার বিকেলে দাবিদাওয়া নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন ছাত্রছাত্রীরা। জরুরি বৈঠক থাকায় সে-দিন ৪টে নাগাদ বেরিয়ে যান উপাচার্য। তার পরে এক দল পড়ুয়া সারা রাত বিশ্ববিদ্যালয়েই বসে থাকেন বলে প্রেসিডেন্সি সূত্রের খবর। যদিও সুমাল্যদের দাবি, তাঁরা ধর্নায় বসেন মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে।

এ দিন বিকেলে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা করেন। পরে উপাচার্য বলেন, “পড়ুয়াদের বলেছি, আসন বাড়ানোর ব্যাপারে আমার কিছু করার নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা করা হবে।” আসন বাড়ানো যে তাঁর এক্তিয়ারভুক্ত নয়, উচ্চশিক্ষা দফতরও সে-কথা তাঁকে জানিয়েছে বলে দাবি অনুরাধাদেবীর। আজ, বুধবার উপাচার্যের কাছে লিখিত ভাবে নিজেদের দাবি জানাবেন ছাত্রছাত্রীরা।

কিন্তু দাবি জানাতে এ ভাবে রাতভর অবস্থান কি ঠিক?

উপাচার্য বলেন, “ছাত্রছাত্রীরা যেটা ঠিক মনে করেছে, সেই ভাবে নিজেদের মত ব্যক্ত করেছে।” সেই সঙ্গেই অনুরাধাদেবী জানান, পড়ুয়ারা রাতভর ধর্নায় বসে থাকুন বা ঘেরাও করে কাউকে আটকে রাখুন, তা তিনি চান না। তাঁর কথায়, “আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যা মেটানো সম্ভব।”

এর পাশাপাশি উপাচার্য জানান, ছাত্রছাত্রীদের দাবির প্রতি তিনি সহানুভূতিশীল। কিন্তু পরিকাঠামো, শিক্ষক-সংখ্যায় ঘাটতি থাকায় আসন বাড়ানো সম্ভব নয়। সমস্যা সব থেকে বেশি গণিতে। উপাচার্য বলেন, “গণিতে মাত্র তিন জন শিক্ষক।

বেশির ভাগ গণিতজ্ঞই এখন গবেষণা কেন্দ্রে যেতে চান। শিক্ষকতার পেশায় আসতে চান না।” বস্তুত, স্নাতকের পঞ্চম ও ষষ্ঠ সেমেস্টারের বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় যে-৬৩ জন ছাত্রছাত্রীর বসার কথা, তাঁদেরও বেশির ভাগই গণিতের।

ভর্তি-সমস্যা নিয়ে কী বলছেন শিক্ষামন্ত্রী?

পার্থবাবু জানান, তিনি উচ্চশিক্ষা সচিব বিবেক কুমারকে এ ব্যাপারে খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মন্ত্রীর কথায়, “বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মে যাঁদের সুযোগ পাওয়ার কথা নয়, তেমন ছাত্রছাত্রীদেরও ভর্তি করার দাবি জানানো হচ্ছে। এই দাবি অনৈতিক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আন্দোলন কখনওই ঠিক নয়। এতে প্রতিষ্ঠানের মাধুর্য নষ্ট হয়।” মন্ত্রী জানান, তিনি উপাচার্যকে নিজস্ব পদ্ধতিতে সমস্যা মেটানোর পরামর্শ দিয়েছেন। প্রয়োজনে প্রশাসনিক সাহায্যেরও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

presidency post graduation dharna ic
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy