এন্টালির পটারি রোডে গুলি চালানোর ঘটনার এক দিনের মধ্যে পুলিশের জালে ধরা পড়ল মূল অভিযুক্ত।
পুলিশ জানায় ধৃতের নাম বাবু মজুমদার। তাকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, ধৃত যুবকই ওই দিন গুলি চালিয়েছিল। তাতেই জখম হন ইন্দ্রজিৎ রায় ওরফে ছোটু নামে এক যুবক। বর্তমানে তিনি নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পরেই পুলিশ সুখেন দাস ও তাপস নস্কর নামে দুই দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছিল। তবে বাবুকে গ্রেফতার করা হলেও তার কাছ থেকে কোনও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে পারেননি তদন্তকারীরা। এ ছাড়াও ওই দুই দুষ্কৃতী দলের মাথাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর।
মঙ্গলবার রাতে এন্টালির পটারি রোডে আগুন পোহানোর সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন ইন্দ্রজিৎ। এই ঘটনায় পুলিশ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা এবং অস্ত্র আইনে অভিযোগ দায়ের করে। যাতে বাবুর নাম ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, পটারি রোড, মালিপাড়া-সহ এন্টালির ওই এলাকায় কেলো ও নেটো নামে দুই দুষ্কৃতীর গোষ্ঠীর মধ্যে এলাকার দখল এবং তোলাবাজির রাশ নিয়ে বিবাদ রয়েছে। ধৃতদের জেরার করার পরে পুলিশের দাবি, এলাকা দখলকে কেন্দ্র করেই মঙ্গলবার রাতে গন্ডগোল শুরু হয়। কেলোর দলের তরফে প্রথমে গুলি ছোড়া হলে বাবুরাও গুলি ছোড়ে। তাতেই জখম হন ইন্দ্রজিৎ। পুলিশের দাবি, ঘটনার রাতে দুই দল প্রায় চার রাউন্ড গুলি ছুড়েছে একে অপরকে লক্ষ করে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির
খালি খোলও উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধৃতদের বিরুদ্ধে পূর্ব কলকাতার বিভিন্ন থানায় খুনের চেষ্টা অভিযোগ ও অস্ত্র আইনে মামলা আছে। স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি লালবাজারে গোয়েন্দারা অভিযুক্তদের গ্রেফতারও করে। কিন্তু পুজোর পর থেকেই দুই গোষ্ঠীর সদস্যেরা জামিন পায়। এর পরেই এলাকায় ফিরে ক্ষমতা জাহির করার চেষ্টা করে। পুলিশের দাবি, এর জেরেই মঙ্গলবার রাতের ঘটনা।
পুলিশ জানিয়েছে, এন্টালির এই ঘটনার পরেই শহরের সব ক’টি থানাকে অস্ত্র উদ্ধারে জোর দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া কোনও দুষ্কৃতী সম্প্রতি ছাড়া পেয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে তাদের অবস্থান জানার জন্য নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার।