আনন্দপুরে শুকনো খাবারের গুদামে অগ্নিকাণ্ড। রাত ৩টে থেকে আগুন জ্বলছে। এখনও তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ভিতরে অন্তত ছ’জন আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা। তাঁদের খোঁজ মেলেনি। ঘটনাস্থলে কাজ করছে দমকলের ১২টি ইঞ্জিন। উদ্ধারকাজ চলছে। রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস আনন্দপুরে গিয়েছেন। তিনি জানান, পুলিশ এবং দমকল কাজ করছে। ধোঁয়া আছে। আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি করেছেন অরূপ। আটকে পড়া কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন।
আনন্দপুরের নাজিরাবাদের ওই গুদামে মূলত শুকনো, প্যাকেটজাত খাবার মজুত করা থাকত। মজুত রাখা হত ঠান্ডা পানীয়ের বোতলও। কী ভাবে সেখানে আগুন লাগল, এখনও স্পষ্ট নয়। মধ্যরাতে গুদামে ধোঁয়া দেখতে পেয়ে কয়েক জন দমকলকে খবর দেন। তবে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই গুদামে রাতের ডিউটিতে ছিলেন বেশ কয়েক জন। তাঁদের খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি। পরিবারের আশঙ্কা, তাঁরা ভিতরেই আটকে পড়েছেন।
আরও পড়ুন:
দমকল সূত্রে খবর, রাত ৩টে নাগাদ তাদের কাছে খবর আসে। কিছু ক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে দমকলকর্মীরা পৌঁছে গিয়েছিলেন। পর পর দু’টি গুদামে আগুন লেগেছিল। তবে সরু গলিতে গুদাম হওয়ার কারণে দমকলকে আগুন নেবাতে বেগ পেতে হয়েছে। লম্বা পাইপ এনে জল দিতে হয়েছে। তা ছাড়া জল দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। রাতের ডিউটির কর্মীদের বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি দমকল। আগুন না-নেবা পর্যন্ত তা বলা সম্ভব হবে না। নিখোঁজ এক জনের আত্মীয় বলেন, ‘‘গুদামে আমার জামাই ছিল। এখানে রাতের ডিউটি করে ও। রাত ৩টের সময় ফোন করে বলেছে, আমাকে বাঁচাও! আমরা তখনই এসেছিলাম। কিন্তু কাউকে খুঁজে পাইনি। এখনও খুঁজে পাইনি। এখনও আগুন জ্বলছে। দমকলের লোক বলছে, আগুন না নিবলে কিছু বলা যাবে না।’’ গুদামের এক কর্মী বলেন, ‘‘আমাদের তিন জন ভিতরে আটকে পড়েছেন। তাঁদের এখনও কোনও খোঁজ পাইনি। শেষ বার ওদের সঙ্গে যখন কথা হয়েছে, ওরা বলেছিল দেওয়াল ভেঙে বেরোনোর চেষ্টা করছে। তার পর আর যোগাযোগ করা যায়নি।’’
গুদামের যাবতীয় সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রায় ১০ ঘণ্টা পরে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ভিতরে কোথাও কোথাও আগুন রয়েছে। ঘটনাস্থল ধোঁয়ায় ঢেকে রয়েছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেবানো এবং কর্মীদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে দমকল।