E-Paper

হকার উচ্ছেদের পরেই এ বার ভ্রাম্যমাণ ‘ফুড স্টল’ বসাতে উদ্যোগী রেল

রেলের কর্তাদের বক্তব্য, খাবারের দাম যাতে সাধারণ যাত্রীদের সাধ্যের মধ্যে থাকে, সে দিকে লক্ষ রাখা হবে। এ ছাড়া, এই সব স্টলের মাধ্যমে অনেকের কর্মসংস্থান হবে বলেও মনে করছেন তাঁরা।

ফিরোজ ইসলাম 

শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ০৬:১৪

— প্রতীকী চিত্র।

শহর ও শহরতলির বিভিন্ন স্টেশন থেকে হকার উচ্ছেদের আবহেই এ বার ভ্রাম্যমাণ খাবারের স্টল চালু করতে চলেছে পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের প্রবেশপথের উন্মুক্ত পরিসরে চুক্তির ভিত্তিতে এই সব স্টল বসানোর অনুমতি দিচ্ছে রেল। চাকা লাগানো এই ধরনের দোতলা স্টলকে ‘ফুড ভ্যান’ বা ‘ভোজন গাড়ি’ বলা হচ্ছে। স্টলের নীচের তলায় থাকছে খাবার কিনে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা (টেক-অ্যাওয়ে কাউন্টার)। আর উপরতলায় থাকছে অল্প কয়েক জনের বসে খাওয়ার ব্যবস্থা। রেলের পক্ষ থেকে এই সমস্ত ভ্রাম্যমাণ ভোজন গাড়ির নকশা অনুমোদন করা হয়েছে।

রেলের কর্তাদের বক্তব্য, খাবারের দাম যাতে সাধারণ যাত্রীদের সাধ্যের মধ্যে থাকে, সে দিকে লক্ষ রাখা হবে। এ ছাড়া, এই সব স্টলের মাধ্যমে অনেকের কর্মসংস্থান হবে বলেও মনে করছেন তাঁরা। প্রতিটি স্টলের মালিককেই খাবারের প্রকৃতি, গুণমান এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে রেলের শর্ত মানতে হবে। বিশেষ করে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কঠোর বিধি মেনে চলতে হবে। কোন ধরনের বর্জ্য কোথায়, কী ভাবে ফেলতে হবে, তা যাতে ক্রেতারা স্পষ্ট বুঝতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করতে বলেছে রেল। এ ছাড়া, খাবারের গুণমান রক্ষার বিষয়টিতেও বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে পাঁচ বছরের জন্য এই সব স্টল বসানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। শুরুতে কলকাতা স্টেশনে একটি এবং শিয়ালদহ স্টেশনে দু’টি ভ্রাম্যমাণ স্টল বসানোর কথা ভাবা হয়েছে। পরে অন্য স্টেশনেও এই ব্যবস্থা চালু হবে।

এই প্রসঙ্গে রেলের এক আধিকারিক বললেন, ‘‘যাত্রীদের আসা-যাওয়ার সময় অনুযায়ী স্টল খোলা রাখার সুযোগ রয়েছে। স্টলগুলি দেখতে অনেকটা ছোট আকারের বাস স্টপ বা বাসযাত্রীদের প্রতীক্ষালয়ের মতো। সেখানে চা, কফি, পানীয় জল, নরম পানীয়, বিস্কুট, নোনতা খাবার ছাড়াও বেশ কিছু ক্ষেত্রে রান্না করা খাবার তৈরি করে বিক্রির সুবিধাও রয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে গাড়ির সঙ্গে বেঁধে স্টলগুলিকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সুবিধাও থাকছে।’’

শিয়ালদহ ডিভিশনের সিনিয়র ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার সুনীলকুমার মাহালা নতুন এই স্টল চালু করার বিষয়ে তৎপর হয়েছেন। শিয়ালদহ ডিভিশনের রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা বলেন, ‘‘ট্রেনে ওঠার আগে খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার ক্ষেত্রে যাত্রীদের সুবিধা করে দিতেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।’’

বিভিন্ন স্টেশনে হকার উচ্ছেদ নিয়ে রেলের আধিকারিকেরা সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি। তবে, যাত্রীদের আসা-যাওয়ার পথ আটকে প্ল্যাটফর্মে কিংবা স্টেশনের প্রবেশপথে নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে দোকানপাট তৈরি হলে তা যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সুরক্ষায় গুরুতর প্রভাব ফেলে বলেই মনে করছেন রেলের আধিকারিকদের একাংশ। বহু ক্ষেত্রে ওই সব দোকানের কারণে একাধিক স্টেশনে বড়সড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি তাঁদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি, বিধি মেনে সুষ্ঠু ভাবে ব্যবসা করার পক্ষে সওয়াল করেছেন তাঁরা।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Hawker Eviction Indian Railways

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy