Advertisement
E-Paper

কোভিডে ‘বন্ধু’রা ইয়াসে বিধ্বস্তদের পাশেও

বন্ধুরা মিলে শহরে করোনা আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর কাজ করে চলেছেন অভিরূপ সেন, জিৎসুন্দর চক্রবর্তী, বর্ষা-সহ আরও কয়েক জন।

চন্দন বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২১ ০৭:১৫
ক্ষুধার রাজ্যে: বৃষ্টি থামতেই খাবার নেওয়ার জন্য লম্বা লাইন। তবে সেখানে মানা হল না দূরত্ব-বিধি। বুধবার, এন আর এস মেডিক্যাল কলেজের সামনে।

ক্ষুধার রাজ্যে: বৃষ্টি থামতেই খাবার নেওয়ার জন্য লম্বা লাইন। তবে সেখানে মানা হল না দূরত্ব-বিধি। বুধবার, এন আর এস মেডিক্যাল কলেজের সামনে। ছবি: দেবস্মিতা ভট্টাচার্য

অতিমারি পরিস্থিতিতে করোনা আক্রান্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁরা। কখনও সংগঠনের হয়ে, কখনও বা বন্ধুরা মিলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে। সংক্রমিতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি তাঁদের কাছে খাবার ও করোনা চিকিৎসার নানা ওষুধ ও সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে চলেছেন স্বেচ্ছায়। করোনার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের মানুষের পাশে দাঁড়াতেও এ বার কোমর বাঁধছেন তাঁরা।

ঝড়ের পূর্বাভাস মিলতেই পাশে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল। শুকনো খাবার থেকে ওষুধ, জামাকাপড়, পানীয় জল একত্রিত করার কাজ তখনই শুরু করে দিয়েছিলেন তাঁরা। ইয়াসের তাণ্ডবের পরে এই প্রস্তুতি আরও জোরদার হয়েছে। পাশাপাশি চলছে ঘূর্ণিঝড়-বিধ্বস্ত এলাকার স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা। কেউ কেউ চলতি সপ্তাহের শনি অথবা রবিবার, কেউ আবার আগামী সপ্তাহে জল কিছুটা কমলেই ত্রাণসামগ্রীর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ, পানীয় জল নিয়ে ওই সমস্ত জায়গায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিয়েছেন।

বন্ধুরা মিলে শহরে করোনা আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর কাজ করে চলেছেন অভিরূপ সেন, জিৎসুন্দর চক্রবর্তী, বর্ষা-সহ আরও কয়েক জন। তাঁরা প্রত্যেকেই নাট্যকর্মী, সেই সঙ্গে বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত। অভিরূপ বলেন, ‘‘গত বছর আমপানের সময়ে আমরা ত্রাণসামগ্রী নিয়ে সুন্দরবন গিয়েছিলাম। জল ও ওষুধের জন্য মানুষের হাহাকার নিজের চোখে দেখেছি। এ বারও সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ওষুধ, পানীয় জল, শুকনো খাবার নিয়ে ইয়াস-বিধ্বস্ত এলাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছি।’’

টালিগঞ্জ-হরিদেবপুর এলাকায় করোনা আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে। তাঁদেরই এক জন তৃণাঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘আমরা দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধুরা মিলে কোভিড আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছি। তবে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের পূর্বাভাস পেয়ে আগে থেকেই ত্রাণসামগ্রী জোগাড় করার কাজ শুরু করি। আগামী সপ্তাহে দু’টি দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাখিরালয় এবং পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘায় যাব আমরা। প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে ওই এলাকায় স্বাস্থ্য শিবির করা যায় কি না, সেটাও চেষ্টা করছি।’’

উত্তর কলকাতার রক্তদানের সঙ্গে যুক্ত একটি সংগঠন এবং গড়িয়ার একটি সংগঠনের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকেই চলছে ত্রাণসামগ্রী একত্রিত করার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। চলতি সপ্তাহেই ঝড়-বিধ্বস্ত এলাকায় পৌঁছে যাবেন এঁদের অনেকে।

তবে এই কাজের মাঝে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই থেকে অবশ্য তাঁরা কেউই সরে আসছেন না। করোনায় আক্রান্ত এবং ইয়াস-বিধ্বস্ত— সকলের পাশে দাঁড়াতে সমান তালে কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানাচ্ছেন এই ‘বন্ধু’রা।

coronavirus
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy