×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৫ মার্চ ২০২১ ই-পেপার

কালো তালিকাভুক্তের দাবির পরেও একসঙ্গে কাজ?

দেবাশিস ঘড়াই
কলকাতা ১৯ ডিসেম্বর ২০২০ ০৫:৪১
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

জাল নথি ব্যবহার করে দরপত্রে অংশগ্রহণ করেছে একটি সংস্থা। গত বছরের মে মাসে স্বাস্থ্য দফতরে চিঠি লিখে এমনই অভিযোগ করেছিল রাজ্যের ছ’টি স্বীকৃত ‘কমন বায়োমেডিক্যাল ওয়েস্ট ট্রিটমেন্ট ফেসিলিটি’-র (সিবিডব্লিউটিএফ) একটি— ‘মেডিকেয়ার এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড’। কিন্তু পরে কোন ‘মন্ত্রবলে’ তারাই অভিযুক্ত সংস্থার সঙ্গে জোট বেঁধে কাজ শুরু করল, তা নিয়ে রীতিমতো আলোচনা শুরু হয়েছে রাজ্য প্রশাসনের একাংশে।

প্রশাসনিক কর্তাদের একাংশের বক্তব্য, বেআইনি ভাবে দরপত্রে অংশগ্রহণ করেছে বলে ‘কনসোর্শিয়াম অব স্পেকট্রাম ওয়েস্ট সলিউশন প্রাইভেট লিমিটেড অ্যান্ড এসএনজি মার্কেন্টাইল প্রাইভেট লিমিটেড’-এর বিরুদ্ধে গত বছরের ২ মে স্বাস্থ্য দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছিল মেডিকেয়ার। ওই সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করার দাবিও তুলেছিল তারা। প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, ‘‘কিন্তু তার পরে প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে ওই দুই সংস্থার মধ্যে মধ্যস্থতা করা হয়। পারস্পরিক মুনাফা নিয়ে বোঝাপড়া করেই তারা কাজ করতে রাজি হয়।’’ এ বিষয়ে মেডিকেয়ারের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন্স) কৃষ্ণেন্দু দত্ত বলেন, ‘‘এ নিয়ে পরে কথা বলব।’’ যদিও পরে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। অন্য দিকে এসএনজি সংস্থার ডিরেক্টর এস পি সিংহের দাবি, ‘‘মেডিকেয়ারের চিঠির ব্যাপারে কিছু জানি না।’’

প্রশাসন সূত্রের খবর, সর্বভারতীয় সংগঠন ‘সিবিডব্লিউটিএফ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া’-ও গত বছরের মে মাসে স্বাস্থ্য দফতরকে জানায়, কাজের বরাত পাওয়ার জন্য স্পেকট্রাম সংস্থাটি বেআইনি ভাবে সংগঠনের সদস্য ‘বায়োটিক ওয়েস্ট সলিউশন্স প্রাইভেট লিমিটেড’নামে একটি সিবিডব্লিউটিএফের নথি ব্যবহার করেছে। আর ‘বায়োটিক’ সংস্থার ডিরেক্টর বিকাশ ঘ্যালট নিজেও স্বাস্থ্য দফতরে চিঠি দিয়ে বলেন— ‘অনুমতি ছাড়াই আমার সংস্থার নথি ব্যবহার করেছে স্পেকট্রাম সলিউশন্স। দরপত্রে সংস্থা নির্বাচনের সময়ে যেন ওই নথি গ্রাহ্য করা না হয়।’

Advertisement



কিন্তু এত অভিযোগের পরেও সরকার তাকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ পরিবেশকর্মীরা। পরিবেশকর্মীদের সংগঠন ‘সবুজ মঞ্চ’-এর সম্পাদক নব দত্ত বলেন, ‘‘এই দুর্নীতি নিয়ে সিবিআই স্তরে তদন্ত চাই।’’ পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত বলছেন, ‘‘বরাত দেওয়ার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত দুর্নীতি হয়েছে!’’ বৃহস্পতিবার রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব রাজীব সিংহ দাবি করেছিলেন, তিনি স্বাস্থ্যসচিব থাকাকালীন

দরপত্রের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়নি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলির পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার তাঁর বক্তব্য, ‘‘স্বাস্থ্য দফতর বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। সে রকম কিছু হলে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

Advertisement