E-Paper

জ্ঞানচর্চায় কলকাতাকে নিয়ে জোট বাঁধার ডাক সমাবর্তনের আসরে

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, মানবিক বিদ‍্যা, ডাক্তারি থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে সুদূরপ্রসারী গবেষণার কনভার্জেন্স স্কুল গড়ার কথাও এ দিন বলেন সুমন। কোনও নির্দিষ্ট বিষয়ে পিএইচ ডি-র বদলে আইআইটি-তে তাঁরা এমন সুদূরপ্রসারী গবেষণায় জোর দিতে চান বলে জানান তিনি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ০৯:৪৩
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। —ফাইল চিত্র।

১৭০ ছুঁই ছুঁই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে বাংলার মাটিতে নতুন এক বিশ্ব জ্ঞান উদ্ভাবনী চিন্তার লালনভূমি গড়ার স্বপ্ন দেখালেন আইআইটি খড়্গপুরের অধিকর্তা সুমন চক্রবর্তী। সোমবার শতবার্ষিকী সভাঘরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন তিনি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেক‍্যানিক‍্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কৃতী প্রাক্তনী সুমন বলেন, “ভারতে আইআইটির ৭৫ বছরে খড়্গপুরে সীমানা ভাঙা জ্ঞানচর্চাই আমাদের উদ্দেশ্য। বিশ্ববিদ্যালয় কোনও বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়। খড়্গপুর, কলকাতা, বোস ইনস্টিটিউট, প্রেসিডেন্সি, আইএসআই মিলেও গ্লোবাল নলেজ ইনোভেশন হাব হতে পারে।”

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, মানবিক বিদ‍্যা, ডাক্তারি থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে সুদূরপ্রসারী গবেষণার কনভার্জেন্স স্কুল গড়ার কথাও এ দিন বলেন সুমন। কোনও নির্দিষ্ট বিষয়ে পিএইচ ডি-র বদলে আইআইটি-তে তাঁরা এমন সুদূরপ্রসারী গবেষণায় জোর দিতে চান বলে জানান তিনি।

এ শিক্ষা প্রাঙ্গণ একদা যুগের থেকে এগিয়ে থাকা আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, জগদীশচন্দ্র বসু, সত‍্যেন্দ্রনাথ বসু, মেঘনাদ সাহা, জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ‍, অসীমা চট্টোপাধ্যায়, অমলকুমার রায়চৌধুরীদেরও দেখেছে। তা মনে করিয়ে সুমন সফল শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘‘সিভি নয়। নিজেকে তৈরি করো। পেশাগত জীবন নয়, আলোড়ন ফেলা প্রশ্ন খুঁজে আনো!” ইংরেজি বক্তৃতার শেষে তিনি বাংলায় বলেন, ‘‘বিজ্ঞান, বিবেকের যৌথতায় নতুন ইতিহাস সৃষ্টি সম্ভব।’’

দীর্ঘ ছ’বছর বাদে সমাবর্তনে আচার্য তথা রাজ‍্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবিও পিএইচ ডি প্রাপকদের বলেন, “২০৪৭-এ আপনারাই হবেন দেশের চালিকাশক্তি। ব‍্যক্তিগত প্রসারকে দেশের প্রসারের সঙ্গে মেলান।” ২০২৪ এবং ২০২৫, এই দু’বছরের ১১০০ জন পিএইচ ডি প্রাপক এ দিন একযোগে খেতাব পান।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, আচার্য রবি নিজেই সব ডিগ্রি প্রাপককে সরাসরি সম্ভাষণ জানাতে চেয়েছিলেন। বিষয়টি সুষ্ঠু ভাবে সারতে এ দিন সমাবর্তন শুরুর আগেই সবাইকে পিএইচ ডি-র শংসাপত্র দেওয়া হয়েছিল। এর পরে সমাবর্তনের মঞ্চে ১১০০ জনেরই পর পর নাম ডাকা হয়। তাঁরা সারিবদ্ধ ভাবে ওঠেন। রাজ্যপাল সবার সঙ্গে হাত মেলান। তাতে দেরি হয়নি।

ভোট ঘোষণার পরে আদর্শ আচরণবিধি জারি হলেও সমাবর্তন সময় মতো সারায় তৎপর হন উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনেই আসে কমিশনের ছাড়পত্র। ভোট-বিধি মেনে কোনও রাজনৈতিক ব‍্যক্তিত্ব ছিলেন না। পূর্ব ঘোষণামাফিক ডি এসসি পান ভারতের সুপারকম্পিউটার প্রকল্পের রূপকার বিজয় পাণ্ডুরঙ্গ ভাটকর, ডি লিট কবি রণজিৎ দাশ এবং শিক্ষাবিদ ফাদার টমাস চাতামপরাম্পিল। অধ‍্যাপক গণপতি দাদাসাহেব যাদব, নলিনী বেরা, অধ‍্যাপক প্রদ্যোৎকুমার মুখোপাধ্যায়, নিখিল শূর, আবুল বাশার, ভি নারায়ণন, অধ‍্যাপক পার্থ চট্টোপাধ্যায়, তৃপ্তি সান্ত্রা, অভি চক্রবর্তী, অরুণ নাগ, দেবোরিমা সরকার, রণজয় রায় কয়েকটি বিশিষ্ট পদক পান। বিশ্ববিদ্যালয়ের আট জন বিশিষ্ট অধ্যাপক— রসায়নের দুলালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, জৈবপ্রযুক্তির ধ্রুবজ্যোতি চট্টোপাধ্যায়, ইংরেজির সংযুক্তা দাশগুপ্ত, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পার্থ রায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শোভনলাল দত্তগুপ্ত, অঙ্কের মিহির চক্রবর্তী, ম্যানেজমেন্টের অরবিন্দ ভট্টাচার্য এবং নৃতত্ত্ববিদ্যার রঞ্জনা রায়কে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Calcutta University IIT Kharagpur

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy