Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৯ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

নির্দেশই সার, করোনা-কালে শহরে বেড়েছে অবৈধ নির্মাণ

মেহবুব কাদের চৌধুরী
কলকাতা ০৬ ডিসেম্বর ২০২১ ০৭:৪৪


প্রতীকি ছবি

বাড়ি তৈরির নিয়মকানুন মেনে চলার বালাই নেই। ফলে পাশাপাশি গা ঘেঁষাঘেঁষি করে উঠেছে বহুতল। ঘুপচি ফ্ল্যাটগুলি রাস্তার দু’ধারে যে ভাবে গজিয়ে উঠেছে, তাতে আগুন লাগলে বা বাড়ি ভেঙে পড়লে বড় বিপদ অনিবার্য। তপসিয়ার জি জে খান রোডের জনৈক বাসিন্দার কথায়, ‘‘বিপদ মাথায় নিয়ে বাস করতে হয়। আগেও এখানের যা হাল ছিল, এখনও তাই।’’

শহরে এ ভাবে বেআইনি বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ কিছু নতুন নয়। তিলজলা, তপসিয়া, ট্যাংরা, কসবা থেকে শুরু করে কড়েয়া, পার্ক সার্কাস, একবালপুর, রাজাবাজার, ই এম বাইপাস সংলগ্ন এলাকা রয়েছে সেই তালিকায়। বাদ নেই বড়বাজার, মেটিয়াবুরুজ, বেহালাও। তবে করোনা-কালে সুযোগ বুঝে নির্মাণকারীরা দেদার বেআইনি বাড়ি তৈরি করছেন বলে অভিযোগ। পুরসভার বিল্ডিং দফতরের আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন, গত দেড় বছরে শহরে অবাধে হয়েছে অবৈধ নির্মাণ। যার জন্য গত জুনে পুর প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারপার্সন ফিরহাদ হাকিম বেআইনি নির্মাণ আটকাতে কলকাতা পুরসভার কড়া অবস্থানের কথা ঘোষণা করেন। কলকাতা পুলিশের শীর্ষ কর্তার সঙ্গে বৈঠক করে, পুলিশ-পুরসভা মিলে বিশেষ দলও গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, তার পরেও বেআইনি নির্মাণ রোখা যাচ্ছে না। পুর বিল্ডিং দফতরের এক আধিকারিকের কথায়,
‘‘বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ দুর্গাপুজোর পরে কমলেও একেবারে থেমে নেই।’’

এমনকি বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ পেয়ে নির্মাণকারীকে কাজ বন্ধের নোটিস পাঠালেও সেই সমস্ত নির্মাণের বেশির ভাগই পুরসভা ভাঙতে পারেনি বলেও অভিযোগ উঠেছে। পুর বিল্ডিং বিভাগের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘অভিযুক্তেরা নানা যুক্তি দিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন। ওই সমস্ত বাড়ি ভাঙার আদেশ না পেলেও কাজ বন্ধ করা হয়েছে।’’ তবে এ জন্য পুরসভা ও পুলিশের ‘নরম’ মনোভাবকেই দুষছেন পরিবেশকর্মী এবং পুরসভার প্রাক্তন আধিকারিকেরা। পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্তের প্রশ্ন, ‘‘বিপজ্জনক বাড়ির অভিযোগ পেলে কেবল নোটিস পাঠিয়েই খালাস পুরসভা। ক’টা বাড়ি ভাঙা হয়? নোটিসের আড়ালে অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্ত নির্মাণকারীরা বাড়ি তুলে ফেলেন। এ ক্ষেত্রে পুরসভা-পুলিশকে নজরদারি আরও বাড়াতে হবে।’’ কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন ডিজি (নগর পরিকল্পনা) দীপঙ্কর সিংহ আবার বলছেন, ‘‘১৯৮৯ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের দায়িত্বে থাকাকালীন প্রচুর বেআইনি বাড়ি ভেঙেছিলাম। তখন অভিযোগ পেলেই পুরসভার দল গিয়ে বেআইনি বাড়ি ভাঙত। এখন অভিযুক্ত আগেভাগে খবর পেয়ে আদালতে চলে যাচ্ছে।’’

Advertisement

করোনা-কালে লকডাউনের সুযোগে শহরের বুকে মাত্রাতিরিক্ত হারে অবৈধ নির্মাণ বাড়ায় জুলাইয়ে নির্দেশিকা জারি করেছিলেন পুর-কমিশনার বিনোদ কুমার। ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, কলকাতা পুর এলাকায় বেআইনি নির্মাণ হচ্ছে কি না, সে দিকে কড়া নজর রাখবেন প্রতিটি বরোর একজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারেরা। অভিযোগ পেলেই বাড়িমালিক বা প্রোমোটারকে আইনি নোটিস পাঠাতে হবে। তাতেও কাজ না হলে অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশই সার, বন্ধ হয়নি বেআইনি নির্মাণ। পরিবেশকর্মী সোমেন্দ্রমোহন ঘোষের অভিযোগ, ‘‘অল্প বৃষ্টিতেই কলকাতার জলমগ্ন হওয়ার অন্যতম কারণ বেআইনি নির্মাণ। পরিকল্পনাহীন এই সমস্ত নির্মাণের ফলে শহরের বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বেআইনি নির্মাণ নিয়ে প্রশাসন কঠোর না হলে ভবিষ্যতে শহরবাসীর বড় বিপদ!’’

পুরসভা সূত্রের খবর, পুজোর পরে বাইপাস সংলগ্ন গুলশন কলোনি, গুপ্তিপাড়া, কসবা, ট্যাংরা, তপসিয়া, তিলজলা, কড়েয়া, নারকেলডাঙা, গার্ডেনরিচ, একবালপুর ইত্যাদি এলাকায় বেআইনি নির্মাণের নিয়মিত অভিযোগ এসেছে। কিন্তু পুর ভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনের তরফে ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ জারি হয়ে গিয়েছে। ফলে অভিযোগ পেলেও নির্বাচন কমিশনের অনুমতি না নিয়ে কিছু করতে পারছে না পুরসভা। পুর বিল্ডিং দফতরের ইঞ্জিনিয়ারদের আশঙ্কা, ‘‘অনেকেই তাই ভোটের সুযোগ নিয়ে বেআইনি নির্মাণ করতে পারেন। অতীতে এরকম ভূরি ভূরি অভিযোগ মিলেছিল।’’ যদিও এ প্রসঙ্গে ওই দফতরের ডিজি অনিন্দ্য কারফর্মা বলেন, ‘‘বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে পুরসভা কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। নির্বাচনের সময়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ পেলে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়ে যা করা প্রয়োজন সেটাই করব।’’

আরও পড়ুন

Advertisement