বিষয়-ভিত্তিক কিউএস বিশ্ব র্যাঙ্কিং তালিকায় ভারতের উপস্থিতি আগের থেকে প্রকট হচ্ছে। আমেরিকা, চিন এবং ব্রিটেনের পরে সব থেকে বেশি সংখ্যক উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠান রয়েছে ভারতেরই। কিন্তু পরিকাঠামোগত সহায়তায় পিছিয়ে থাকা রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলির লড়াইটা ক্রমশ অসম হচ্ছে। তবে ২০২৬-এর কিউএস বিশ্ব র্যাঙ্কিং তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের মুখরক্ষা হচ্ছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হাত ধরে।
যাদবপুরের বিভিন্ন বিভাগগুলির মধ্যে সব থেকে এগিয়ে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ। ২০২৫-এর ২০১-২৫০ র্যাঙ্কিং ক্রম থেকে ১৫১-২০০ র্যাঙ্কিংয়ে গোত্রে তারা উঠে এসেছে। উন্নতি লক্ষণীয় যাদবপুরের অর্থনীতি বিভাগের (৪০১-৪৫০), মেক্যানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (৩০১-৩৫০), ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক (৩৫১-৪০০), কম্পিউটার সায়েন্স (৪০১-৪৫০), পদার্থবিদ্যা (৩৫১-৪০০) এবং অঙ্কে (৪০১-৪৫০)। রসায়নে একটু নেমেছে যাদবপুরের র্যাঙ্ক (৪০১-৪৫০)।
দর্শন (২০১-২২৫), ভাষাতত্ত্ব (৩০১-৩৫০) এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান (৩০১-৪০০) নতুন করে ক্রম তালিকায় ঢুকেছে। ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রযুক্তি (সার্বিক) (৪৫১-৫০০), কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (৩০১-৩৫০), ফার্মাসি ও ফার্মাকোলজি (৩০১-৩৫০), মেটিরিয়াল সায়েন্সেস (৩৫১-৪০০), ন্যাচারাল সায়েন্সেস (সার্বিক) (৪৫১-৫০০) বিভাগে যাদবপুরের র্যাঙ্ক স্থিতিশীল।
যাদবপুরের আইকিউএসি কো-অর্ডিনেটর অভিজিৎ চন্দ বলেন, “কিউএস র্যাঙ্কিংয়ের আওতায় বিভিন্ন বিষয় এবং যাদবপুরের বিষয়গুলির বিন্যাস পুরোটা মেলে না। তবে ওঁরা ওঁদের মাপকাঠি মতোবিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের মূল্যায়ন করেছেন।” তবে যাদবপুরের ইংরেজি বিভাগ আগে দেশের মধ্যে অগ্রণী থাকলেও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় এ বার কিছুটা এগিয়ে। অনেকে মনে করেন, এর কারণ পরিকাঠামোগত খামতি। যাদবপুরের ইংরেজি বিভাগেও ২০১৭ সালের পরে শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। এখন ২৫ জনের মধ্যে ১৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। তা ছাড়া সাম্প্রতিক অতীতে অধ্যাপকদের মধ্যে অনেক রথী-মহারথী অবসর নিয়েছেন।
গত বছর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক র্যাঙ্কিংয়ে যাদবপুর (৬৭৬) ছাড়াও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (৭৭১-৮০) ঠাঁই পেয়েছিল। তবে সার্বিক ভাবে চিন, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকংয়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিও ভারতের থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)