কলকাতার ইতিহাস শুধু শহরের অতীত নয়, এ শহরের আত্মপরিচয়ের দলিল। ব্রিটিশ-পূর্ব কলকাতা থেকে ইংরেজ শাসনের সময়কাল, আবার স্বাধীনতা-উত্তর মহানগরের বিবর্তন— এই দীর্ঘ পথচলার অজস্র তথ্য, নথি ও দলিল সযত্নে সংরক্ষিত রয়েছে কলকাতা পুরসভার আর্কাইভে। সেই ঐতিহ্যশালী আর্কাইভ এ বার ডিজিটাল রূপে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে উদ্যোগী কলকাতা পুরসভা। বৃহস্পতিবার পুরসভার মাসিক অধিবেশনে এই সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করেন ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী। তাঁর প্রস্তাবের উত্তরে মেয়র পারিষদ (সংস্কৃতি ও তথ্য) দেবাশিস কুমার জানান, টাউন হলে আন্তর্জাতিক মানের একটি ডিজিটাল গ্রন্থাগার গড়ে তোলার প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। সেখানে পুরসভার আর্কাইভে থাকা ডিজিটাল নথিগুলির কপিও সংরক্ষণ করা হবে, যাতে গবেষক, লেখক ও সাধারণ পাঠকেরা সহজে তা ব্যবহার করতে পারেন। এই কাজে প্রাথমিক একটি রিপোর্ট জমা পড়েছে, যা তৈরি করেছেন আইআইটি খড়্গপুরের বিশেষজ্ঞেরা।
অধিবেশনে অরূপ বলেন, ‘‘ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে কলকাতার সামাজিক-রাজনৈতিক ইতিহাসের বহু মূল্যবান নথি পুরসভার আর্কাইভে রয়েছে। তার অনেকটা ইতিমধ্যেই ডিজিটাইজ় করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলি এখনও মূলত আর্কাইভের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই ডিজিটাল কপিগুলি টাউন হলে রাখা হলে ইতিহাসচর্চার পরিসর আরও বিস্তৃত হবে।’’ এমন প্রস্তাবের জবাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত দেবাশিস কুমার বলেন, ‘‘এই প্রকল্পের জন্য আইআইটি খড়্গপুরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। প্রযুক্তিগত রূপরেখা তৈরির পাশাপাশি বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে গঠিত একটি কমিটি ইতিমধ্যেই তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই রাজ্য সরকারের কাছে অর্থ বরাদ্দের আবেদন জানানো হয়েছে।’’ বরাদ্দ মিললেই দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আশাবাদী কলকাতা পুরসভা।
আরও পড়ুন:
এই ডিজিটাল গ্রন্থাগার শুধু মহানগরের ইতিহাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাংলার গান, থিয়েটার, সিনেমা, খেলাধুলো-সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ধারার ইতিহাসকে আলাদা আলাদা বিভাগে তুলে ধরা হবে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও শহরের ঐতিহ্য আরও সহজে পৌঁছে যাবে—এমনটাই মনে করছে পুর প্রশাসন। ইতিহাসকে সংরক্ষণ করে ভবিষ্যতের দরজায় পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে, টাউন হল হয়ে উঠতে পারে কলকাতার স্মৃতিভান্ডারের এক নতুন ঠিকানা। অধিবেশনে উপস্থিত বিজেপি কাউন্সিলর বিজয় ওঝা পুরসভার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।