গত বছরের তুলনায় এ বছর সম্পত্তিকরদাতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে কলকাতা পুরসভায়। সম্প্রতি মেয়র ফিরহাদ হাকিম ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করেছেন, তাতেই এই ইতিবাচক চিত্র সামনে এসেছে। পুরসভার অর্থ দফতরের আধিকারিকদের মতে, ধারাবাহিক প্রশাসনিক তৎপরতা এবং মিউটেশন প্রক্রিয়ায় গতি আনার ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
বাজেটের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শহরের নথিভুক্ত সম্পত্তিকরদাতার সংখ্যা ছিল ৯ লক্ষ ৯৯ হাজার ৬৩১ জন। পুরসভা সূত্রের খবর, চলতি ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহেই সেই সংখ্যা ১০ লক্ষের গণ্ডি পেরিয়েছে। তুলনায় দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত করদাতার সংখ্যা ছিল ৯ লক্ষ ৬১ হাজার ১৬৬। তার আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ৯ লক্ষ ৩৪ হাজার ৯০৪। ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সংখ্যাটা ছিল ৯ লক্ষ ৪ হাজার ৪৮৩।
এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট, প্রতি বছর গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার নতুন করদাতা যুক্ত হয়েছেন পুরসভার নথিতে। অথচ কয়েক বছর আগেও এই বৃদ্ধির হার ছিল বছরে ১৫ থেকে ২০ হাজারের মধ্যে। পাঁচ বছর আগে যেখানে নথিভুক্ত সম্পত্তিকরদাতার সংখ্যা ছিল আনুমানিক আট লক্ষ থেকে সাড়ে আট লক্ষের মধ্যে, বর্তমানে তা ১০ লক্ষ ছাড়িয়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে বড় প্রশাসনিক সাফল্য বলেই মনে করছেন পুরসভার শীর্ষ আধিকারিকদের একাংশ। পুর প্রশাসনের দাবি, শহরের একটিও জমি বা সম্পত্তি যেন করের আওতার বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছিলেন মেয়র। বিশেষ করে যাদবপুর, টালিগঞ্জ, জোকা, বেহালা ও ঠাকুরপুকুরের মতো সংযুক্ত এলাকায় দ্রুত নগরায়নের ফলে গড়ে ওঠা নতুন আবাসন ও বাণিজ্যিক ভবনগুলিকে করের আওতায় আনতে বাড়তি নজর দেওয়া হয়েছে। যেখানে নতুন বিল্ডিং তৈরি হচ্ছে, সেখানে বিল্ডিং বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে মিউটেশনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্তার কথায়, “বছর বছর করদাতার সংখ্যায় কিছুটা বৃদ্ধি স্বাভাবিক। তবে গত পাঁচ বছরে বৃদ্ধির হার আগের তুলনায় অনেকটাই বেশি। নিয়মিত সমীক্ষা, নথি হালনাগাদ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার ফলেই এই সাফল্য এসেছে।” করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে পুরসভার রাজস্ব বাড়বে বলেই আশা প্রশাসনের। ফলে নাগরিক পরিষেবা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও আগামী দিনে আরও গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।