তারাতলার বিপর্যয়ের পর রাজ্য জুড়ে নির্মাণ নিরাপত্তা নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে কলকাতা-সহ ১৩টি পুরসভা এলাকায় সব ধরনের নির্মাণকাজ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে নির্মীয়মাণ ভবনগুলির অডিট প্রক্রিয়া শুরু করার আগে ওয়ার্ডভিত্তিক তালিকা তৈরির নির্দেশ দিলেন কলকাতা পুরসভার শীর্ষ কর্তৃপক্ষ। পুরসভা সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহ থেকেই এই কাজ শুরু হয়েছে।
পুরসভার বিল্ডিং বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোন ওয়ার্ডে কতগুলি নির্মীয়মাণ ভবন রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করতে। প্রশাসনের মতে, এই তালিকা তৈরি হয়ে গেলে পরবর্তী পর্যায়ে অডিটের কাজ দ্রুত এবং সুশৃঙ্খল ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক নির্মাণ এবং আবাসিক বহুতলের ক্ষেত্রে ছ’তলা বা তার বেশি উচ্চতার ভবনগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ অডিট কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভা এলাকায় নির্মীয়মাণ ভবনগুলি পরিদর্শনের জন্য বরোভিত্তিক যৌথ টিম গঠনে উদ্যোগী হয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এই দলে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের পাশাপাশি পূর্ত দফতর, কেএমডিএ, সিইএসসি, পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের প্রতিনিধিরা থাকবেন। যদিও যৌথ টিম গঠনের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। সেই কারণেই অডিট শুরু হওয়ার আগে নিজেদের প্রস্তুতি সেরে রাখতে চাইছে কলকাতা পুরসভা। সম্প্রতি বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে নির্মীয়মাণ ভবন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, সোমবার কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ফর্ম প্রকাশ করা হয়েছে। ওই ফর্মে ডেভেলপারদের নির্মাণ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্মাণের ধরন, অনুমোদন, প্রযুক্তিগত বিষয় এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সম্পর্কে একাধিক প্রশ্ন রাখা হয়েছে সেখানে। পুরসভার লক্ষ্য নিজেদের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে ডেভেলপারদের দেওয়া তথ্য মিলিয়ে সম্ভাব্য অসঙ্গতি চিহ্নিত করা।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র ডেভেলপারদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহেই সীমাবদ্ধ থাকছে না প্রশাসন। নির্মাণকারী সংস্থা, লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিল্ডিং সার্ভেয়ার (এলবিএস), আর্কিটেক্ট এবং স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগ করা হচ্ছে। তাঁদের কাছে সংশ্লিষ্ট বিল্ডিং প্ল্যান এবং অনুমোদনের নথিপত্র পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। ওই নথিগুলির সঙ্গে পুরসভার রেকর্ড মিলিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে যৌথ টিমের পরিদর্শন শুরু হওয়ার আগেই একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন রিপোর্ট প্রস্তুত করা যায়।
পুরসভার এক আধিকারিক জানান, মুখ্যমন্ত্রী নিজে নির্মাণ নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। সেই কারণে পুরসভার আধিকারিকেরাও নিজেদের দায়িত্ব পালনে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছেন। বর্তমানে নির্বাচিত পুরবোর্ড না থাকায় প্রশাসনিক দায়িত্ব আরও বেড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রশাসনের আশা, এই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে শহরের নির্মাণ ব্যবস্থাযর স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা এড়াতে নির্মাণ সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হবে।