বায়ুদূষণের প্রশ্নে দিল্লির সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে কলকাতাও। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের এক প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, কলকাতার বায়ুর গুণগত মান (একিউআই) প্রতি বছর খারাপ থেকে অত্যধিক খারাপ হয়ে পড়ছে। বিজেপি নেতা তথা দলের আইটি শাখার প্রধান অমিত মালবীয়ের কটাক্ষ, দিল্লির বায়ুর গুণগত মান জাতীয় সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে আসে, কিন্তু কলকাতার বায়ুদূষণ নিয়ে একটি শব্দও খরচ হয় না।
শীতকালে বাতাসের চলাচল কমে যাওয়া বায়ুর মান খারাপ থেকে অত্যধিক খারাপ হওয়ার একটি বড় কারণ। শমীকের প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিংহ গত তিন বছরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানিয়েছেন, মোটের উপরে ফি-বছর বায়ুদূষণ বাড়ছে কলকাতায়। ব্যতিক্রম অবশ্য গত বছরের জানুয়ারি। কলকাতায় শীত পড়লেই বায়ুর গুণগত মান উত্তরোত্তর খারাপ হওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩-২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে কলকাতার একিউআই ছিল যথাক্রমে ১৬৫, ১৫৯ ও ১৭৫। গত তিন বছরের ডিসেম্বর মাসে বাতাসের গুণগত মান দাঁড়িয়েছে ১৭৬, ১৫৯ ও ২০২। পরিবেশ মন্ত্রকের মতে, একিউআই ২০০ মানেই বাতাসের গুণগত মান অতি খারাপ পর্যায়ে চলে যাওয়া। যা শিশু ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রধান কারণ। অমিতের কটাক্ষ, ‘‘কলকাতার বাতাস যে বিষতুল্য, তা আর কোনও অভিযোগ নয়, বরং সরকারি পরিসংখ্যানেই উঠে এসেছে।’’ তবে গত বছরের জানুয়ারিতে বায়ুর মান আগের দু’বছরের থেকে শুধরেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। ২০২৩ ও ’২৪ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতার একিউআই ২২৫ থাকলেও, গত জানুয়ারিতে তা কমে দাঁড়ায় ১৭২-এ।
পরিবেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, কলকাতার বায়ুদূষণের পিছনে অন্যতম কারণ হল বাতাসে ভেসে থাকা ধুলো। বাতাসে ভাসমান সূক্ষ ধূলিকণা পিএম-১০ রয়েছে, তার ৪৩ শতাংশের জন্য দায়ী শহরের ধুলো। বাতাসে ভাসমান অতি সূক্ষ ধূলিকণা পিএম ২.৫ রয়েছে, তার ২৯ শতাংশের পিছনে দায়ী কলকাতাবাসীর রান্নাঘর। প্রায় ২০ শতাংশ বায়ুদূষণের জন্য দায়ী শিল্পায়ন ও গাড়ির ধোঁয়া। অমিতের আক্ষেপ, ‘‘তৃণমূলের সাংসদেরা দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ে সংসদে আলোচনা চান, অথচ কলকাতার বায়ুদূষণ প্রসঙ্গে নীরব!’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)