Advertisement
E-Paper

কলকাতার কড়চা: মা আসতেন বিদেশ থেকে

সময়টি মোটামুটি ১৮৮০-১৯৩০। রবি বর্মার ছবি যখন জার্মানিতে প্রিন্ট হতে যায় তা দেখেই এই ধরনের মূর্তি নির্মাণ শুরু বলে অনেকে মনে করেন।

শেষ আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০১৮ ০০:০৫

সে কালে জার্মানি থেকে সপরিবার আসতেন মা দুর্গা! আসলে তখন দেবদেবীর মূর্তি বা ছবি ঘরে রাখবার চল ছিল। মেয়েদের ছোট বেলায় বিয়ে হত, তখন খেলনাপুতুল, বিশেষত ঠাকুর-পুতুল সঙ্গে দিয়ে দেওয়া হত। এই বাংলায় ছাঁচ হয়ে বিদেশ থেকে তৈরি হয়ে আসত পোর্সেলিনের মূর্তি। তার রং-জেল্লা ছিল দেখবার মতো। সময়টি মোটামুটি ১৮৮০-১৯৩০। রবি বর্মার ছবি যখন জার্মানিতে প্রিন্ট হতে যায় তা দেখেই এই ধরনের মূর্তি নির্মাণ শুরু বলে অনেকে মনে করেন। অবশ্য রবি বর্মার আগেই বামাপদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছাপা হতে গিয়েছিল জার্মানি এবং অস্ট্রিয়ায়। তবে এই মূর্তিগুলি তৈরি শুরু হয় সম্ভবত তারও আগে। সংগ্রাহক অপূর্বকুমার পান্ডার মতে, এঁদের ছবিগুলি থেকে রেফারেন্স পেয়ে বিদেশে সেগুলিকে কাজে লাগানো হয়। সে কারণেই এই শিল্পীদের কাজের আদল মেলে মূর্তিতে। দুর্গা, কালী, সরস্বতী, লক্ষ্মী, মহাদেব, গণেশ, কৃষ্ণ এবং শিব— এঁদের মূর্তি বেশি পাওয়া যায়। বিশেষ করে দুর্গার মূর্তি পাওয়া গিয়েছে নানা ধরনের (সঙ্গে তারই একটি)। মূল শিল্পী হিসেবে সত্যচরণ দাসের নাম পাওয়া যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিল্পীর নাম নেই। এই শিল্পে ক্রমে জার্মানির সঙ্গে উঠে আসে জাপানের নাম। দু’টি দেশের মূর্তির বৈশিষ্ট্য ছিল আলাদা। জাপানে গ্লেজ়ড পোর্সেলিনে কাজ হত, অন্য দিকে জার্মানিতে পেরিয়াল, বিস্কিট বা বিস্ক পোর্সেলিন এবং মিশ্র পদ্ধতিতেও কাজ হত। আবার, লন্ডনের অর্ডার জার্মানিতে তৈরি হচ্ছে, এমন দৃষ্টান্তও পাওয়া যায়। মূর্তির নীচে বা পাশে সিল বা স্ট্যাম্প তার সাক্ষ্য দেয়। উনিশ শতকের শেষে এখানে মাটিতে কাজ হত, কৃষ্ণনগর তার প্রমাণ। শুরুতে মূর্তিতে জয়নগর বা কৃষ্ণনগরের ছাপ থাকলেও পরবর্তীতে ইউরোপীয় ছাপ পড়তে শুরু করে। বিশেষত, মুখ এবং পোশাকে। পরে দেশীয় পটারিতে ভাল মূর্তি তৈরি শুরু হলে কমে আসে আমদানি। এখানে কাজ শুরু করে দেয় ক্যালকাটা পটারি এবং হিন্দুস্থান পটারি ওয়ার্কস। যাদবপুরে অপূর্বর সংগ্রহশালায় সংগৃহীত হয়েছে বাঙালির দৈনন্দিনের ব্যবহার্য নানাবিধ উপাদান, তারই একটি অংশ এই পোর্সেলিনের মূর্তি। প্রয়াত পিতা তারাপদ পান্ডা এবং দিদি ছায়া— দুইয়ে মিলে ‘তারার ছায়ায়’, ২০১১-য় এই সংগ্রহশালার যাত্রা শুরু। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে এমন সংগ্রহশালা বাঙালির গর্ব।

মিনিয়েচার

তিনি মিনিয়েচার শিল্পী। ২০০৪ সাল থেকে দুর্গা প্রতিমা গড়া শুরু করেন। এ যাবৎ গড়েছেন চোদ্দোটি। এ বছর তিনি সম্পূর্ণ খড় দিয়ে ১২ ইঞ্চির প্রতিমা বানিয়েছেন (সঙ্গের ছবি)। তাঁর মোট শিল্পকর্মের সংখ্যা বাইশটি। সেখানে সরস্বতী যেমন আছেন, তেমনি আছেন জিশু খ্রিস্টও। প্রত্যেকটিরই উচ্চতা ১ থেকে ১২ ইঞ্চির মধ্যে। বরানগর বনহুগলির দে বাড়ির বাসিন্দা হরিসাধন বিশ্বাস ফাইন আর্টস নিয়ে ১৯৮২ সালে ইন্ডিয়ান আর্ট কলেজ থেকে পাশ করেন। এর পর বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ করার সময়ই তাঁকে পেয়ে বসে মিনিয়েচারের নেশা। হরেক উপকরণ দিয়ে তিনি মিনিয়েচার বানিয়েছেন। মাটি ছাড়াও বোতলের মধ্যে কাগজ দিয়ে, গেঞ্জির কাপড় দিয়ে, রাবার পাইপ দিয়ে, তেজপাতা, ফুলের পাপড়ি, পেঁয়াজের খোসা, ইলেকট্রিক তার, ময়দা, ট্যাবলেট দিয়েও।

শারদীয়

সে ঢাকও নেই, ঢাকিও অবলুপ্তির পথে। ঢাকের খোল এখন ধাতুর পাতে তৈরি, আর ছাওয়া সিন্থেটিক ফাইবারে। ‘হরপ্পা/ লিখন চিত্রণ’ (সম্পা: সৈকত মুখোপাধ্যায়) পত্রিকার শারদীয় সংখ্যায় লিখেছেন সমতা মুখোপাধ্যায়। দুর্গাকে কেন্দ্র করে বিচিত্র সব বিষয়, আর তেমনই পাতায় পাতায় আশ্চর্য ছবির সম্ভার! শুরুতেই সুধীর চক্রবর্তীর স্বাদু স্মৃতিচারণ, প্রণতি মুখোপাধ্যায়ের কলমে ক্ষিতিমোহন সেনের সর্বরূপময়ী দেবীর ভাবনা, ঠাকুরদালান নিয়ে দেবাশিস বসু, অশোককুমার দাসের ‘মুঘল চিত্রকলায় দেবী’, অসিত পালের ‘কাঠখোদাইয়ে দুর্গা’, মূর্তিরূপ, পুরোহিত, পুজোর ফর্দ, রুশি বই, পুজোর ছবি, বিজ্ঞাপন, আগমনি গান, কত কী। সঙ্গে আরও অরূপরতন— গ্রিক রূপকথা নিয়ে হীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, সুশোভন অধিকারীর ব্রতের আলপনা, শ্যামল বেরার লক্ষ্মীপুরাণ, অর্ণব নাগের কুলদেবতার কুলুজি আর পান্ডার খাতা নিয়ে শেখর ভৌমিকের অনুসন্ধান। কিছু মুদ্রণপ্রমাদ বাদ দিলে অনবদ্য শারদীয়।

পুজোর গান

অল্প বয়স থেকেই তিনি কলকাতার দুর্গাপুজোর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাইতেন। গেয়েছিলেন উত্তমকুমার আয়োজিত দুর্গাপুজোর অনুষ্ঠানেও। যখন তাঁর একুশ, পুজোয় প্রকাশিত হল প্রথম বাংলা গানের রেকর্ড। এক পিঠে ‘জিনিসের দাম বেড়েছে’, আর এক পিঠে ‘মনে মনে কত দিন’। কথা মুকুল দত্তের, সুর কিশোরকুমারের। সেটা ছিল পুজোর গানের ইতিহাসে মাইল স্টোন। এ বার পঁয়তাল্লিশ বছর পূর্ণ হল দুর্গাপুজোয় কিশোর-পুত্র অমিতকুমারের গানের। শুধু তা-ই নয়, শতদল রায়ের মিউজ়িক অ্যারেঞ্জমেন্টে শৌভিক মজুমদারের লেখায় ও রানা সরকারের সুরে ও পরিচালনায় মহালয়ায় আইএমএক্সইন্ডিয়া-র উদ্যোগে মুক্তি পেল তাঁর প্রথম গাওয়া পুজোর আগমনি গানও— ‘মা গো তোমার আসার আশায় দিন কাটে না আর’।

ব্যাঘ্রবাহিনী

২০০৯-এ সুরেন্দ্র ভবনে (হাতিবাগান কুণ্ডুবাড়ি) শুরু হয়েছিল ব্যাঘ্রবাহিনী দুর্গা-র পুজো। পুজো যত না, তার চেয়েও বেশি আনন্দের উৎসব। সংস্কারের আগল ভেঙে সকলকে সঙ্গে নিয়ে প্রতি বছর পালিত হয় এই শারদোৎসব। দশে পা দিচ্ছে এ বছর। ফলস্বরূপ প্রকাশ পেল পুস্তিকা দশদিশি। তত্ত্বাবধায়ক জয়দীপ ও সুচন্দ্রা কুণ্ডু জানিয়েছেন, গত দশ বছরে যাঁদের পাশে পেয়েছেন তাঁরাই ‘লেখায়-রেখায়-ছবিতে’ ভরিয়ে তুলেছেন পুস্তিকাটি। এতে এ পুজোর উৎসও নির্দেশ করেছেন সুচন্দ্রা: ‘‘দেবী দুর্গা বাংলা লোকবিশ্বাসে বিভিন্নরূপে বিরাজমান।... সুন্দরবন অঞ্চলের দেবীপালাতেও সে লৌকিক দুর্গা, ব্যাঘ্রবাহিনী।’’ দেবী-সংক্রান্ত বিবিধ রচনা, আঁকা ছবি, স্থিরচিত্র আর চমৎকার মুদ্রণ পারিপাট্যে বিন্যস্ত দশদিশি-তে গুণী মানুষজনের স্বাক্ষর।

পুজোর বই

প্রথমে বাড়ির পুজো, তার পর বারোয়ারি পুজো, আর সব শেষে এসেছে সর্বজনীন পুজো। বারো ইয়ার বা বারো জন বন্ধুর উদ্যোগে বারোয়ারি দুর্গাপুজো হত, আর সর্বসাধারণের চাঁদায় সর্বজনীন। বর্তমানে পুজোর নামে ‘বারোয়ারি’ আর ‘সর্বজনীন’ মিলেমিশে একাকার। বিতর্ক আছে এদের শুরুর সময়কাল নিয়ে। এই তর্কবিবাদের মধ্যেই বিপ্লব দাশের বারোয়ারি দুগ্গা (বোধিসত্ত্ব) ও গৌতম বাগচির বিপ্লবতীর্থ সিমলা ব্যায়াম সমিতি ও কলকাতার প্রথম সার্বজনীন দুর্গাপুজো (সিমলা ব্যায়াম সমিতি) শীর্ষক বই দু’টি প্রকাশিত হয়েছে। বারোয়ারি দুগ্গা বইটিতে দুর্গাপুজোর ইতিবৃত্ত, পুজোর বিবর্তন, কলকাতার দুর্গোৎসব, বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো, নেতা-কর্পোরেটের থিম পুজো, সাত পুজো পাগলের গপ্পো, পুজোর আর্ট, ব্র্যান্ডের ভারে অসহায় দুর্গা, সম্প্রীতির পুজো, কলকাতার আড্ডাবাজ, হুতোমের চোখে বর্তমান কলকাতার দুর্গোৎসবের মতো বিষয় বহু ছবি-সহ সংকলিত হয়েছে। আর দ্বিতীয় বইটির নাম শুনলেই মালুম হবে স্বদেশি আন্দোলনের আখড়া। বিপ্লবী অতীন্দ্রনাথ বসু কী ভাবে এই সমিতি গড়ে তুলেছিলেন, কে তাঁকে শুনিয়েছিলেন চরৈবেতি মন্ত্র? কী ভাবে তিনি বৈপ্লবিক দীক্ষায় তৈরি করেছিলেন বাংলার তরুণ সমাজকে, কী ভাবেই বা নির্মাণ করেছিলেন তাঁদের চরিত্র? এই সব বিস্মৃত কাহিনির পাশাপাশি দুর্গাপুজো সূচনার কথা, মূল নথিপত্র ও অনেক দুর্লভ ছবি-সহ।

টেরাকোটা

পুজোর পর প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে গুরুসদয় মিউজ়িয়ামে রাখা হবে, এই শর্তে বছর সাতেক আগে লেক গার্ডেন্স পার্কে টেরাকোটার ১৬ ফুট দুর্গা প্রতিমা গড়েছিলেন। স্থায়ী ভাবে সংরক্ষিত হবে বলে মন উজাড় করে কাজ করেছিলেন। কিন্তু পুজো শেষ হতেই কর্মকর্তাদের অন্য সুর, তাঁরা টেরাকোটার মূর্তি বিসর্জনেই তৃপ্ত হলেন। কথার খেলাপে শিল্পীমন ভারাক্রান্ত, ঠিক করলেন সংরক্ষণের ব্যবস্থা না হলে আর বারোয়ারির প্রতিমা গড়বেন না। পূর্ব মেদিনীপুরের কৃষক পরিবারে জন্ম, মাটি তাঁর রক্তে। শিল্পী রামকুমার মান্না এ বার সাত ফুটের দুর্গা গড়লেন রাধিকা সিংঘি-র জন্য, যা পুজোর পর বালিগঞ্জ মেফেয়ার রোডের বাড়ির অন্দরেই শোভা পাবে (সঙ্গের ছবিতে নির্মাণপর্বে শিল্পী)। ‘‘প্রকৃতিতে ঈশ্বর সৃষ্ট উপাদান দিয়ে ঈশ্বর সেবায় লিপ্ত থাকেন এক জন শিল্পী, তাঁর সৃজন দর্শক মনে স্থান পেলেই হয় পরম প্রাপ্তি”, অকপট স্বীকারোক্তি শিল্পী রামকুমারের।

সরা-চিত্র

দেবীর আগমনে বাংলার আবহমান ঐতিহ্য আর তার পরম্পরাকে বাঙালির মনে-মননে সদাজাগ্রত রাখতে শিল্পীদের আঁকা সরা নিয়ে এক প্রদর্শনীর আয়োজন। ঐতিহ্যকে স্মরণ করে শারদোৎসবে দুর্গাবন্দনার উপচার হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে সরাকেই। গত বছরেও হয়েছিল এ প্রদর্শনী, সম্ভবত এ শহরে সেই প্রথম এমন আঁকা সরার প্রদর্শনী— আয়োজক দেবভাষা। মহালয়ার দিনে শুরু হয়েছে প্রদর্শনীটি। দেবভাষা বই ও শিল্পের আবাসে (৯/২ ফার্ন রোড, গড়িয়াহাট), সেখানে উদ্বোধনী সন্ধ্যায় সরা আঁকলেন শুভাপ্রসন্ন। রবীন মণ্ডল, রামানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় (সঙ্গে তাঁরই আঁকা একটি সরা), সনৎ কর, গণেশ হালুই, লালুপ্রসাদ সাউ, যোগেন চৌধুরী প্রমুখের আঁকা সরা নিয়ে এই প্রদর্শনী। ২৮ অক্টোবর অবধি চলবে, প্রতি দিন ১-৯টা।

দোস্তি কা উৎসব

সংখ্যাগুরুর উৎসব ও আচার সম্পর্কে সহজাত ভাবেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায় জেনে যায়। সংখ্যাগুরুর উৎসব সর্বজনীন রূপ ধারণ করে, তাই আলাদা করে সংখ্যালঘু জনকে উৎসবে শামিল করার কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ে না। অথচ আব্দুলের মেয়ে জাহান স্কুল থেকে ফিরে কাশফুল ও ত্রিনয়ন আঁকছে বা মাজিদের ছেলে বিশ্বকর্মা পুজোর দিন ওর সব ক’টা খেলনা গাড়িতে গ্যাঁদাফুল দিয়ে বলে পুজো হয়েছে। শিশুদের কাছে ধর্মাচরণের থেকে বেশি গুরুত্ব পায় উৎসবের অনাবিল আনন্দ। রাধানাথ চৌধুরি রোডের সানরাইজ় এস্টেট পূজা কমিটি ও ‘প্রতিবেশীকে চিনুন’-এর যৌথ উদ্যোগে মহাষ্টমীর দিন (১৭ অক্টোবর) সাড়ে ছ’টায় ‘দোস্তি কা উৎসব’-এর আয়োজন করা হয়েছে। রাজাবাজার, মেটিয়াবুরুজ ও পার্ক সার্কাসের বিভিন্ন মুসলমান পরিবার থেকে অনেকেই আসবেন প্রতিবেশীর বড় উৎসবে শামিল হতে। স্বাভাবিক মেলামেশার মধ্যে দিয়ে বন্ধুত্বের জাল বিস্তার করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

ফেলে আসা দিন

কামারহাটি পুরসভার আড়িয়াদহ বিবেকানন্দ সঙ্ঘের এ বারের থিম ‘আধুনিকতার বৈভবে, ফিরে দেখা শৈশবে’। মূল ভাবনা দেবব্রত রায়চৌধুরীর এবং সৃজনে শিল্পী অপূর্ব সাধন। রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত এই শিল্পীর হাত ধরে এই মণ্ডপে থাকছে ফেলে আসা শৈশবের পিট্টু, ডাংগুলি, গুলি, লুডো, লাফান-দড়ি আরও কত কী! এমনকি ওঁরা খুঁজে এনেছেন বায়োস্কোপ, চিনির রঙিন ঘড়ি-গাড়ি তৈরি করা বিক্রেতাকেও। এমনি ভাবে মণ্ডপের জন্য পুরনো দিনের ঘড়ি খুঁজতে বেরিয়েছিলেন ওঁরা। খুঁজতে খুঁজতে পৌঁছে যান রবি রায়ের ঘড়ির দোকান, নবীন পল্লির রায় ওয়াচ কোং-এ। অতঃপর রায়বাবুর সংগ্রহ দেখে বিস্ময়ে হতবাক উদ্যোক্তারা। ‘শরতে হেমন্ত নেই’— এই ছিল শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে এক দৈনিকের শিরোনাম। এমনই স্মরণীয় নানা ঘটনার দৈনিক সংবাদপত্র সযত্নে জমা রয়েছে তাঁর কাছে, অধিকাংশই আনন্দবাজার। সঙ্গে নানাবিধ ঘড়ি তো আছেই। পুজোর খোঁজে বেরিয়ে খুঁজে পাওয়া গেল এমন এক সংগ্রাহককে। কী হবে এগুলি জমিয়ে! রবি রায় হেসে বলেন, ‘‘ফেলে আসা দিনের স্মৃতি খুঁজে বেড়াই আর কী!’’

মৃৎশিল্পী

স ম্মান ও শিল্পীর স্বাধীনতা বজায় রাখা, আর লোভে পড়ে আপস না করে মাথা উঁচু করে বাঁচাতেই আনন্দ, এমনটাই বলতেন বাবা নন্দলাল পাল। তাই শিল্পদক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে মৃৎশিল্প সাধনায় মগ্ন থাকেন তিনি। ১৯৭২ সালে সারদাচরণ এরিয়ান ইনস্টিটিউশনে ক্লাস এইটে পড়ার সময় বাবার সঙ্গে মৃৎশিল্পের কাজে ওতপ্রোত যোগ, তবে রথ, ঝুলন, চড়ক মেলার জন্য মাটির পুতুল তৈরি করা শুরু শৈশব থেকেই। কুমোরটুলির মৃৎশিল্পী স্বপন পাল বরাবরই তাঁর শিল্পসত্তার প্রতি সজাগ থেকে সৃজন করেছেন দেবদেবীর মূর্তি। ইঁদুর দৌড়ে না শামিল হয়ে নিবিষ্ট থেকেছেন নিজস্ব শিল্পচিন্তার বাস্তবায়নে। থিমপুজোর জন্ম থেকেই পরিকল্পকদের পছন্দের শিল্পী। ১৯৯৬-২০০৮ এর মধ্যে বিষয় ভাবনার সাযুজ্যে প্রতিমা গড়ে সাত বার এশিয়ান পেন্টস শারদ সম্মান পেয়েছেন। শিল্পীজীবনে এ পর্যন্ত পঞ্চাশের বেশি শারদ সম্মাননায় ঋদ্ধ তাঁর ঝুলি। পুরস্কারের থেকে স্বকীয় সৃজনশীলতায় দর্শকহৃদয় জয় করাতেই বেশি আনন্দ পান। প্রতিমা শিল্পী হিসেবে ‘নন্দলাল পাল এন্ড সন্স/ স্বপন পাল’ এমনটাই জানান, তবে আজকাল চুক্তিতে শিল্পীদের দিয়ে কাজ করিয়ে শিল্পীর নাম আড়াল করা তাঁর অপছন্দের, কারণ সে ক্ষেত্রে প্রতিমা সৃজনের জন্য ক্লাবের পুরস্কারপ্রাপ্তি ঘটলে, প্রতিমা শিল্পী প্রাপ্য সম্মানে বঞ্চিত হন। অর্থের বিনিময়ে সম্মানহানিকে প্রশ্রয় দিতে নারাজ এই মৃৎশিল্পী।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy