বিধানসভা নির্বাচন হতে এখনও মাসকয়েক বাকি। সেই ভোটেকত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে, কিংবা রাজ্যের তরফেকত পুলিশ থাকবে, তা এখনও চূড়ান্ত নয়। তবে, ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন রাজ্য পুলিশের কর্তারা। কলকাতা পুলিশ এলাকায় নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী এলে তারা কোথায় থাকবে এবং সেই জায়গাগুলি কী অবস্থায় রয়েছে, তার খোঁজ নিয়ে রিপোর্ট পাঠানোর জন্য থানাগুলিকে লালবাজার নির্দেশ দিয়েছে বলেসূত্রের খবর।
চলতি সপ্তাহে লালবাজারের পাঠানো ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের জন্য আসা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে যেখানে রাখা হয়েছিল, সেই জায়গাগুলি ঠিক রয়েছে কিনা বা থাকার মতো অবস্থায় রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দিতে হবে। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে ওই রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী এলে তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হয় থানাগুলিকে। মূলত স্কুল, কলেজ, ধর্মশালা, অতিথিশালায় তাদের থাকার ব্যবস্থা করে থাকেন থানার আধিকারিকেরা।
পুলিশ জানিয়েছে, গত দু’দশক ধরে কমিশনের নির্দেশে রাজ্যের লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীমোতায়েন ছিল। বিগত কয়েকটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে বাহিনী মোতায়েনের নকশা তৈরি করে থাকে কমিশন। কোথায়, কত বাহিনী রাখা হবে, তা-ও নির্বাচন কমিশনই ঠিক করে। গত বার, অর্থাৎ, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কলকাতা পুলিশ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল ২৪৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। সূত্রের দাবি, এ বারও বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতা পুলিশ এলাকার জন্য অতসংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী আসবে, সেটা ধরে নিয়েই লালবাজার প্রস্তুতহতে শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। আর সেই জন্যই নির্বাচন ঘোষণার অনেক আগেই থানাগুলির কাছ থেকে বাহিনীর থাকার জায়গা সম্পর্কে জেনে নিল লালবাজার। উল্লেখ্য, ওই বছর গোটা রাজ্যের নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য এসেছিল ১১৭৮কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। আর ২০২১-এর বিধানসভা ভোটের জন্য গোটা রাজ্যে মোতায়েন করাহয়েছিল প্রায় ৯৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। লালবাজার সূত্রের খবর, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কলকাতা পুলিশ এলাকায় ছিল ৫১৫৮টি বুথ এবং ১৯৪০টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র। যা এ বার বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করছেন পুলিশকর্তারা।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর থাকার ব্যবস্থার প্রস্তুতির সঙ্গেই লাইসেন্সযুক্ত অস্ত্রের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। সূত্রের দাবি, কত লাইসেন্সযুক্ত অস্ত্র রয়েছে, তার বিধানসভা এলাকা-ভিত্তিকতালিকা তৈরি করার জন্য থানাগুলিকে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, লাইসেন্সযুক্তঅস্ত্র কাদের নামে রয়েছে, লাইসেন্স নবীকরণ কবে করা হয়েছে-সহ বিস্তারিততথ্য থানাগুলিকে পাঠাতে বলা হয়েছে। পুলিশকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী ভোটের সময়ে ওইঅস্ত্র পুলিশের কাছে জমা দিতে হয়। তারই প্রথম পর্যায়ে ওই লাইসেন্সযুক্ত অস্ত্রের বিষয়ে খোঁজখবর শুরু করে তথ্য আপডেট করল কমিশন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)