প্রতিবেশী বাংলাদেশে নির্বাচনকে ঘিরে অস্থির পরিস্থিতি। অন্য দিকে, মাত্র তিন সপ্তাহ বাদে শহরে বসবে টি-২০ বিশ্বকাপের আসর। এইদু’টি বিষয় মাথায় রেখে শহরে আসন্ন প্রজাতন্ত্র দিবসের নিরাপত্তায় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেলালবাজার। নিরাপত্তা ক্ষেত্রে কোনও খামতির ‘দাগ’ যাতে না লাগে, তার জন্য জ়োন ভাগ করে রেড রোডের নিরাপত্তারবন্দোবস্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি, শহরের বাকি স্থানগুলির জন্যও পথে নামছে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত বাহিনী।
আগামী মাসের গোড়ায় ভারতে বসতে চলেছে টি-২০ ক্রিকেট বিশ্বকাপের আসর। তাতে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে একাধিকম্যাচ রয়েছে। বিশ্বকাপের খেলা ঘিরে প্রচুর বিদেশি সমর্থক কলকাতায় আসবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তার আগে আছে প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান। ২৬ জানুয়ারি সেই উপলক্ষে রেড রোডে হয় কুচকাওয়াজ। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় পুলিশের বিভিন্ন বাহিনী অংশ নেয়।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও একাধিক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন। শহরে এই দু’টি বড় মাপের অনুষ্ঠান ঘিরে যাতে কোনও ভাবেই নিরাপত্তার ফাঁক না থাকে, তার জন্য আগে থেকেই সতর্ক হচ্ছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান উপলক্ষে পুরো রেড রোডকে একাধিক জ়োনে ভাগ করার পরিকল্পনা করেছে লালবাজার। ১৫টির বেশি জ়োনে সংশ্লিষ্ট এলাকাকে ভাগ করে প্রতিটি এলাকারদায়িত্বে রাখা হবে এক জন করে উপ-নগরপাল পদমর্যাদার পুলিশকর্তাকে। তাঁর অধীনে থাকবেন একাধিক সহকারী কমিশনার এবং ইনস্পেক্টর। এ ছাড়া, নজর মিনার থেকে লক্ষ রাখবেন সশস্ত্র পুলিশকর্মীরা। বম্ব স্কোয়াড এবং হেভি রেডিয়ো ফ্লাইং স্কোয়াডকেও তৈরি রাখা হবে। কুইক রেসপন্স টিমও (কিউআরটি) তৈরি রাখারপরিকল্পনা করা হয়েছে বলে লালবাজার সূত্রের খবর। প্রসঙ্গত, প্রজাতন্ত্র দিবসে আলিপুর চিড়িয়াখানা, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল-সহ শহরের দ্রষ্টব্য স্থানগুলিতেও ভিড় হয়। সেই ভিড়ের নিরাপত্তায় ওই সব এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশকর্মী রাখা হবে।
প্রজাতন্ত্র দিবসে নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করার ক্ষেত্রে পুলিশকর্তাদের ভাবাচ্ছে বাংলাদেশের অস্থির পরিস্থিতি। সে দেশের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন নানাহিংসাত্মক ঘটনা সামনে আসছে। সেই সঙ্গে সেখানে ভারত-বিদ্বেষ বাড়ছে বলেও সূত্রের খবর। এই বিদ্বেষকে কাজে লাগিয়ে জঙ্গি গোষ্ঠী সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। এ দেশে ঢুকে জঙ্গিরা যাতে কোনও হামলাচালাতে না পারে, সেই ভাবনাও শহরের নিরাপত্তা-পরিকল্পনায় রাখছেন পুলিশকর্তারা। লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রজাতন্ত্রদিবসের এক সপ্তাহ আগে থেকে নাকা তল্লাশিতে জোর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিটি থানা এবং ডিভিশনকে। শহরেঢোকা-বেরোনোর রাস্তাগুলিতে তল্লাশির উপরে জোর দিতে বলা হয়েছে। শহরের হোটেলগুলিতেও নজর রাখতে নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার। এই কয়েক দিন হোটেলে অতিথিরা কোথা থেকে, কত দিনের জন্য এবং কী কাজেআসছেন, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। থানার পাশাপাশি লালবাজারের বিশেষ দল এর উপরে নজর রাখবে।
এক পুলিশকর্তা বলেন, ‘‘নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক না রাখতে ইতিমধ্যেই একাধিক বৈঠক করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশ সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবংদফতরের কাছে পাঠানো হয়েছে। কলকাতা পুলিশের বাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)