সাতসকালে পাইকপাড়ায় বিস্ফোরণ। স্থানীয় একটি ক্লাবে পর পর বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। বিস্ফোরণের অভিঘাতে ক্লাবের টিনের চাল উড়ে চলে যায় পাশের ছ’তলা বাড়ির ছাদে। ক্লাবঘরে আগুনও লেগে গিয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়েছে দমকল। আগুন নেবানোর চেষ্টা চলছে। কী থেকে বিস্ফোরণ, এখনও তা স্পষ্ট নয়। তবে স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, ক্লাবের ভিতর বোমা রাখা ছিল। একাধিক বিস্ফোরণে পাইকপাড়া এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর নেই।
ক্লাবঘরটি বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে গিয়েছে দেওয়াল। ভিতরে বোমা পড়ে থাকতেও দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁরা দাবি করছেন, এলাকার কেউ কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। প্রোমোটিংয়ের জন্য ক্লাবটির উপর কারও কারও নজর ছিল। এলাকার মানুষ চাইছেন কারা এই কাণ্ড ঘটালেন, কেন ঘটালেন, পুলিশ তা খুঁজে বার করুক এবং এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘আমরা সকলে ঘুমোচ্ছিলাম। সকাল ৬টা ১৫ মিনিট নাাগদ খুব জোরে শব্দ শুনতে পাই। ছুটে বাইরে বেরিয়ে এসে দেখি, পাশের বাড়িতে আগুন জ্বলছে। সামনের একটি বাড়ি থেকে ২০-২৫ বালতি জল দেওয়া হয়। আসলে এটা একটা ক্লাব ছিল। অনেক দিন ধরে পরিত্যক্ত। আমরা চাই, এটা কে করল তা পুলিশ খুঁজে বার করুক। না হলে যে কোনও মুহূর্তে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটে যাবে। আমরা বাচ্চাদের বাড়ি থেকে বেরোতে দিতেও ভয় পাচ্ছি।’’ ক্লাবের সেক্রেটারি বলেন, ‘‘ক্লাবটার উপর অনেক দিন ধরে অনেকের নজর রয়েছে। ক্লাবটা তারা নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমি এটুকুই বলব, যাদের স্বার্থ আছে, তারাই এটা করেছে। পুলিশ খুঁজে বার করুক।’’ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এলাকায় পুলিশ পিকেট এবং সিসি ক্যামেরা বসানোর দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়েরা। বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ এবং দমকল। চিৎপুর থানার পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
কলকাতায় গত কয়েক দিন ধরে একাধিক বোমাতঙ্কের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের হুমকি দিয়ে উড়ো ইমেল এসেছে নগরদায়রা আদালত, পাসপোর্ট অফিস এবং ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে। পুলিশ তার তদন্ত করছে। এর মধ্যেই পাইকপাড়াতে বিস্ফোরণ ঘটল। শনিবার সকালে সেখানে পৌঁছে গিয়েছে বম্ব স্কোয়াড। তল্লাশি চলছে। অভিযোগ, আরও কিছু তাজা বোমা সেখানে রয়েছে। বম্ব স্কোয়াড সেগুলি খতিয়ে দেখছে। এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। ক্লাবের ধারেকাছে কাউকে যেতে নিষেধ করেছেন আধিকারিকেরা।