একটা কিংবা দু’টো নয়। আগাগোড়া সমস্ত প্রশ্নই হুবহু এক! নিট পরীক্ষায় রসায়নের প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে তেমনটাই মনে হয়েছিল পরীক্ষার্থীদের। কারণ, ওই প্রশ্ন ‘গেজ় পেপার’ অর্থাৎ সম্ভাব্য প্রশ্নপত্রে তাঁরা পরীক্ষার অনেক আগেই দেখেছেন। কিন্তু সম্ভাব্য প্রশ্ন মানে তো অবিকল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নয়। তা হলে সেই প্রশ্ন হুবহু মিলে গেল কী করে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি ধরা পড়ে নিট-এর নিয়ামক সংস্থা এনটিএ-র কাছে। যার জন্য আরও এক বার এনটিএ-র দিকেই ঘুরেছে অভিযোগকারীদের আঙুল।
অভিযোগ উঠেছে, রসায়নের প্রশ্নপত্র ফাঁসের নেপথ্যে রয়েছে ২৬-২৭ জন কর্মী, যাঁরা এনটিএ-র সঙ্গেই কাজ করছিলেন। এর মধ্যে ২৩-২৪ জন ছিলেন অনুবাদক, বাকিরা প্রশ্ন তৈরির সঙ্গে যুক্ত। এক জন ফিজ়িকাল কেমিস্ট্রি, এক জন ইনঅরগ্যানিক এবং এক জন অরগ্যানিক কেমিস্ট্রির দায়িত্বে। এই ২৬-২৭ জনের নামের তালিকা এনটিএ-র তরফে সিবিআইয়ের হাতে দেওয়া হয়েছে বলেও খবর।
ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
বিভিন্ন ভাষায় নিট পরীক্ষা হয় বলে এনটিএ-কে অনুবাদক নিয়োগ করতেই হয়। সেই কাজ কিছুটা হয় বিশ্বাসের ভিত্তিতেই। অনুবাদকদের সততার উপর আস্থা রেখেই ওই কাজ করায় এনটিএ। কিন্তু অভিযোগ সত্যি হলে প্রমাণ হবে, সেই ভরসার নীতিতে ভরসা রাখা যায় না। যা আগেই বলেছিল এনটিএ-র খোলনলচে বদলানোর প্রস্তাব দেওয়া কমিটি।
২০২৪ সালে নিট-এর প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পরে ওই প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রাক্তন ইসরো প্রধান কে রাধাকৃষ্ণণের নেতৃত্বাধীন কমিটি। তারা যে রিফর্ম কমিটি তৈরি করার কথা বলেছিল, তাতে এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে চলা প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। এনটিএ-কে বলা হয়েছিল, এই ধরনের কাজের জন্য ব্যবহৃ কর্মীদের স্থায়ী কর্মী বানাতে হবে, যাতে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে তার ভার তাঁদের উপরেও থাকে। এনটিএ-র তা করেনি। ফলে ঘুরে ফিরে তাদের কাজের প্রক্রিয়া নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। প্রশ্ন উঠেছে, বাইরে থেকে আনা অনুবাদকদের উপর অন্ধ ভরসাই কি কাল হল এনটিএ-র?