Advertisement
E-Paper

বর্ষার আগে কলকাতা পুরসভায় হয়নি প্রস্তুতি-বৈঠক, মেয়রের সঙ্গে পুর কমিশনারের দূরত্বই কি কারণ? জল্পনা

মেয়র ফিরহাদ হাকিম পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে বৈঠক করার কথা জানালেও প্রশাসনিক স্তরে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেই খবর। এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ বাড়ছে পুরসভার নিকাশি বিভাগে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ১১:৫৭
কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। —ফাইল চিত্র।

সামনেই বর্ষা মরসুম। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১০ জুনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে। অথচ প্রতি বছরের মতো এখনও পর্যন্ত বর্ষা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকই হল না কলকাতা পুরসভায়। ফলে শহরের নিকাশি ব্যবস্থা, রাস্তার ম্যানহোল পরিষ্কার এবং জল জমা রুখতে কী পদক্ষেপ করা হবে তা নিয়ে ধন্দে পড়েছেন পুরসভার আধিকারিকেরাই।

পুরসভা সূত্রে খবর, অন্যান্য বছর মে মাসের শুরুতেই বর্ষার প্রস্তুতি নিয়ে একাধিক বৈঠক করা হয়। সেখানে নিকাশি বিভাগ, রাস্তা বিভাগ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের আধিকারিকদের নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত সেই বৈঠক হয়নি। মেয়র ফিরহাদ হাকিম পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে বৈঠক করার কথা জানালেও প্রশাসনিক স্তরে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেই খবর। এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ বাড়ছে পুরসভার নিকাশি বিভাগে। কারণ বর্ষার সময় শহরের বিভিন্ন এলাকায় জঞ্জাল জমে গালিপিট বা ম্যানহোল বন্ধ হয়ে গেলে দ্রুত জল নামানো সম্ভব হয় না। তার ফলে রাস্তায় জল জমে ভোগান্তি বাড়ে সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে উত্তর ও মধ্য কলকাতার একাধিক এলাকা বর্ষায় কার্যত জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এ বারও একই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয়ের অভাব আরও প্রকট হয়েছে। মেয়র ও পুর কমিশনারের মধ্যে দূরত্ব বৃদ্ধির জেরেই কলকাতা পুরসভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে মত প্রশাসনের একাংশের। সেই আবহেই সোমবার রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রথমবার মুখোমুখি হন ফিরহাদ ও স্মিতা। সূত্রের দাবি, প্রায় ১০ থেকে ১২ মিনিটের ওই বৈঠকে বর্ষা প্রস্তুতির বিষয়টিই উঠে আসে। তবে সমস্যার সমাধানে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রসঙ্গত, গত বছর শারদোৎসবের আগে এক রাতের বৃষ্টিতে নাজেহাল অবস্থা হয়েছিল কলকাতাবাসীর। কলকাতা জলমগ্ন হওয়ার কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। যে কারণে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল তৃণমূল পরিচালিত কলকাতা পুরসভার বোর্ডকে। যদিও, সে বার আগে থেকে প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছিল কলকাতা পুরসভা।

একই ছবি দেখা যাচ্ছে রাজ্যের অন্যান্য বড় পুরসভাতেও। হাওড়া, বিধাননগর, আসানসোল, শিলিগুড়ি ও চন্দননগর পুরসভার প্রশাসন ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে খবর। ফলে বর্ষা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে সেখানেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ।

KMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy