রাষ্ট্রপতি হিসাবে প্রথম বার উত্তরবঙ্গ সফরে আসার কথা ছিল দ্রৌপদী মুর্মুর। কিন্তু সেই সফর শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে গেল। শুক্রবার দ্রৌপদী উত্তরবঙ্গে আসছেন না। তাঁর নির্ধারিত কর্মসূচিগুলির কী হবে, তা-ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। উত্তরবঙ্গে দু’দিনের সফরে আসার কথা ছিল রাষ্ট্রপতির।
মুর্মুর উত্তরবঙ্গ সফর ঘিরে গত কয়েক দিন ধরেই পাহাড়়ে ছিল সাজো সাজো রব। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আঁটোসাঁটো করা হয়েছিল সমতলেও। একাধিক অনুষ্ঠানে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কেন শেষ মুহূর্তে সফর বাতিল করা হল, তার কোনও ব্যাখ্যা মেলেনি। পাহাড়ের আবহাওয়ার কারণে রাষ্ট্রপতিকে সফর বাতিল করতে হয়েছে কি না, এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার বিকেলে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামার কথা ছিল রাষ্ট্রপতির। সূচি অনুযায়ী, সেখান থেকে সরাসরি দার্জিলিং যেতেন। উঠতেন লোকভবনে। বিকেলে সেখানেই একটি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির যোগ দেওয়ার কথা ছিল। উদ্বোধন করার কথা ছিল দার্জিলিং ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের। লোকভবনেই রাত কাটিয়ে শনিবার শিলিগু়ড়ির কাছে গোঁসাইপুরে যেতেন মুর্মু। সেখানে আদিবাসীদের একটি অনুষ্ঠানে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা ছিল। অনুষ্ঠানটি প্রথমে বিধাননগরে হওয়ার কথা থাকলেও রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার কারণে তা গোঁসাইপুরে সরিয়ে আনা হয়। সেখান থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিধাননগরের অনুষ্ঠানের সূচনা করতেন মুর্মু। ছিল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও। কিন্তু রাষ্ট্রপতির সফর বাতিল হয়ে যাওয়ায় এই কর্মসূচিগুলি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার কারণেই সফর বাতিল করতে হল কি না, প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
মুর্মু দেশের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি। আদিবাসী সম্প্রদায়ের সংরক্ষণ, সংস্কৃতি, ভাষা, অর্থনীতির উন্নয়ন-সহ একাধিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিল একটি সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে। গত বছর এই অনুষ্ঠান হয়েছিল অসমে। এ বারের অনুষ্ঠান উপলক্ষে উত্তরবঙ্গে রাষ্ট্রপতির আসার কথা ছিল। এমনকি, রাজ্যপালও সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে ঠিক ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের পদ থেকে আচমকা ইস্তফা দেন সিভি আনন্দ বোস। রাষ্ট্রপতি ভবনে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন। তার পরের দিন উত্তরবঙ্গে রাষ্ট্রপতির সফর বাতিল হল।