E-Paper

পুরসভায় ‘দুর্নীতি’নিয়ে তদন্তের নির্দেশ শুভেন্দুর

পুরমন্ত্রীকে তিনি শিলিগুড়িতে এসে বিধায়ক এবং সাংসদদের সঙ্গে নিয়ে পুরসভায় গিয়ে বৈঠক করারও নির্দেশ দেন। আগামী মাসেই শিলিগুড়িতে আসতে পারেন পুরমন্ত্রী।

রাহুল মজুমদার

শেষ আপডেট: ২১ মে ২০২৬ ২৩:২৮
শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দু অধিকারী। ফাইল চিত্র।

শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দুর্নীতির ফাইল খোলার কথা আগেই বলা হচ্ছিল। এ বার তৃণমূল পরিচালিত শিলিগুড়ি পুরসভার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও তদন্তের কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী নিজে তদন্তের বিষয়টি না জানালেও শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ তা জানিয়েছেন। তবে কোন ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তা জানানো হয়নি।

সরকারি সূত্রে খবর, এ দিন প্রশাসনিক বৈঠক থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে ফোন করে শিলিগুড়ি পুরসভায় দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দেন। পুরমন্ত্রীকে তিনি শিলিগুড়িতে এসে বিধায়ক এবং সাংসদদের সঙ্গে নিয়ে পুরসভায় গিয়ে বৈঠক করারও নির্দেশ দেন। আগামী মাসেই শিলিগুড়িতে আসতে পারেন পুরমন্ত্রী।

বৈঠকের পরে শঙ্কর সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘শিলিগুড়ি পুরসভায় দুর্নীতি হয়েছে। সেটা মুখ্যমন্ত্রী নিজে বলেছেন। বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে। তদন্ত হবে।’’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘কাউন্সিলরদের সব আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। যাঁদের সাইকেল কেনার ক্ষমতা ছিল না, তাঁরা কোটি টাকার গাড়ি নিয়ে ঘুরছেন। সবতদন্ত হবে।’’

এ প্রসঙ্গে শিলিগুড়ির তৃণমূলের মেয়র গৌতম দেব বলেন, ‘‘নতুন সরকার রাজ্যে এসেছে। সরকার চাইলে তদন্ত করতেই পারে। এ নিয়ে আমার কিছু বলার নেই।’’

পুরসভার দুর্নীতি এবং তৃণমূল কাউন্সিলরদের একাংশের সম্পত্তি নিয়ে নির্বাচনের আগে থেকেই সরব হয়েছিলেন শঙ্কর। মেয়র-সহ একাধিক বার একাংশ কাউন্সিলরদের আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। মেয়রের নির্বাচনি খরচ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের ১১ দিনের মাথায় উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠকে এসে শিলিগুড়ি পুরসভার দুর্নীতি প্রসঙ্গে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রীও। তবে ঠিক কোন খাতে, কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, সেই বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু কেউ বলেননি। শঙ্কর এবং সাংসদ রাজু বিস্তাও স্পষ্ট করে তা জানাননি। তবে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্ত করতে আইপিএস অফিসার কালিয়াপ্পন জয়রামনকে যে কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে, সেই কমিটিই তদন্ত করবে বলে জানা গিয়েছে। জয়রামন বর্তমানে এডিজি উত্তরবঙ্গের পদেও রয়েছেন।

পুরমন্ত্রী শিলিগুড়িতে এসে বৈঠকের পরে সবুজ সঙ্কেত দিলেই তদন্ত শুরু হয়ে যাবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কাউন্সিলরদের একাংশ যে কোনও কাজেই কাটমানি নিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের কাজ হয়েছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পের খরচ, নিয়োগ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Suvendu Adhikari

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy