বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশে বিপাকে পড়েছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়। অগস্ট থেকেই স্নাতকোত্তরস্তরে ক্লাস শুরু করতে বলেছে ইউজিসি। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় এখনও স্নাতকস্তরের পঞ্চম সিমেস্টারের ফলই প্রকাশ করতে পারেনি। হাতে রয়েছে মাত্র দু’মাস। এর মধ্যে ষষ্ঠ সিমেস্টারের পরীক্ষা নেওয়া ও ফলপ্রকাশ কী করে সম্ভব, ভেবে মাথায় হাত পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামকের দফতরের। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্তাদের দাবি, “ওই নির্দেশ আসার পরেই জরুরি বৈঠক হয়েছে। সেখানে একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে। ষষ্ঠ সিমেস্টারের ফল ২০ জুলাইয়ের মধ্যে বার করার চিন্তাভাবনা রয়েছে।”
পূর্ব বর্ধমান, হুগলি ও বীরভূমের ৬২টি কলেজে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম পড়ানো হয়। প্রায় ৩০ হাজার ছাত্রছাত্রীর পঞ্চম সিমেস্টারের পরীক্ষা হয়েছে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে। কলেজগুলিতে গরমের ছুটি চলছে। উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণদের প্রথম সিমেস্টারে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বেশির ভাগ কলেজ ষষ্ঠ সিমেস্টারের ক্লাস শুরু করতে পারেনি। এরই মধ্যে ইউজিসি নির্দেশ দিয়েছে, ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে স্নাতকস্তরের ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। ১ অগস্ট থেকে স্নাতকোত্তরস্তরে ক্লাস শুরু করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা বলেন, “গত বছরও ইউজিসি এই নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্ত তা অমান্য করে সেপ্টেম্বর থেকে স্নাতকোত্তরে ক্লাস শুরু হয়। পরে ইউজিসি আমাদের ভর্ৎসনা করেছিল।”
সূত্রের খবর, প্রথম থেকে পঞ্চম সিমেস্টার পর্যন্ত নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে পরীক্ষার খাতা শিক্ষকদের কাছে পৌঁছে যেত। শিক্ষকেরা খাতা দেখে নিয়ম মেনে বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দিতেন। খাতা দেখা নিয়ে অনেক শিক্ষকের মধ্যে ‘টালবাহানা’ থাকত। ফলে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষা নিয়ামকের দফতরে নম্বর এসে পৌঁছত না। মার্কশিট প্রস্তুতকারী তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় নম্বর পাঠানো যেত না। নির্দিষ্ট সময়ে স্নাতকস্তরের ফলপ্রকাশ হত না। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন কিংবা শিক্ষক সংগঠনগুলির মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ ছিল। শুধু ষষ্ঠ সিমেস্টার বা চূড়ান্ত পরীক্ষার সময়ে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথিশালায় বসে খাতা দেখতেন। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে ফলপ্রকাশ করতে পারত বিশ্ববিদ্যালয়। ইউজিসির নির্দেশের পরেই দ্রুত ফল বার করার লক্ষ্যে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বাকি পাঁচটি সিমেস্টারের খাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে বসে দেখবেন শিক্ষকেরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০ জুন পঞ্চম সিমেস্টারের ফলপ্রকাশ ও জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ষষ্ঠ সিমেস্টারের পরীক্ষা শুরুর কথা ভাবা হয়েছে। ২৬ জুলাই ফলপ্রকাশের চিন্তাভাবনা রয়েছে। এর অর্থ, পঞ্চম সিমেস্টারের ফল বেরোনোর পরে ষষ্ঠ সিমেস্টারের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য মেরেকেটে ১০-১২ দিন সময় পাচ্ছেন পড়ুয়ারারা। আর পঞ্চম সিমেস্টারের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে ষষ্ঠ সিমেস্টারের পরীক্ষা শুরু পর্যন্ত সময়ের ব্যবধান কম-বেশি দু’মাস। অথচ, দু’টি সিমেস্টারের মধ্যে অন্তত পাঁচ মাস সময় থাকা উচিত। একাধিক ছাত্র সংগঠনের বক্তব্য, এমন হলে কলেজগুলি পঠনপাঠন শেষ করতে পারবে না। ছাত্রছাত্রীদের উপরে চাপ বাড়বে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই কর্তা বলেন, “পঞ্চম সিমেস্টারের পরীক্ষার পরেই অনেক কলেজ অনলাইনে ষষ্ঠ সিমেস্টারের ক্লাস করিয়েছে। ফলে, অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)