E-Paper

উত্তরবঙ্গে ওষুধ শিল্প হাব চায় রাজ্য

বর্তমানে ফার্মা শিল্পে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে সিকিম। ওই রাজ্যের প্রাকৃতিক, দূষণহীন পরিবেশ, বিনিয়োগের প্রশ্নে কর ছাড় সিকিমকে বর্তমানে ওষুধ শিল্পের হাবে পরিণত করতে অনুঘটকের কাজ করেছে।

অনমিত্র সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ০৮:২০

—প্রতীকী চিত্র।

পরিবেশ ও আবহাওয়া ওষুধ শিল্পের জন্য অনুকূল। তাই আগামী দিনে উত্তরবঙ্গে ওষুধ তথা ফার্মা শিল্পের হাব গড়ার কথা ভাবছে রাজ্যে সদ্য ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকার। ওষুধ শিল্পের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের স্থানীয় প্রথাগত শিল্পগুলি, যেমন রেশম, আম, পাট, অ্যাগ্রো-ফরেস্ট্রি শিল্পের বিকাশেও বিশেষ ভাবে নজর দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে। ধুঁকতে থাকা চা-শিল্পের জন্য কেন্দ্রের কাছ থেকে বিশেষ আর্থিক সাহায্যের জন্য দরবার করার চিন্তাভাবনা রয়েছে রাজ্যের।

বর্তমানে ফার্মা শিল্পে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে সিকিম। ওই রাজ্যের প্রাকৃতিক, দূষণহীন পরিবেশ, বিনিয়োগের প্রশ্নে কর ছাড় সিকিমকে বর্তমানে ওষুধ শিল্পের হাবে পরিণত করতে অনুঘটকের কাজ করেছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সিকিমের পরিবেশের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একাংশের পরিবেশের সাদৃশ্য রয়েছে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই উত্তরবঙ্গে সিকিমের ধাঁচে ওষুধ শিল্পের হাব গড়ার কথা ভাবা হচ্ছে।বিজেপি সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই লুপিন, সিপলা, সান ফার্মা, অরবিন্দ ফার্মার মতো সংস্থাগুলি পশ্চিমবঙ্গে বড় মাপের বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে খুব দ্রুত সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে ওষুধ শিল্প সংস্থাগুলি। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, সিকিমে যেখানে ওষুধ হাব ইতিমধ্যেই রয়েছে, সেখানে তার গা ঘেঁষে আরও একটি ওষুধ হাব তৈরি করা কি বাস্তবমুখী হবে?

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতকে ওষুধ শিল্পের হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে মোদী সরকার। বর্তমানে ওষুধ উৎপাদনের প্রশ্নে দেশ শীর্ষ তালিকায় থাকলেও, বহু জীবনদায়ী ওষুধের জন্য ভারতকে বিদেশি রাষ্ট্রের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয়। আগামী দিনে ওষুধের ক্ষেত্রে অন্য রাষ্ট্রের উপরে নির্ভরতা কমাতে চায় কেন্দ্র। তাই ওষুধ শিল্পের বিকাশে ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি আপগ্রেডেশন অ্যাসিস্ট্যান্স যোজনা হাতে নিয়েছে সরকার, যে নীতিতে ৫০০ কোটি টাকার ব্যবসা করা সংস্থাগুলি কারখানার প্রযুক্তি ও পণ্যের মানোন্নয়নে সরকারের আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকে। বিজেপির ওই নেতার কথায়, বড় সংস্থাগুলির পাশাপাশি ওই প্রকল্পের সুবিধা নিতে ছোট সংস্থাগুলিও এগিয়ে আসুক—সেটাই কাম্য। যত এ ধরনের কারখানা হবে, তত রাজ্যে বিনিয়োগ বাড়বে, চাকরির সুযোগও তৈরি হবে। তবে একই সঙ্গে ওই হাব গড়ার জন্য এক লপ্তে অনেকটা জমি প্রয়োজন হবে। শিল্পের জন্য এক ধাক্কায় এত জমি পাওয়া যে যথেষ্ট বড় পরীক্ষা, তা ঘরোয়া ভাবে মেনে নিচ্ছেন বিজেপি নেতারা।

ধুঁকছে বাংলার চা শিল্পও। বন্ধ হয়ে গিয়েছে একাধিক চা-বাগান। আর্থিক দৈন্যের মধ্যে রয়েছেন বহু চা-শ্রমিক। ওই ছবিটি পাল্টাতে এবং চা-শিল্পকে নতুন করে চাঙ্গা করতে কেন্দ্রের কাছে আর্থিক সাহায্য চাওয়া হবে জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘‘অসমে যেমন চা-শিল্পের পুনরুজ্জীবন হয়েছে, ঠিক সেই সমীকরণ মেনে পশ্চিমবঙ্গের চা-শিল্পকে চাঙ্গা করা হবে। এর জন্য কেন্দ্রের কাছ থেকে বিশেষ সাহায্য চাওয়া হবে।’’ বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, উত্তরবঙ্গে বেশ কিছু প্রথাগত শিল্প রয়েছে। যেমন রেশম, আম, পাট। সেগুলির বিকাশেও উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র। ইতিমধ্যে ম্যাঙ্গো মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে একাধিক বিজেপি নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। লক্ষ্য, গোটা দেশে পশ্চিমবঙ্গের আমের বিক্রি বাড়ানো, যাতে কৃষকেরা আমের ন্যায্য মূল পান।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

medicines Hub

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy