নিট-পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল হয়ে গিয়েছে। এমন নয় যে, সব পরীক্ষার্থী ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সবাইকেই দ্বিতীয় বার পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসায় যে সব শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী চাকরি পেয়েছেন, তাঁরা কি বলতে পারেন যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গোলমাল হলেও তাঁদের কোনও দোষ নেই? পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন মাদ্রাসায় ২০১৬ থেকে ২০২০-র মধ্যে যে সব শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে নিট-পরীক্ষার্থীদের তুলনা টেনে সুপ্রিম কোর্ট এই প্রশ্ন তুলেছে।
রাজ্যে ২০১৬ থেকে ২০২০-র মধ্যে বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ নিয়ে মামলায় সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে আজ ফের দেখা গিয়েছে, নিয়োগের সময়ে কোথাও নিয়ম মেনে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়নি। কোথাও প্রার্থী নির্বাচন কমিটিতে সরকারি প্রতিনিধি ছিলেন না। কোথাও নিয়োগের নিয়ম-প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর বা জেলা পরিদর্শককে কিছু জানানো হয়নি। কোথাও আবার শূন্যপদ ছাড়াই নিয়োগ হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত বলেছেন, ‘‘নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পবিত্রতা রক্ষা করা জরুরি। কেউ কি বলতে পারেন যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গরমিল হলে আমার কী দোষ? নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে গোটা পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। সবাই কি প্রশ্নপত্র পেয়ে গিয়েছিল? নিশ্চয়ই নয়। কিন্তু সবাইকে আবার পরীক্ষায় বসতে হবে।”
চাকরিরত এক শিক্ষকের হয়ে আজ আইনজীবী পীযূষ রায় সুপ্রিম কোর্টে যুক্তি দিয়েছেন, ‘‘চাকরিপ্রার্থী কোনও প্রতারণা করেননি। তিনি পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন। আজও তিনি কাজ করছেন।’’ তাঁর যুক্তি, ২০১৫ সালে কলকাতা হাই কোর্ট ২০০৮ সালের মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আইনকে সাংবিধানিক ভাবে অবৈধ বলে খারিজ করে। সুপ্রিম কোর্ট ২০২০ সালে হাই কোর্টের রায় খারিজ করে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আইনকে বৈধ বলে। মাঝের সময়কালে নিয়োগেরও অনুমতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। আর এক শিক্ষকের হয়ে আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্যের যুক্তি, বর্তমান পরিচালন কমিটির কর্তাদের সঙ্গে পুরনো পরিচালন কমিটির কর্তাদের বিবাদ। তাই এখন সেই সব নিয়োগে নিয়ম মানা হয়নি বলে কমিটি দাবি করছে। সমস্যায় পড়ছেন চাকরিরত শিক্ষকেরা।
সুপ্রিম কোর্ট ২০২৩ সালে কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি দেবীপ্রসাদ দে-র নেতৃত্বে মাদ্রাসায় নিয়োগ খতিয়ে দেখতে কমিটি তৈরি করেছিল। চাকরিরত শিক্ষকদের আইনজীবীরা সেই কমিটির রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, ৪৯৭ জনের মধ্যে কমিটি এমন এক জনকেও পায়নি, যাঁর ক্ষেত্রে সমস্ত নিয়ম মেনে নিয়োগ হয়েছে। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত বলেন, যদি সকলের ক্ষেত্রেই গরমিল হয়ে থাকে, তা হলে কমিটি সেই রিপোর্টই দিয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)