E-Paper

কলকাতার কড়চা: ইতিহাসের অন্দর-বাহির

সাদা-কালোয় তোলা ছবিগুলিই প্রাণ এই মহাকায় বইটির। চারটি গভর্নমেন্ট হাউসের প্রতিটি কোণ এখানে উদ্ভাসিত তার স্থাপত্যসুষমায়।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১০ মে ২০২৫ ০৭:৪১
রাজভবন।

রাজভবন। —ফাইল চিত্র।

আজও যার সিংহতোরণ হাঁ করে দেখি বাইরে থেকে, ভিতরের বিরাট সবুজ প্রাঙ্গণের মধ্যমণি যে অট্টালিকা আজও এ শহরের ইতিহাসের সাক্ষী, সেই রাজভবনের স্থাপনা হয় ১৭৯৯ থেকে ১৮০৩ সালের মধ্যে। ১৬৯০-এ জোব চার্নক আসার এক দশকের মধ্যেই ইংরেজরা গড়ে প্রথম ফোর্ট উইলিয়াম; তারই চার দেওয়ালের মধ্যে ছিল তখনকার ‘গভর্নমেন্ট হাউস’, গড়ের প্রেসিডেন্ট তথা গভর্নর থাকতেন সেখানেই। পলাশি বিজয়ের পরে ইংরেজদের হাতে পাল্টাতে থাকে কলকাতার রূপ: রাইটার্স বিল্ডিংয়ের কাছে গড়ে ওঠে প্রথম কাউন্সিল হাউস, পুরনো এক কাউন্সিল হাউসের তথ্যও মেলে নথিপত্রে। প্রথম গভর্নর-জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস থাকতেন কাছেই বাকিংহাম হাউস তথা পুরনো গভর্নমেন্ট হাউস-এ। কোম্পানির উচ্চ আধিকারিকদের ‘কান্ট্রি হাউস’ রাখার প্রথাটিও প্রতিষ্ঠা পায় এর মধ্যে, আলিপুরে হেস্টিংস হাউস বা বেলভেডিয়ার যার সাক্ষী। এই দুই বাড়িই ফোর্ট উইলিয়ামের অনেক গভর্নরের আসা যাওয়া থাকার সাক্ষী, ‘গভর্নমেন্ট হাউস’-এর দাবি কম নয় এদেরও। তবে আসল কাজ হল ওয়েলেসলির সময়ে। আঠারো শতকের একেবারে শেষ দশক থেকে পরের একশো বছরে যেমন কলকাতা হয়ে উঠল ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রাজধানী, তেমনই আজকের রাজ ভবন আর পাশাপাশি ব্যারাকপুরের গভর্নমেন্ট হাউসও হয়ে উঠল গুরুত্বময়।

রাজভবন ও আলিপুরে বেলভেডিয়ার, এ ছাড়া ব্যারাকপুর ও দার্জিলিঙের দুই গভর্নমেন্ট হাউস, এই চার ইতিহাস-মাখা অট্টালিকার অন্দর-বাহির ক্যামেরায় ধরেছেন এ শহরের নামী আলোকচিত্রী অনির্বাণ মিত্র, তাঁর ইকোজ় অব গ্র্যাঞ্জার: দ্য গভর্নমেন্ট হাউসেজ় অ্যান্ড এস্টেটস অব বেঙ্গল বইয়ে। প্রায় দশ বছরের ভাবনা ও গবেষণার ফসল এই ফোটোগ্রাফি-বই, বহু বিদ্বজ্জনের উৎসাহে পুষ্ট; সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা ও সুস্থায়ী উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া বিক্রম সোলার সংস্থার পৃষ্ঠপোষণাতেও। ভূমিকা লিখেছেন টিমোথি মিন্টো, যাঁর দুই পূর্বসূরি ছিলেন বাংলার গভর্নর জেনারেল; পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশনার অ্যান্ড্রু ফ্লেমিং জানিয়েছেন শুভেচ্ছা, প্রাসঙ্গিক অংশ লিখেছেন ও সম্পাদনা করেছেন গৌরী বসু, চমৎকার একটি নিবন্ধে রাজভবনের ইতিহাসটি বুঝিয়ে দিয়েছেন তপতী গুহঠাকুরতা।

সাদা-কালোয় তোলা ছবিগুলিই প্রাণ এই মহাকায় বইটির। চারটি গভর্নমেন্ট হাউসের প্রতিটি কোণ এখানে উদ্ভাসিত তার স্থাপত্যসুষমায়। এই স্থাপত্যকীর্তির সমগ্রতা চোখে দেখা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাধারণ্যের নাগালের বাইরে, সেই অতৃপ্তিও মেটে ছবিতে। তারা বুঝিয়ে দেয়, এই গভর্নমেন্ট হাউসগুলি এক দিকে ভারতে ব্রিটিশ রাজ ও সরকারের শাসনের অভিজ্ঞান যেমন, অন্য দিকে তেমনই স্থাপত্য-ইতিহাসেরও নিদর্শন। মূল ছবিতে রাজভবন (দক্ষিণ দিকের সম্মুখভাগ), মাঝের ছবিতে ‘থ্রোন রুম’-এ আসনের কারুকৃতি— বই থেকে নেওয়া।

দিল ডাক

যথাবিহিত কবিপ্রণামের ভিড়ে রক্তকরবী রচনার শতবর্ষও অলক্ষে থেকে যাচ্ছে না। আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় রাজা বসন্ত রায় রোডে কলকাতা ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আর্টস লিটারেচার অ্যান্ড কালচার (কেআইএফএএলসি)-এ শমীক বন্দোপাধ্যায় বলবেন ‘রক্তকরবী: একুশ শতকীয় পাঠ’ নিয়ে। মিনার্ভা থিয়েটারে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে রবীন্দ্রমেলা, আজ বিকেলের আকর্ষণ মাইকেল বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্যাক্সোফোন, আগামী কাল ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবৃত্তি ও পাঠ, নৃত্যলোক-এর পরিবেশনায় বিসর্জন-এর নৃত্যনাট্যরূপ। সাধারণ ব্রাহ্ম সমাজের উদ্যোগে রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় সেখানে মুকুল একাডেমির নিবেদন ‘অগণ্য এ দীপ্তলোকে’, রবীন্দ্রসঙ্গীতে বিজ্ঞানচেতনা নিয়ে আলেখ্য— পরিচালনায় দেবাশিস ও রোহিণী রায়চৌধুরী। ইন্ডিয়ান মিউজ়িয়ম কর্তৃপক্ষও তাঁদের এগজ়িবিশন হল-টি পঁচিশে বৈশাখে সাজিয়ে তুলেছেন বিশেষ প্রদর্শনী ‘রবি-কথা’য়।

সমুদ্রজীবন

রাষ্ট্রপুঞ্জের ঘোষণায় ২০২১-৩০ ঘোষিত ‘ওশেন সায়েন্স ফর সাসটেনেবল ডেভলপমেন্ট’-এর দশক হিসেবে। জানা যাচ্ছে, জলবায়ু বিপর্যয়ের জেরে সমুদ্রতলের বৃদ্ধি ও জলের তেতে ওঠায়, দূষণের জন্যও মহাসাগর হয়ে পড়ছে উষ্ণ, অ্যাসিডিক, প্রাণহীন। আমরা যারা মহাসমুদ্র থেকে বহুদূরে থাকি, তারাও এর ক্রমপরিণতি এড়াতে পারি না। এই গুরুত্ব বোঝাতেই বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজ়িয়ম (বিআইটিএম)-এ গত ২ মে মিউজ়িয়মের প্রতিষ্ঠাদিবসে খুলে গেল নতুন গ্যালারি ‘লস্ট অ্যাট সি’। মহাসমুদ্রে আছে যে বিপুল জীবজগৎ, এরই মধ্যে কী কী ক্ষতি হয়েছে তার, কী পদক্ষেপ করা দরকার, দেখা যাবে এখানে— অগমেন্টেড রিয়েলিটি ওয়াকওয়ে, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রদর্শ-সহ নজরকাড়া নানা আয়োজনে।

নবদিগন্ত

শিল্পের চর্চাতেও কি মেয়েদের কম লড়াই করতে হয়েছে? ১৯৭২ সালে অস্ট্রিয়ান শিল্পী ভ্যালি এক্সপোর্ট লিখেছিলেন বই উইমেন’স আর্ট: আ ম্যানিফেস্টো, তাতে ছিল সত্তর দশকে নারী শিল্পীদের নানাবিধ চ্যালেঞ্জের কথা, আর সেই প্রবাদপ্রতিম আশাবাদ: “দ্য ফিউচার অব উইমেন উইল বি দ্য হিস্ট্রি অব উইমেন।” তা সত্য করে একুশ শতকে শিল্পচর্চায় নবদিগন্ত খুলে যাচ্ছে মেয়েদের হাত ধরে। ষাট থেকে নব্বই দশকাবধি জার্মানি ও ভারতে শিল্পচর্চার নানা পরিসরে ছকভাঙা কোন ভাবনা ভেবেছেন মহিলা শিল্পীরা, গ্যোয়টে ইনস্টিটিউটে এক প্রদর্শনীতে উঠে এসেছিল তা। তারই রেশ রেখে আগামী ১৩ মে সন্ধে সাড়ে ৬টায় গ্যোয়টে ইনস্টিটিউট-ম্যাক্সমুলার ভবনে কথালাপে পলা সেনগুপ্ত মধুজা মুখোপাধ্যায় অ্যাস্ট্রিড ওয়েগে ও সঞ্চয়ন ঘোষ।

গৌরব

ফিল্ম-সমালোচকদের যে বিশ্ব সংগঠন, তার ভারত শাখা ‘ফিপরেস্কি-ইন্ডিয়া’ সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ২০২১ থেকে দিয়ে আসছে তাঁর নামাঙ্কিত স্মারক পুরস্কার। সিনেমা নিয়ে ইংরেজি-সহ অন্য ভারতীয় ভাষায় লেখালিখিতে চলচ্চিত্র-সংস্কৃতির নতুন দিগ্‌দর্শন করান যাঁরা, তাঁদেরই এক জন ভূষিত হন এই সম্মানে। গত চার বছরে সম্মানিত অরুণা বাসুদেব, আই সন্মুখদাস, অশোক রাণে ও মৈথিলী রাও; এ বছর পেলেন প্রদীপ বিশ্বাস। বাংলা ও ভারতের তো বটেই, আন্তর্জাতিক স্তরে নানা পত্রপত্রিকা ও সিনেমাপত্রে লিখেছেন কয়েক দশক ধরে, সিনেমা নিয়ে অন্তত ৩৫টি বই ঝুলিতে; ১৯৮৯-এ ফিল্ম সমালোচনায় পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার। কলকাতা, বাংলাও গৌরবান্বিত হল।

যুদ্ধ মানে

“যুদ্ধ মানে শত্রু শত্রু খেলা,/ যুদ্ধ মানেই আমার প্রতি তোমার অবহেলা।”— লিখেছিলেন পদ্মাপারের কবি নির্মলেন্দু গুণ। দিকে দিকে যুদ্ধের দামামায় অবশ্য এ-পার ও-পার সব একাকার হওয়ার জোগাড়, দেশ-মহাদেশে ফারাক কি আছে কোনও? কিছু মানুষ তবু এই ভাঙার মরসুমেও গড়ে যান। ইজ়রায়েল আর প্যালেস্টাইনের ক’জন চলচ্চিত্রকার, বাসেল আদরা, হামদান বাল্লাল, রাচেল জ়োর, য়ুভাল আব্রাহাম এক সঙ্গে, একটা ‘কালেক্টিভ’ গড়ে তৈরি করেছেন তথ্যচিত্র নো আদার ল্যান্ড, যুদ্ধের বীভৎসতা আর যন্ত্রণা যে ছবির সর্বাঙ্গে মাখা। এ বারের অস্কার-মঞ্চে সেরা তথ্যচিত্রের সম্মানে ভূষিত সেই ছবিই এ বার শহরে দেখাচ্ছে পিপল’স ফিল্ম কালেক্টিভ, তাদের প্রতি মাসের বাঁধাধরা ছবি-প্রদর্শনের উপলক্ষটি ঘিরে। ১১ মে সন্ধে ৬টায় হাজরার সুজাত সদনে, সঙ্গে ‘দ্য প্যালেস্টাইন কোয়েশ্চন’ নিয়ে বলবেন সুজাত ভদ্র।

মাইলফলক

“আমি প্রোডিউসার বলে আমাকে থাকতে হবে নাকি!” অসিত সেনকে বলেছিলেন ছবির প্রযোজক উত্তমকুমার। ‘উত্তমকুমার ফিল্মস প্রা. লি.’-এর দ্বিতীয় ছবি উত্তর ফাল্গুনী, দ্বৈত চরিত্রে সুচিত্রা সেন। বক্স অফিসে দারুণ হিট, সেরা বাংলা ছবির জাতীয় পুরস্কার, সেরা অভিনেত্রীর জন্য বিএফজেএ পুরস্কার জিতে নিয়েছিল। অসিত সেন পরিচালিত (ছবিতে তিনি ও সুচিত্রা সেন, শুটিং-অবসরে) ছবিটি বাংলা চলচ্চিত্র-যাত্রাপথে এক মাইলফলক। উত্তরপাড়া জীবনস্মৃতি আর্কাইভের দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ৮ মে সন্ধ্যায় হয়ে গেল নানা অনুষ্ঠান, উমা দাশগুপ্ত অনুপ মতিলাল-সহ গুণিজনসমাগমে। সঙ্গে শুরু হল প্রদর্শনী ‘উত্তর ফাল্গুনী’, ছবিটির শুটিং স্ক্রিপ্ট, পোস্টার, সিনেমা-পুস্তিকা, বিজ্ঞাপন, স্থিরচিত্র, সংবাদপত্র-কর্তিকা ইত্যাদি নিয়ে, অরিন্দম সাহা সরদারের পরিকল্পনা ও রূপায়ণে। জীবনস্মৃতি-কক্ষে প্রদর্শনী ১১ মে পর্যন্ত, বিকাল ৪টা-সন্ধ্যা ৭টা।

ছবিজীবন

শান্তিনিকেতনে বড় হয়ে ওঠা, কলাভবনে ও পরে বরোদায় শিল্পের পাঠ। ১৯৭০-এর দশক থেকেই ছাপচিত্রে ও বিশেষত উডকাটে নিজের স্বাক্ষর রেখে গিয়েছেন সুরঞ্জন বসু (১৯৫৭-২০০২)। ১৯৮৪ সালে তৈরি হওয়া শিল্পীগোষ্ঠী ‘দ্য রিয়েলিস্টস’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য তিনি, শিল্পকে সমাজবাস্তবতার মধ্যে এনে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার পক্ষপাতী। দেশ জুড়ে নানা জায়গায় হয়েছে ও‌ঁর প্রদর্শনী, কর্মশালা; লন্ডন ব্র্যাডফোর্ড আমস্টারডামেও সগৌরবে দেখানো হয়েছে ওঁর কাজ। চিত্রকলায় (ছবি), টেরাকোটার মতো মাধ্যমেও ওঁর কাজ শিল্পরসিকের আলাদা মনোযোগ দাবি করে। ২০০২-এ প্রয়াত এই শিল্পীর জীবনের নানা পর্যায়ের কাজ নিয়ে কলকাতা সেন্টার ফর ক্রিয়েটিভিটি (কেসিসি)-তে চলছে প্রদর্শনী ‘দি আর্ট অব সুরঞ্জন বসু’। কেসিসি-র দোতলায় শুরু হয়েছে গত ২৫ এপ্রিল, চলবে ২৪ মে পর্যন্ত, রবিবার বাদে সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা।

মনে রেখে

আবারও দোরগোড়ায় হাজির আর একটা উনিশে মে। কমলা ভট্টাচার্য, শচীন্দ্র পাল, চণ্ডীচরণ সূত্রধর, সুনীল সরকার, সুকোমল পুরকায়স্থ, কানাইলাল নিয়োগী, সত্যেন্দ্র দেব, বীরেন্দ্র সূত্রধর, তরণী দেবনাথ, কুমুদ দাস, হিতেশ বিশ্বাসদের আত্মোৎসর্গের দিন— বাংলা থেকে দূরে, কিন্তু বাংলা ভাষারই জন্য। ঢাকার ১৯৫২-র একুশে ফেব্রুয়ারির পাশে শিলচরের ১৯৬১-র উনিশে মে-ও বাঙালির ‘ইতিহাস’, কিন্তু বরাক উপত্যকার ভাষা-শহিদদের স্মৃতি জাগিয়ে রাখার উদ্যোগ তো হওয়া দরকার নাগরিক সমাজের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ভাবেও, সে কোথায়? ‘বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন’-এর কলকাতা অধ্যায় কথায় গানে কবিতায় স্মরণ করবে মাতৃভাষা অধিকার রক্ষার আন্দোলনের বীরদের— ১৯ মে বিকেল সাড়ে ৫টায়, সল্টলেক সি কে-৪৩ ‘অন্য থিয়েটার’-এর ঠিকানায়। প্রকাশিত হবে উনিশে মে পত্রিকার সাম্প্রতিকতম সংখ্যাটিও।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Rajbhawan Rabindranath Tagore Suchitra Sen Paintings

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy