ওড়িশার কংগ্রেস বিধায়কদের পাঠানো হল কর্নাটকে। হরিয়ানার কংগ্রেস বিধায়কদের হিমাচল প্রদেশে পাঠানো হবে। রাজ্যসভা নির্বাচনে বিজেপি ‘ঘোড়া কেনাবেচা’ করে কংগ্রেসের বিধায়কদের ভোট ভাঙিয়ে নিতে পারে, এই আশঙ্কায় কংগ্রেস নেতৃত্ব দুই রাজ্যের বিধায়কদের কংগ্রেস-শাসিত রাজ্যে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপির প্রার্থীদের হয়ে রাজ্যসভা নির্বাচনে ভোট চেয়ে কংগ্রেসের বিধায়কদের বিপুল অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
আগামী ১৬ মার্চ ১০টি রাজ্যে রাজ্যসভার ৩৭টি আসনে নির্বাচন ঘোষণা হয়েছিল। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ-সহ সাতটি রাজ্যে ভোটাভুটির প্রয়োজন পড়েনি। কারণ যতগুলি শূন্য আসন, তত জনই প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু ওড়িশা, বিহার ও হরিয়ানায় আসনের থেকে বেশি প্রার্থী রয়েছেন। তাই সেখানে বিধায়কদের ভোটের ভিত্তিতেই ঠিক হবে, কে রাজ্যসভায় যাবেন। রাজ্যসভার ভোটে কোনও রাজনৈতিক দল বিধায়কদের জন্য নির্দেশ বা ‘হুইপ’ জারি করতে পারে না। তাই ভোট ভাঙানোর সুযোগ বেশি। বিজেপি কংগ্রেসের বিধায়কদের ভোট ভাঙাতে নেমেছে দেখে ওড়িশার আট জন কংগ্রেস বিধায়ককে বেঙ্গালুরুতে নিয়ে গিয়ে রিসর্টে রাখা হয়েছে। কর্নাটকের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ডি কে শিবকুমারের দাবি, “এই বিধায়কদের বিপুল অর্থের লোভ দেখানো হয়েছিল।” শিবকুমার অতীতেও মহারাষ্ট্র থেকে বিলাসরাও দেশমুখ, গুজরাত থেকে আহমেদ পটেলের রাজ্যসভার নির্বাচনে জেতার জন্য সে রাজ্যের বিধায়কদের কর্নাটকের রিসর্টে আগলে রাখার দায়িত্ব সামলেছিলেন।
এ বার ওড়িশায় চারটি আসনে রাজ্যসভার নির্বাচন। বিজু জনতা দলের নিজের জোরে একটি আসন জেতার ক্ষমতা রয়েছে। তা সত্ত্বেও বিজেডি দলের নেতা সত্রুপ্ত মিশ্রের পাশাপাশি কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা করে ভুবনেশ্বরের চিকিৎসক দত্তেশ্বর হোতাকেও প্রার্থী করেছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি এখন কংগ্রেসের বিধায়কদের ভাঙিয়ে বিজু জনতা দল-কংগ্রেসের যৌথ প্রার্থী দত্তেশ্বরকে হারানোর চেষ্টা করছে।
একই ভাবে হরিয়ানাতেও দু’টি আসনের জন্য তিন জন প্রার্থী লড়ছেন। বিজেপি ও কংগ্রেস এক জন করে প্রার্থী দিয়েছে। কিন্তু বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি সতীশ নান্দাল নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। বিজেপি দ্বিতীয় আসনে নিজের দল, নির্দল ও আইএনএলডি বিধায়কদের সঙ্গে কংগ্রেসের আট জন বিধায়কের ভোট পেলে সতীশকে জিতিয়ে কংগ্রেসের প্রার্থী করমবীর সিংহ বৌদ্ধকে হারাতে পারে। আগেও হরিয়ানায় কংগ্রেসের ভোট রাজ্যসভার নির্বাচনে অন্য দলের ঝুলিতে চলে গিয়েছে। এ বার তাই আগেভাগে সতর্ক হচ্ছে কংগ্রেস।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)