E-Paper

খটখটে বসন্তেও কাদা-জলে নাকাল এলাকা, ডুবে পানীয় জলের কলও

ওই এলাকাটি কলকাতা পুরসভার ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। পার্ক সার্কাসের চার নম্বর সেতু দিয়ে পিস ওয়ার্ল্ডের কাছে বাঁ দিকে ঘুরে তিলজলা রোড।

নীলোৎপল বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৪২
বেহাল: নিকাশির পাঁক, জল উপচে এসেছে রাস্তায়। তার মধ্যে দিয়ে কোনও মতে যাতায়াত স্থানীয় মানুষের। বুধবার, তিলজলা রোডে।

বেহাল: নিকাশির পাঁক, জল উপচে এসেছে রাস্তায়। তার মধ্যে দিয়ে কোনও মতে যাতায়াত স্থানীয় মানুষের। বুধবার, তিলজলা রোডে। ছবি: বিশ্বনাথ বণিক।

গত প্রায় তিন মাস কলকাতা বৃষ্টির মুখ দেখেনি। শীত পেরিয়ে বসন্তের শুরুতেও বৃষ্টির লক্ষণ নেই। অথচ, এই শুষ্ক পরিবেশেও জমে থাকা কাদা-জলের যন্ত্রণা যাচ্ছে না খাস কলকাতার তিলজলায়। অভিযোগ, তিলজলা রোড দিয়ে যাওয়ার পথে কাদামাখা জল পেরোতে হচ্ছে নিত্যদিন। পাঁকের সঙ্গেই সেখানে ভাসছে চামড়ার কারখানা থেকে আসা রাসায়নিক। অনেকে জমা জলে গর্ত বুঝতে না পেরে পড়ে গিয়ে পাঁক মেখে উঠছেন। অভিযোগ, এলাকার পানীয় জলের কলও ডুবে গিয়েছে এই কাদা-জলে। দিনের পর দিন পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অনেকেই বলছেন, ‘‘ভোটের মুখেও কি এই অবস্থা প্রশাসনের নজরে পড়বে না?’’

ওই এলাকাটি কলকাতা পুরসভার ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। পার্ক সার্কাসের চার নম্বর সেতু দিয়ে পিস ওয়ার্ল্ডের কাছে বাঁ দিকে ঘুরে তিলজলা রোড। ওই পথে পিস ওয়ার্ল্ডের পাঁচিল বরাবর কিছুটা এগোলেই চোখে পড়বে জমা ওই কাদা-জল। সেখানকার একটি হোটেল থেকে শুরু হয়ে অন্তত কয়েকশো মিটার জুড়ে এই অবস্থা। সেখান দিয়েই রোজ যাতায়াত করতে হয় সমীর সরকার নামে এক ব্যক্তিকে। তিনি বললেন, ‘‘পরিষ্কার জামা-জুতো টেকে না এই রাস্তায়। পাশ দিয়ে গাড়ি গেলে তো হেঁটে পার হওয়া আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বেশ কয়েক দিন অন্ধকারের মধ্যে বয়স্কদের পড়ে যেতে দেখেছি। কাউকে বলেই লাভ হয়নি।’’ সেই পথেই দেখা গেল, কাদা-জল থেকে বাঁচতে কার্যত মোটরবাইকের উপরে দাঁড়িয়ে সওয়ার হয়েছেন কয়েক জন। তাঁদেরই এক জনের মন্তব্য, ‘‘পোশাক বাঁচাতেই এই ব্যবস্থা। বর্ষায় তো হাঁটুজল হয়ে থাকে।’’

ওই এলাকার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘‘হেঁটে যাতায়াত তো ছেড়েই দিন, পানীয় জলের জন্য যা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, সেটাই তো কেউ শুনছেন না। সকালে আর বিকেলে পুরসভার কলে জল এলে প্রথমে কিছুটা জল ফেলে দিতে হয়। কারণ, পাঁক আর পানীয় জল এক হয়ে থাকে। এর পরে কোনও মতে কাদা-জল পরিষ্কার করে আমাদের পাত্রে ভরতে হয়।’’ পাশেই দাঁড়ানো সাহেব আদকের আবার দাবি, ‘‘দুর্গন্ধে টেকা যায় না। খোলা নর্দমা যত দিন না বন্ধ হচ্ছে, কিছুই সুরাহা হবে বলে মনে হয় না। চামড়ার কারখানার কী কী যে ভেসে আসে, বলে বোঝানো যাবে না।’’ এর পরে তাঁর মন্তব্য, ‘‘একটাই আশা, সামনে ভোট। যদি সেই কারণে আমাদের দিকে একটু নজর পড়ে।’’

স্থানীয় পুরপ্রতিনিধি নিবেদিতা শর্মা বিষয়টি শুনে বলেন, ‘‘সাত নম্বর বরোয় নিকাশির কাজ চলছে। সেই কাজ মিটলেই হয়তো অনেকটা সুরাহা হবে। আমরাও প্রতিদিন পাঁক পরিষ্কারের কাজ করি। মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ওই জায়গার খোলা নর্দমা। চামড়ার কারখানা পুরোপুরি না সরানো পর্যন্ত সমস্যা মিটছে না।’’

পুরসভা সূত্রের খবর, ‘কলকাতা এনভায়রনমেন্ট ইমপ্রুভমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম’-এর অধীনে শহরের বিভিন্ন জায়গায় নিকাশির কাজ চলছে। কাজ হচ্ছে ওই অংশেও। পুরসভার মেয়র পারিষদ (নিকাশি) তারক সিংহ বলেন, ‘‘নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি করে ওই অংশের খোলা নর্দমা বন্ধ করার পরিকল্পনা আছে। তার উপর দিয়ে রাস্তা তৈরি করে দেওয়ারও চিন্তাভাবনা চলছে। কিন্তু কাজ আটকে যাচ্ছে চামড়ার কারখানার জন্য। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, এই ধরনের চামড়ার কারখানা সম্পূর্ণ বেআইনি। এই কারখানাগুলি যাতে নিকাশি ব্যবস্থার কোনও সুবিধা না পায়, সে দিকে লক্ষ রেখে কাজ করতে হচ্ছে। কিন্তু কাজ করতে গেলেই কারখানার বাইরের কিছু বস্তি থেকে বাধা আসছে।’’ তা হলে কবে কাজ শেষ হয়ে জমা জলের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি ঘটবে? উত্তর মেলেনি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Water Logging

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy